
শেষ আপডেট: 25 October 2023 20:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াঙের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) ভারতীয় এবং চিনা সেনার সংঘর্ষ নতুন নয়। তাওয়াং সীমান্তে আগেও লাল ফৌজ আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছে। ২০২০ সালের গালওয়ান-কাণ্ডের পরে তাওয়াং সীমান্তেও নজরদারি বাড়িয়েছিল ভারত। গালওয়ানের মতোই তাওয়াঙেও দ্বিপাক্ষিক সেনাস্তরের ‘রুল অব এনগেজমেন্ট’ মেনে চলা হয়। সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, তাওয়াং সেক্টরে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র, সাঁজোয়া গাড়ি মোতায়েন করছে চিন। সেখানে সামরিক পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হচ্ছে।
উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, তাওয়াং সেক্টরে চিন তাদের কমবাইন্ড আর্মস ব্রিগেড (CAB) মোতায়েন করছে। ঝুঁকি এড়াতে সীমান্তবর্তী ডোকলাম, নাথুলাতেও বাড়তি সতর্ক ভারত। সতর্কতা চিন সীমান্তের হা (ভুটানের অন্তর্গত) সংলগ্ন বিন্দুতেও। চিনা আগ্রাসনের জায়গা থেকে স্ট্র্যাটেজিক কারণেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে উত্তরবঙ্গ অতিরিক্ত স্পর্শকাতর। ওই এলাকার মধ্যেই রয়েছে ডোকলাম এবং নাথুলা সীমান্ত। অরুণাচলে চিনের আগ্রাসনের চেষ্টা পরিকল্পিত বলেই মনে করছে ভারত। ফের একই ছকে আক্রমণ আসতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। তাই চিনা আগ্রাসন মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গ সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সামরিক সাজসজ্জার আরও বাড়ানো দরকার বলেও মনে করা হচ্ছে।
২০২০ সালের ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে অনুপ্রবেশকারী চিনা ফৌজকে ভারতীয় বাহিনী বাধা দেওয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সংঘর্ষে মোট ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। আমেরিকা-সহ বিভিন্ন পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট চিনা সেনার নিহতের সংখ্যা ছিল আরও বেশি। যদিও তা প্রকাশ্যে শিকার করেনি বেজিং। গালওয়ান-কাণ্ডের পরেও চিনাবাহিনীর এলএসি লঙ্ঘনের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারিতে উত্তর সিকিমের নাকু লায় অনুপ্রবেশ করতে গিয়ে ভারতীয় সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে চিনা ফৌজ।
১৯৬২ সাল ভারত-চিন যুদ্ধের সময় লাদাখ ঘেঁষা আকসাই চিন দখল করেছিল চিনের বাহিনী। এরপরে আরও কয়েকধাপ এগিয়ে প্যাঙ্গং লেকের উত্তরে পাহাড়ি এলাকা, গালওয়ান উপত্যকা, দেপসাং, গোগরা, হট স্প্রিং থেকে একেবারে দৌলত বাগ ওল্ডি পর্যন্ত এলাকাকে নিজেদের বলে দাবি করা শুরু করে চিন। গালওয়ানে সংঘর্ষের পর থেকে ফের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় মরিয়া তারা। এখন তাদের নজর তাওয়াং সেক্টর।