
জয় ভট্টাচার্য। আমেরিকার এনআইএইচ-এর পরবর্তী অধিকর্তা হিসাবে তাঁর নাম ঘিরে জল্পনা।
শেষ আপডেট: 25 November 2024 07:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার নতুন প্রশাসনে কাকে কোন পদে রাখা হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পও (Donald Trump) নিজের মতো করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন। এহেন পরিস্থিতিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে এরই মধ্যে একটি বাঙালি নাম নিয়ে বেশ চর্চা চলছে। সেই তিনি হলেন, জয় ভট্টাচার্য ( Dr Jay Bhattacharya)।
ডাঃ জয় ভট্টাচার্যের জন্ম কলকাতায়। তিনি প্রখ্যাত স্বাস্থ্যবিদ আবারও অর্থনীতিকও। তাঁকে আমেরিকার ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ’ (এনআইএইচ – NIH )-এর নতুন অধিকর্তা করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যে লেখালেখি শুরু হয়েছে।
৫৬ বছর বয়সি জয় ভট্টাচার্য বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমেরিকার ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকনমিক রিসার্চের সঙ্গে যুক্ত। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রি রয়েছে জয়ের। তা ছাড়া স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছেন তিনি। স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা আমেরিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আগামী ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার আগেই বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়ে চর্চা এখন তুঙ্গে। আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, জয় ভট্টাচার্যকে এনআইএইচ-এর প্রধান করার বিষয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ‘ডিপার্টমেন্ট অফ হেল্থ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের’ প্রধান রবার্ট এফ কেনেডির সঙ্গে জয়ের একটি বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে দুজনের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা অবশ্য সরকারি ভাবে বাইরে আসেনি। তবে ওয়াশিংটন পোস্ট সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এনআইএইচ-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং কেনেডি জয়ের চিন্তাধারা পছন্দ করেছেন।
এনআইএইচ আমেরিকার স্বাস্থ্য গবেষণার অন্যতম প্রধান সংস্থা। এটি বিভিন্ন গবেষণার জন্য আর্থিক সাহায্য দেয় এবং নিজ উদ্যোগেও গবেষণায় অংশ নেয়। সংস্থার পরিচালনার জন্য একজন দক্ষ এবং দূরদর্শী নেতার প্রয়োজন, এবং এই পদের জন্য জয়ের নাম উঠে আসায় প্রবাসী ভারতীয় মহলে গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।
তবে বিষয়টি একেবারে সরল নয়। জয় ভট্টাচার্য অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। ২০২০ সালে তিনি সহ-লেখক হিসেবে “গ্রেট ব্যারিংটন ডিক্লেয়ারেশন” নামে একটি খোলা চিঠিতে অংশ নেন। সেই চিঠিতে করোনা মহামারী মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয় এবং কীভাবে তা উন্নত করা যায়, তারও প্রস্তাব দেওয়া হয়। যদিও তৎকালীন এনআইএইচ প্রধান ফ্রান্সিস এস কলিনস সেই প্রস্তাব মানেননি, রিপাবলিকান দল জয়ের মতামতকে সমর্থন জানিয়েছিল।
বর্তমানে এনআইএইচ-এর প্রধান করার বিষয়ে জয় ভট্টাচার্যের নাম নিয়ে আলোচনার মধ্যেও কোনও পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে। তবে যদি জয় এই পদের জন্য নির্বাচিত হন, তা হলে এটি আমেরিকার স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন এবং প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য এক বিশেষ গৌরবের মুহূর্ত হয়ে উঠবে।