
আমান্ডা ও গ্রাহাম নিল্ড
শেষ আপডেট: 12 December 2024 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লটারির টিকিট কেটে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার গল্প একেবারেই নতুন কিছু নয়। হামেশাই জ্যাকপট পেয়ে জিরো থেকে হিরো হয়ে যান অনেকেই। কিন্তু এমন শুনেছেন কী? কোটি কোটি টাকা পেলেও সাধারণভাবে জীবন কাটান এমন মানুষের সংখ্যা হাতেগোনা। সেই তালিকায় উপরের সারিতে নাম রয়েছে একজন ব্রিটিশ দম্পতির। তাঁরা হলেন, আমান্ডা ও গ্রাহাম নিল্ড।
২০১৩ সালে ৭০ কোটির বেশি টাকার লটারি জিতেছিলেন দম্পতি। হাতে পয়সা পেয়ে জীবনযাত্রার কিছুটা পরিবর্তন এলেও আকাশছোঁয়া কোনও প্রত্যাশা তাঁদের নেই। সে কারণে এবার নিজেদের পাঁচ বেডরুমের বাড়ি ছোট করতে উঠেপড়ে লেগেছেন তাঁরা।
কেন এমন সিদ্ধান্ত
দম্পতির মতে, হাতে আচমকা এত টাকা এলেও আমরা নিজেদের অতীত ভুলে যাইনি। আমাদের জীবনযাত্রায় এতটাও বদল আসেনি যে আমরা রাতারাতি কোটিপতি হলেও আমাদের মানসিকতা বলে যাবে। ৫৯ বছর বয়সি আমান্ডা জানান, ‘এটি খুব অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। আমরা লটারি জেতার আগে, আমি বরাবরই গ্রাহামকে বলতাম আমরা অনেক টাকার মালিক হলে প্যারিসে গিয়ে গাড়ি, বাড়ি কিনব। ঠিক তার পরের দিন যদি আমরা লটারি জিতি। আমাদের গল্পটা একটু হলেও আলাদা। আমরা যখন টাকা হাতে পাই তখন আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত বদলাই। আমাদের তখন সেগুলি কেনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যায়।’
জানা গেছে, দু’জনেই আগে কার্পেট কারখানার কর্মী ছিলেন। জ্যাকপট পাওয়ার আগে দম্পতির জীবনে নিত্যসঙ্গী ছিল অভাব-অনটন। আমান্ডার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য সবকিছু বিক্রিও করেছিলেন দম্পতি। এদিকে লটারি পাওয়ার পর তাঁদের অবসরের জন্য একটি বাংলো তৈরির ভাবনা ছিলই। তবে এসব না করে বাবা-মার সঙ্গে থাকার কথা জানিয়েছন তাঁরা।
শুধু এখানেই শেষ নয়। কোটিপতি হওয়ার পরেও নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানেও একেবারে জাঁকজমক করেননি দম্পতি। জানা গেছে, স্থানীয় রেজিস্ট্রি অফিসে একটি সাধারণ অনুষ্ঠান করে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। সম্পত্তির পাহাড় থাকলেও তাঁদের ব্যায় তুলনামূলকভাবে অনেকটাই পরিমিত।
আমান্ডা জানান, এতে তাঁদের কোনও সমস্যা নেই। প্রতিটি জিনিসই তাঁরা দরাদরি করে কেনেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি ডিজাইনার জামাকাপড়ের জন্য হাজার হাজার খরচ করি না। খুব বেশি হলে জাম্পার কিনতে খরচ করি ৩০ পাউন্ড। কিন্তু সেটা ৩০০ পাউন্ড হলে যে কখনওই তিনি সেটা নিতেন না।
যদিও আমান্ডা স্বীকার করেছেন যে তাঁদের জীবনে বিলাসিতা জায়গা নেই। দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলেও তাঁদের জীবনধারায় এখনও বদল আসেনি। সে কারণেই পাঁচ নয়, তিন বেডরুমের একটি বাড়িতে চলে যেতে চাইছেন তাঁরা। জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই বড় তাঁদের বাড়ি। সে কারণেই এমন ভাবনা।
লটারি উপদেষ্টা অ্যান্ডি কার্টার বলেন, বিজয়ীদের মধ্যে এমন প্রবণতা দেখা গেলেও ওয়েকফিল্ডের দম্পতি নিজেদের স্বাভাবিক জীবনকে ধরে রাখতে চান। এত টাকা থাকলেও সাধারণ জীবনযাপনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একদিকে যেমন সমাদৃত হয়েছেন তেমনই বিতর্কের মুখেও পড়তে হয়েছে ব্রিটিশ দম্পতিকে।