ইজরায়েলি হামলায় ক্ষতবিক্ষত বেইরুট। ধ্বংসস্তূপের উপর বসে চেলো হাতে তুলে নেন মাহদি সাহেলি। বাজাতে শুরু করেন, সুরের মূর্ছনায় ভেসে যায় চারদিক। তাঁর সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, চারপাশে ধ্বংসাবশেষ আর ভাঙাচোরা কাঠামোর মধ্যে বসে তিনি সুর তুলছেন - নিস্তব্ধ বাতাসে সেই অনুরণন ছড়িয়ে পড়ছে।

শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া ছবি
শেষ আপডেট: 19 March 2026 18:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধ্বংসস্তূপে ঢেকে যাওয়া এক শহর, চারদিকে ভাঙা কংক্রিট, ছড়িয়ে থাকা লোহার টুকরো - এই ভয়াবহতার মধ্যেই উঠে এল এক অন্য ছবি। যুদ্ধবিধ্বস্ত বেইরুটে (Beirut) ধ্বংসস্তূপের মাঝখানে বসে চেলো বাজাচ্ছেন লেবাননের শিল্পী মাহদি সাহেলি (Beirut War Cello Performance viral)।
ইজরায়েলি হামলায় ক্ষতবিক্ষত বেইরুট এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে (Lebanon Israeli Strikes)। রাস্তাঘাট জুড়ে ধ্বংসাবশেষ, বহুতল ভেঙে পড়েছে, আর হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। এই পরিস্থিতিতে গোটা শহর এখনও আতঙ্ক ও শোকের অভিঘাত সামলে ওঠার চেষ্টা করছে।
এই ভয়ংকর ধ্বংসলীলার মধ্যেই, ভেঙে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের উপর বসে চেলো হাতে তুলে নেন মাহদি সাহেলি। বাজাতে শুরু করেন, সুরের মূর্ছনায় ভেসে যায় চারদিক। তাঁর সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, চারপাশে ধ্বংসাবশেষ আর ভাঙাচোরা কাঠামোর মধ্যে বসে তিনি সুর তুলছেন - নিস্তব্ধ বাতাসে সেই অনুরণন ছড়িয়ে পড়ছে।
ইজরায়েলের ধারাবাহিক গুরুতর হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন অনেকে, আর অসংখ্য মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। বহু বহুতল ভেঙে পড়েছে, ফাঁকা হয়ে গেছে রাস্তাঘাট - চারদিকে শুধু ধ্বংসের চিহ্ন।
তবু এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই সাহেলির চেলো সুর যেন মানবতার এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে। অন্ধকারতম সময়ে যখন প্রতিটা মুহূর্ত দুঃসহনীয়, দূরে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা আশার আলো দেখাতে পারে একমাত্র শিল্প-ই, আর সেই বার্তাই যেন উঠে এসেছে তাঁর সুরে।
এরপর আরও একটি ভিডিও শেয়ার করেন তিনি, যেখানে দেখা যায় ভাঙাচোরা রাস্তার মাঝখানে, চারপাশে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই আবার চেলো বাজাচ্ছেন তিনি।
ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “যুদ্ধ আর ধ্বংসের মাঝেও সঙ্গীত আশার সুর তোলে। যন্ত্রণা আর দীর্ঘশ্বাসকে রূপ দেয় এমন এক সুরে, যা আত্মার দৃঢ়তাকে তুলে ধরে।”
এই ভিডিও ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বহু ব্যবহারকারী তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন। কেউ বলেছেন, এই পরিবেশন গভীরভাবে নাড়া দেওয়ার মতো, যেখানে একসঙ্গে ধরা পড়েছে শোক আর শক্তি। আবার কেউ লিখেছেন, এই ভিডিও মানব আত্মার শক্তির এক অসাধারণ উদাহরণ, যেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও শিল্প আশা জোগাতে পারে।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “এই ধ্বংসের মাঝেও সঙ্গীতের সৌন্দর্য, অনবদ্য। নিজের খেয়াল রাখবেন।” আরেকজন লেখেন, “আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে।” তৃতীয় এক ব্যবহারকারীর কথায়, “আমার জীবনে দেখা বা শোনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গীতের মুহূর্ত।” আরও একজন লেখেন, “বিশ্বের জন্য মন খারাপ হয়, কিন্তু আপনার সঙ্গীত মনে করিয়ে দেয়, মানবতার মধ্যে এখনও ভাল কিছু বেঁচে আছে।”
এদিকে, রবিবার রাতেই আবার নতুন করে বেইরুটের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইজরায়েল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইজরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা বর্তমানে বেইরুটে হিজবুল্লাহর ‘সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো’ লক্ষ্য করে আঘাত হানছে।
রবিবার সকালে দক্ষিণ বেইরুটে উপস্থিত এক সংবাদসংস্থার চিত্রসাংবাদিক দেখেছেন, ফাঁকা রাস্তা জুড়ে ধ্বংসাবশেষ, ভেঙে পড়া ভবন, আর সাম্প্রতিক হামলার ধোঁয়া এখনও আকাশে ভাসছে।
উল্লেখ্য, ২ মার্চ থেকে এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে লেবানন। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ, মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে, ইজরায়েলের উপর হামলা চালায়। তারপর থেকেই সংঘাত ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ধ্বংস আর যুদ্ধের এই অন্ধকার সময়েও মাহদি সাহেলির চেলোর সুর যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে, মানবতা এখনও বেঁচে আছে, আর অন্ধকারতম দিনেও আশার পিদিম নিয়ে আলো দেখায় শিল্পের জাদুকাঠি।