
পাক সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনির
শেষ আপডেট: 26 April 2025 20:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগামের ঘটনার পর থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফুঁসছে নয়াদিল্লি। এ ব্যাপারে দল নির্বিশেষে গোটা দেশে কোনও মতান্তর নেই। সবাই মনে করছেন, এবার উচিত সবক দিতে হবে ইসলামাবাদকে। ঠিক সেই পরিস্থিতির মধ্যে ফের একবার দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রসঙ্গ তুলে উত্তেজনা আরও বাড়ালেন পাক সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনির।
শনিবার খাইবার-পাখতুনখোয়ার কাকুলে পাকিস্তান মিলিটারি অ্যাকাডেমির পাসিং আউট প্যারেডে ভাষণ দিতে গিয়ে মুনির বলেন, "দ্বি-জাতি তত্ত্বের মূল ভিত্তি ছিল এই বিশ্বাস— মুসলিম এবং হিন্দু দুটি আলাদা জাতি, যারা ধর্ম, রীতি-নীতি, চিন্তাধারা এবং আকাঙ্ক্ষার দিক থেকে একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।"
অনেকের মতে, পাকিস্তানের ঘরোয়া রাজনীতি ও পরিবেশকে গরম রাখতে মুনির ইচ্ছাকৃত ভাবে এসব কথা বলেছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই হামলায় জড়িত ছিল পাকিস্তানপ্রশিক্ষিত জঙ্গিরা। হামলার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিকভাবে কড়া অবস্থান নিয়েছে। সিন্ধু জলচুক্তি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছেছে।
এহেন আবহে কাকুলে বক্তৃতায় আসিম মুনির বলেন, "পাকিস্তান জন্ম নিয়েছিল অগণিত ত্যাগের মাধ্যমে। আমাদের পূর্বপুরুষরা যে আত্মবলিদান দিয়েছেন, তা কখনও বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। পাকিস্তানের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের।"
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইসলামাবাদে প্রবাসী পাকিস্তানিদের এক অনুষ্ঠানে মুনির বলেছিলেন, "আপনাদের সন্তানদের জানাতে হবে, কেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা বিশ্বাস করেছিলেন যে মুসলিমরা হিন্দুদের থেকে প্রতিটি দিক থেকেই আলাদা। ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি, চিন্তাভাবনা ও জীবনদর্শন— সবেতেই ভিন্নতা ছিল।"
কাশ্মীর ইস্যুতে আগের মতোই পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট করে মুনির বলেন, "কাশ্মীর ছিল, আছে এবং থাকবে পাকিস্তানের 'জগুলার ভেইন'। আমরা আমাদের কাশ্মীরি ভাইদের সংগ্রাম ভুলব না, তাঁদের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।"
ভারত অবশ্য কড়া ভাষায় জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের ভবিষ্যত নিয়ে কোনও বিতর্কের অবকাশ নেই।
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয় এবং রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে। সেই সময় থেকেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমাগত খারাপ হয়েছে।
পহেলগামে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদী হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।