
শেষ আপডেট: 5 February 2024 19:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের নোয়াখালির একটি আদালত সোমবার ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। একই মামলায় আরও ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একটি গণধর্ষণের মামলায় এই সাজা দিয়েছে আদলত।
ঘটনাটি পাঁচ বছর আগের। ২০১৮- র ৩১ ডিসেম্বর রাতে নোয়াখালির সুবর্ণচর উপজেলায় এক গৃহবধূকে রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী ধর্ষণ করে। সেদিনই বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণ করা হয়।
মহিলার স্বামী দুষ্কৃতীদের নাম-ঠিকানা সহ থানায় অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী আওয়ামী লিগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা চিহ্নে ভোট না দেওয়ায় দুষ্কৃতীরা তাঁকে নিশানা করে। ভোটদানের সময় দুষ্কৃতীরা সেখানে উপস্থিত ছিল।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ওই নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তুমুল হইচই হয় সেবার। তাতে নয়া মাত্রা যোগ করে নোয়াখালির ধর্ষণের ঘটনা। বিদেশি সংবাদ মাধ্যমও ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে প্রচার করে। গৃহবধূ অভিযোগ করেন, ধর্ষণকারীরা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের সময় থেকেই তাঁকে ভয় দেখানো শুরু করে। তখনও তাঁকে নৌকা চিহ্নে ভোট দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল।
পাঁচ বছর আগের ওই ঘটনায় গোড়া থেকেই তদন্তে পুলিশ সক্রিয় ছিল। মূল অভিযুক্ত রুহুল আমিন সুবর্ণচর উপজেলার আওয়ামী লিগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। দল তাঁকে বহিষ্কার করে।
সোমবার নোয়াখালির নারী ও শিশু আদালতের বিচারক ফাতেমা ফেরদৌস অভিযুক্তদের ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ছয় জনকে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দিয়ে বিচারক মন্তব্য করেন এই জাতীয় অপরাধ আসলে কোনও ব্যক্তি বিশেষ শুধু নয় গোটা জাতি আক্রান্ত হয়। এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর হতেই হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার পর বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করা হয়।