
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 December 2024 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিনটন ২০১১ সালে পাকিস্তান সম্পর্কে একবার একটা কথা বলেছিলেন। সেটা হল- 'পুরনো একটা কথা চালু আছে। প্রতিবেশীকে ছোবল মারবে বলে কেউ বাড়ির পিছনের ঝোপঝাড়ে বিষাক্ত সাপ পুষে রাখতে পারে না। ঘটনাচক্রে সেই সাপই একদিন মালিককেই ছোবল মেরে দেবে।' পাকিস্তানের জঙ্গি মদত ও আশ্রয় নিয়ে এই মন্তব্য করেছিলেন হিলারি। এখন পাকিস্তানের বদলে সেই জায়গায় আফগানিস্তান নামটি বসালেই হবে। কারণ, পাকিস্তানের কাছ থেকে অর্থ, রসদ, খাদ্য, বাণিজ্য, আশ্রয়- সব ধরনের সাহায্য পাওয়া তালিবানই এখন ইসলামাবাদের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের সারজলে বড় হওয়া তালিবান তাদেরই বুকের উপর বসে দাড়ি উপড়ানোর চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি আফগানিস্তানের জঙ্গি খতম করতে পাকিস্তানের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের বদলায় প্রায় ১৫,০০০ তালিবান জঙ্গি সীমান্তের দিকে যুদ্ধ তৎপরতায় এগোচ্ছে বলে খবরে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানের বোমারু বিমান হানার তীব্র নিন্দা বুধবারই করেছিল তালিবান প্রশাসন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছিল, তারা বদলা নেবে, ছেড়ে কথা বলবে না। এই সেই আফগানিস্তানের তালিবান শক্তি, যাদের ক্ষমতায় ফেরাকে একদা প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আল্লার দোয়া বলে কবুল করেছিলেন, তারাই কী করে ইসলামাবাদের রক্তে হাত রাঙানোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে ধেয়ে আসছে?
আফগানিস্তানের তালিবান পাকিস্তানেরই হাতেই দুধেভাতে বড় হয়েছে এবং দীর্ঘ বেশ কিছু বছর ধরে তাদের সেনাবাহিনী প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতা পেয়ে এসেছিল। আজ হঠাৎ কী হল যে, তারাই ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের দৈত্যের মতো ঘুরে দাঁড়াল! পাকিস্তান এখন তালিবানের ঘরে-বাইরে জোড়া ফলার মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে পাক-আফগান সীমান্তের কাছে ফুলেফেঁপে বড় হয়ে ওঠা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)। অন্যদিকে, সীমান্তের ঠিক ওপারেই থাকা আফগানিস্তান শাসন করা তালিবান কর্তৃপক্ষ।
পাক বোমারু বিমান হানার পরেই আফগানিস্তানের বিদেশ দফতর কাবুলে কর্মরত পাকিস্তানি দূতকে ডেকে পাঠায় এবং হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সেই সঙ্গেই এও জানা গিয়েছে যে, ১৫,০০০ তালিবান যোদ্ধা কাবুল, কান্দাহার ও হেরাট থেকে বীরদর্পে রওনা হয়েছে। তারা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মির আলি সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসছে। ফলে অবস্থা ধীরে ধীরে সঙ্গীন হয়ে উঠছে শেহবাজ শরিফ সরকারের পক্ষে। কারণ পাক তালিবান ও আফগান তালিবান পৃথক সংগঠন হলেও একই নীতি-আদর্শের গোষ্ঠী।
পাক তালিবানের লক্ষ্যও হল আফগানিস্তানের মতো পাকিস্তানকে ইসলামি আমিরশাহিতে পরিণত করা। আফগান তালিবানের সঙ্গে পাক সরকারের সম্পর্ক চটার মূল কারণ হল, ইসলামাবাদের কর্তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি হামলার জন্য কাবুলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। আফগানিস্তানের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে বাণিজ্য অবরোধ জারি করেছে। সর্বোপরি পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা ৫ লক্ষ অবৈধভাবে বসবাসকারী আফগান উদ্বাস্তুকে বিতাড়িত করেছে। ভিসা নীতিতেও কঠোর ভূমিকা নিয়েছে শেহবাজ শরিফ সরকার। পাক তালিবানের বিরুদ্ধে প্রায় রোজই অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি প্রচণ্ড বিগড়েছে।