Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ ৩৩ বছর পর মুখোমুখি ইজরায়েল-লেবানন! ওয়াশিংটনের বৈঠকে কি মিলবে যুদ্ধবিরতির সমাধান?ইউরোপের আদালতে ‘গোপনীয়তা’ কবচ পেলেন নীরব মোদী, জটিল হচ্ছে পলাতক ব্যবসায়ীর প্রত্যর্পণ-লড়াইইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরও

হামাসের এই নেতার জীবনের ২৪টা বসন্ত কেটেছে ইজরায়েলের জেলে, এবারের হামলার মাস্টারমাইন্ড তিনি

হামাসের এই নেতার জীবনের ২৪টা বসন্ত কেটেছে ইজরায়েলের জেলে, এবারের হামলার মাস্টারমাইন্ড তিনি

শেষ আপডেট: 16 October 2023 16:14

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭ অক্টোবরের পর থেকেই লোকের মুখে মুখে ঘুরছে একটা নাম- ইয়াহিয়া সিনওয়ার। সেদিন ইজরায়েলের উপর গাজা যে রকেট হামলা চালিয়েছিল, তার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন নাকি এই ইয়াহিয়াই। ইজরায়েল প্রশাসনের তরফে তাঁকে 'শয়তানের মুখ' বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাঁর রণকৌশলের জেরেই নাকি ইজরায়েলের অন্তত ১৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। 

ইয়াহিয়া যতই এবারের হামলায় সফল হন না কেন, সেই সাফল্য সহজে ধরা দেয়নি। বরং গাজার বাসিন্দা এই হামাস সেনার জীবনের ২৪টা বছর  কেটেছে ইজরায়েলের জেলে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে ১৯৬২ সালে জন্ম এবং বড় হওয়া ইয়াহিয়ার। খান ইউনিস তখন মিশরের দখলে। ইজরায়েলের সেনারা তাঁকে ওই শহরের নাম অনুযায়ী 'খান ইউনিসের কসাই' বলে উল্লেখ করে থাকে। ইয়াহিয়ার পরিবার আগে আশকেলনে বসতি স্থাপন করেছিল, যেটি এখন দক্ষিণ ইজরায়েলের অংশ। তবে ১৯৪৮ সালে ইজরায়েল আশকেলনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তাঁরা সপরিবারে গাজায় চলে যান। ইয়াহিয়া গাজার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে আরবি স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। 

১৯৮২ সালে নাশকতামূলক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইজরায়েল সরকারের হাতে প্রথমবার গ্রেফতার হন ইয়াহিয়া। পরে প্যালেস্টাইন আন্দোলনের সময় ইজরায়েলের গুপ্তচরদের নিকেশ করার জন্য সালাহ শেহাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি ইউনিট তৈরি করেন। তবে ২০০২ সালে ইজরায়েলের সেনার হাতে মৃত্যু হয় সালাহ শেহাদের। তারপর থেকে হামাসের মিলিটারি বাহিনীর নেতৃত্ব নিজের হাতে তুলে নেন ইয়াহিয়া। 

১৯৮৭ সালে হামাস বাহিনী তৈরি হওয়ার পর থেকেই ইয়াহিয়া-সালাহর তৈরি ইউনিট হামাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। ১৯৮৮ সালে দুজন ইজরায়েলি সেনা এবং ইজরায়েলের গুপ্তচর সন্দেহে ৪ জন প্যালেস্টাইনের নাগরিককে হত্যা করার পর ফের গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। 'ঘৃণ্য' সেই অপরাধের জন্য ইজরায়েল তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। 

২০০৬ সালে হামাসের সামরিক শাখা ইজ আদ-দিন আল-কাসাম ব্রিগেডের একটি দল ইজরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশের জন্য একটি টানেল ব্যবহার করে এবং একটি সেনাঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। তারা ২ জন ইজরায়েলি সেনাকে হত্যা করে, এবং গিলাদ শালিত নামে একজন সেনাকে বন্দি করে। শালিত পাঁচ বছর বন্দি ছিলেন। তিনি ২০১১ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তিতে মুক্তি পান। শালিতের মুক্তির জন্য ইজরায়েল বেশ কয়েকজন প্যালেস্টাইন এবং ইসরায়েলি আরব বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যেই একজন ছিলেন ইয়াহিয়া। তিনি ২২ বছর কারাগারে কাটিয়েছিলেন।

এরপরেই হামাসের সামরিক বাহিনীতে রকেটের গতিতে উত্থান হয় ইয়াহিয়ার। ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি 'ওয়ান্টেড' আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীর তালিকায় নাম ওঠে তাঁর। ২০১৭ সালে হামাসের মিলিটারি বিভাগের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন ইয়াহিয়া। ইসমাইল হামিয়ার পর এই মুহূর্তে হামাসের ২ নম্বর নেতা তিনিই। ইসমাইল হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান। তবে হানিয়া স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর খাতায় কলমে না হলেও ইয়াহিয়াই এখন হামাসের প্রধান নেতা। ইয়াহিয়া ইজরায়েলের বিরুদ্ধে একাধিক সশস্ত্র হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে কোনও রকম আপসের পক্ষপাতী নন। তিনি বরাবর আগুনে বক্তৃতার জন্য বিখ্যাত, এবং হামাস বাহিনীর সদস্যদের কাছে সম্পূর্ণ আনুগত্য আশা করেন। এমনকী, নিজের দলের কারও কোনও কার্যকলাপে সন্দেহ হলে তার উপরেও নজর রাখতে ছাড়েন না ইয়াহিয়া। 

তার একটি উদাহরণ হল হামাস কমান্ডার মাহমুদ ইশতিভির মৃত্যু। ইশতিভিকে ২০১৫ সালে তহবিল তছরুপের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। পরের বছর তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, এবং পরে "নৈতিক অপরাধের" অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ইশতিভি একজন সমকামী ছিলেন এবং ইয়াহিয়া আশঙ্কা করেছিলেন, তা সামনে এলে হামাসের অভিযান ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। 

গত সপ্তাহে তাদের দেশে রকেট হামলার পিছনে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ইয়াহিয়াকেই দায়ী করেছে ইজরায়েল। সেখানকার প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিচার্ড হেচট দাবি করেছেন, ইজরায়েল কিছুতেই ইয়াহিয়াকে ছেড়ে দেবে না। 'এই লোকটি তো বটেই, ওঁর পুরো দল আমাদের নজরে রয়েছে। আমরা ওঁর কাছ পর্যন্ত পৌঁছাবই,' জানিয়েছেন তিনি। 


```