গোয়েন্দাদের মতে, সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয়টি হল ওই ঘাঁটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ক্ষেত্র। সেগুলি নাকি এমনভাবে তৈরি, যাতে ছাদ সরিয়ে ট্রান্সপোর্টার ইরেক্টর লঞ্চার (TEL) গাড়ি দিয়ে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা যায়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 October 2025 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির জেরে ভারত-চিন সম্পর্ক (India China Relation) আগের থেকে ভাল জায়গায় গেছে। কিন্তু বেজিং সরকারের মতিগতি বোঝার উপায় নেই। কারণ লাদাখ সীমান্তে (Ladakh Border) ফের চিনা-কার্যকলাপ নিয়ে সন্দেহ জন্মেছে।
প্যাংগং হ্রদের পূর্ব তীরে, ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে, দ্রুতগতিতে তৈরি হচ্ছে চিনের এক নতুন সামরিক ঘাঁটি (Air Defence Site)। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়েছে, সেখানে গড়ে উঠছে এক বিশাল বিমান প্রতিরক্ষা কমপ্লেক্স - যেখানে রয়েছে কমান্ড সেন্টার, ব্যারাক, যানবাহন রাখার শেড, অস্ত্রাগার এবং রাডার ঘাঁটি।
গোয়েন্দাদের মতে, সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয়টি হল ওই ঘাঁটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ক্ষেত্র। সেগুলি নাকি এমনভাবে তৈরি, যাতে ছাদ সরিয়ে ট্রান্সপোর্টার ইরেক্টর লঞ্চার (TEL) গাড়ি দিয়ে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা যায়।
মার্কিন গবেষণা সংস্থা অলসোর্স অ্যানাসিলিস (ASA) জানিয়েছে, এই সুরক্ষিত কাঠামোগুলি সম্ভবত চিনের দূরপাল্লার HQ-9 সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (SAM) সিস্টেম রাখার জন্যই তৈরি হচ্ছে। এই HQ-9 সিস্টেম চিনের অন্যতম প্রধান বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র, যা ২০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে টার্গেট ধ্বংস করতে সক্ষম।
ASA-র গবেষকরা প্রথম এই কাঠামোর নকশা শনাক্ত করেন। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, এমনই একটি প্রতিরূপ ঘাঁটি তৈরি হচ্ছে গার কাউন্টিতে, যা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC)-এর মাত্র ৬৫ কিলোমিটার দূরে, ভারতের সম্প্রতি আধুনিকীকৃত নিয়োমা বিমানঘাঁটির ঠিক বিপরীতে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, স্যাটেলাইট ছবিতে (Satellite Images) একই দৃশ্য ধরা পড়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বরের ছবিতে দেখা যায়, গার কাউন্টির একাধিক উৎক্ষেপণ শেডের ছাদ আংশিক খোলা, যার নীচে রয়েছে লঞ্চার।
ভারত-তিব্বত সীমান্তে এমন ঢাকনাযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এই প্রথম ধরা পড়ল। তবে দক্ষিণ চিন সাগরের বিতর্কিত দ্বীপগুলিতে এর আগে এমন গোপন সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে বেজিং।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্যাংগং হ্রদের কাছে এই দ্বিতীয় ঘাঁটির নির্মাণ কাজ প্রথম নজরে আসে জুলাইয়ের শেষদিকে। তবে তখনও জানা যায়নি যে ওই কাঠামোগুলি আসলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য তৈরি হচ্ছে কিনা।