
শেষ আপডেট: 17 November 2023 09:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেশি টাকা রোজগারের আশায় আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন কেরলের যুবক শ্রীজু। সেখানকার একটি তেল এবং গ্যাস শিল্প সংস্থার কন্ট্রোল রুম অপারেটরের কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনি। কেরলের বাসিন্দা হলেও সেখানেও নিজস্ব কোনও বাড়ি নেই। স্বপ্ন দেখতেন, একদিন তাঁরও বাড়ি হবে।
টিভির পর্দায়, খবরের কাগজে অনেককে লটারি কেটে জ্যাকপট জিততে দেখেছেন। স্বপ্ন দেখতেন এভাবে রাতারাতি একদিন তিনিও ধনী হবেন। সাত পাঁচ ভা্বতে ভাবতে গত শনিরার আরবের মিলিয়নস ড্রতে লটারির টিকিট কেটেছিলেন। সেই লটারির টিকিট যে এভাবে শ্রীজুর ভাগ্য বদলে দেবে তা তিনি নিজেও কল্পনাও করেননি।
শনিবারের ওই মিলিয়নস ড্রতে শ্রীজু জিতেছেন ৪৫ কোটি টাকা! নাহ্, লেখার ভুল নয়, ঠিকই পড়েছেন। ৪৫ কোটি!
সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে আনন্দ উত্তেজনায় রীতিমতো থর থর কাঁপছিলেন শ্রীজু। দু’চোখ বেয়ে উপচে পড়ছে আনন্দাশ্রু। বলছিলেন, “কাজ থেকে ফিরছিলাম। ভাড়ার গাড়িতে ছিলাম। হঠাৎ মনে হল, লটারির টিকিটটা মিলিয়ে দেখি! বিশ্বাস করুন, ফার্স্ট প্রাইজে আমার নম্বরটা দেখে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। চোখ কচলে ফের দেখলাম, না ঠিকই দেখছি। যেখান থেকে টিকিট কিনেছিলাম ফোনে তা্ঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, ওরাও জানায় আমার নম্বরই ফার্স্ট প্রাইজ জিতেছে।”
বলছিলেন, “কেরালায় নিজস্ব কোনও বাড়ি নেই। ১১ বছর ধরে আরবে কাজ করছি। বাড়ি তৈরির মতো টাকা জোগাড় করে উঠতে পারিনি বলে ভাড়া বাড়িতে থাকতে হয়। তবে এবার ঈশ্বর মুখ তুলে তাকিয়েছেন। এভাবে জীবন বদলে যাবে ভাবিনি।”
দুবাই এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সূত্রের খবর, শ্রীজু প্রথম নয়। এর আগেও আরবের দেশে এভাবে লটারি কেটে বহু ভারতীয়র জীবন বদলে গেছে। এর আগে কেরালার আর এক বাসিন্দা শরথ শিবাদাসন ১১ লক্ষ টাকা জিতেছেন। একই ড্রয়ের বিজয়ীদের মধ্যে ছিলেন মুম্বইয়ের আর একজন, মনোজ ভাবসারও। ৪২ বছর বয়সী ভাবসার, গত ১৬ বছর ধরে ইলেকট্রনিক্স টেকনিশিয়ান হিসাবে আবুধাবিতে কাজ করছেন। তিনিও সম্প্রতি র্যাফেলে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা জিতেছেন৷
কেরালার লটারির ক্ষেত্রে সরকার যেমন কর বাবদ বিজয়ীর কাছ থেকে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা কেটে নেয়, আরবের দেশে তেমন নিয়ম নেই। বিজয়ীর প্রাপ্য টাকা থেকে কা্টা হয় না কোনও কর। অর্থাৎ গৃহহীন শ্রীজু ৪৫ কোটির মালিক!