সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (khamenei iran) এবং ইরান সরকারের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের এই নতুন দফার বিক্ষোভ ঘিরে চরম অস্বস্তিতে প্রশাসন।

ইরানে ফের খামেনেই-বিরোধী আন্দোলন
শেষ আপডেট: 22 February 2026 17:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দমানো যায়নি আগ্নেয়গিরিকে, তা কেবল কিছুদিনের জন্য সুপ্ত ছিল। এক মাস কাটতে না কাটতেই ফের বিদ্রোহের লেলিহান শিখা গ্রাস করছে ইরানকে (Iran Protest)। শনিবার থেকে তেহরানের রাজপথ আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অলিন্দে ফের প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একটাই শব্দ— ‘আজাদি’ (Azadi)। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (khamenei iran) এবং ইরান সরকারের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের এই নতুন দফার বিক্ষোভ ঘিরে চরম অস্বস্তিতে প্রশাসন (Anti Khamenei Protest)।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বিদ্রোহের সূত্রপাত
শনিবার ইরানে নতুন সেমেস্টার শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই অশান্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলি। তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলাকালীন খামেনেইপন্থী একদল যুবকের সঙ্গে বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। বিক্ষোভের আঁচ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহিদ বেহস্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমির কবির ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে। শুধু তেহরান নয়, উত্তর-পূর্ব ইরানের বড় শহর মাশাদেও নিজের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের মুখে একটাই স্লোগান— “স্বৈরাচারের মৃত্যু হোক”, “স্বাধীনতা চাই”।
সীমানা ছাড়িয়ে বিক্ষোভ
খামেনেই-বিরোধী এই স্বর কেবল ইরানের ভৌগোলিক সীমানায় আটকে নেই। শনিবার স্পেনের বার্সেলোনা শহরেও প্রবাসী ইরানিরা বড়সড় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। গত জানুয়ারিতে প্রশাসনের প্রবল দমনপীড়নে ডিসেম্বরের গণবিক্ষোভ কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল ঠিকই, কিন্তু পড়ুয়াদের এই নতুন উত্থান প্রমাণ করে দিল যে অসন্তোষের ছাইয়ের নীচে আগুন এখনও ধিকধিক করে জ্বলছে।
মৃত্যু মিছিলের বিতর্ক
গত ডিসেম্বরে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে যে বিক্ষোভের শুরু হয়েছিল, তা অচিরেই রাজনৈতিক রূপ নেয়। অভিযোগ, সেই গণবিক্ষোভ থামাতে নির্মম পথে হাঁটে খামেনেই প্রশাসন। নিহতের সংখ্যা নিয়ে অবশ্য তথ্যের ব্যাপক গরমিল রয়েছে। ইরান সরকারের দাবি অনুযায়ী, গত মাসের শেষ পর্যন্ত ৩,১০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও আমেরিকার এক মানবাধিকার গোষ্ঠীর দাবি, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬,১৫৯। আরও প্রায় ১৭ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রবিবারও ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে বড়সড় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন কতজনকে আটক বা গ্রেফতার করেছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যেভাবে দেশের তরুণ সমাজ বারবার শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পথে নামছে, তাতে স্পষ্ট যে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।