চিন দুই প্রতিবেশী দেশকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বেজিংয়ের বক্তব্য - পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দু’জনেই আমাদের বন্ধু এবং পরস্পরের প্রতিবেশী।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 October 2025 23:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তানের (Afghanistan) সঙ্গে শান্তি আলোচনার (Peace Talk) উদ্যোগে বড় ধাক্কা খেল ইসলামাবাদ (Islamabad)। কাবুল (Kabul) সরকার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ, আইএসআই প্রধান আসিম মালিক এবং দুই পাক সেনা জেনারেলের ভিসা বাতিল (Visa Cancel) করেছে।
স্থানীয় আফগান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত তিন দিনে তিনবার এই ভিসা আবেদন খারিজ করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ। ফলে পাকিস্তানের শান্তি বার্তা পৌঁছনোর (Truce Bid) উদ্যোগ কার্যত আটকে গেল সীমান্তেই।
এদিকে পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ইজরায়েল যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি শুনেছি পাকিস্তান (Pakistan) ও আফগানিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। তাই ফিরেই আমি বিষয়টি নিয়ে কাজ করব। আমি শান্তি স্থাপনে দক্ষ, আর সংঘাত মেটানো আমার কাছে গর্বের ব্যাপার।”
অন্যদিকে চিন (China) দুই প্রতিবেশী দেশকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বেজিংয়ের বক্তব্য - পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দু’জনেই আমাদের বন্ধু এবং পরস্পরের প্রতিবেশী। তাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয়। চিন আরও বলেছে, উভয় দেশকে 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়তে ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে হাঁটতে হবে।'
তবে সীমান্তে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত। রবিবার পাকিস্তান সেনা জানায়, আফগান সীমান্তে রাতভর সংঘর্ষে অন্তত ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা ও ২০০-রও বেশি তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। অপরদিকে আফগান তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, তাঁদের হামলায় ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনা মারা গেছেন এবং আরও ৩০ জন আহত।
উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ ও কাবুল - দু’য়ের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে চিন। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র মতো সংগঠন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে বিরোধ চলছে, তা মেটাতে চিন নিয়মিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও করে আসছে।
ফলে, কাবুলের এই ভিসা প্রত্যাখ্যান কেবল কূটনৈতিক অস্বস্তিই নয়, চিন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান—এই ত্রিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপরও ছায়া ফেলতে পারে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।
এদিকে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের (Pakistan Punjab) মুরিদকে শহরে (Muridke) তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (TLP)-র বিক্ষোভ ঘিরে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি। রবিবার গভীর রাতে টিএলপি-র মিছিল থামাতে অভিযান চালায় পাঞ্জাব পুলিশ (Police)। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশের লাঠিচার্জ (Lathicharge), টিয়ার গ্যাসের (Tier Gas) গোলা আর গুলিবর্ষণে বহু বিক্ষোভকারী আহত ও নিহত হয়েছেন।
টিএলপি-র এই মিছিল মূলত ইজরায়েল-বিরোধী (Anti Israel) ও গাজা-পন্থী (Pro-Gaza) আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুরু হয়েছিল। ৯ অক্টোবর গাজায় ইজরায়েলি হামলার প্রতিবাদে তারা আন্দোলন শুরু করে। ১১ অক্টোবরের পর থেকেই বিক্ষোভ তীব্র রূপ নেয়।