জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে, মহাজাগতিক শক্তি মানুষের চরিত্র, ভাগ্য, সম্পর্ক থেকে শুরু করে কর্মজীবন ও স্বাস্থ্যের দিকেও গভীর প্রভাব ফেলে।

ছবি - সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 19 September 2025 16:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাবিশ্বের গভীরে লুকিয়ে থাকা গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান কি সত্যিই মানুষের ভাগ্য ও জীবনের মোড় ঘোরাতে পারে? শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জ্যোতিষশাস্ত্র এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছে। এই শাস্ত্রের মতে, মহাজাগতিক শক্তি মানুষের চরিত্র, ভাগ্য, সম্পর্ক থেকে শুরু করে কর্মজীবন ও স্বাস্থ্যের দিকেও গভীর প্রভাব ফেলে। আধুনিক সমাজেও বহু মানুষ তাদের ভবিষ্যৎ ও ব্যক্তিগত জীবন বোঝার জন্য এই প্রাচীন বিদ্যার উপর নির্ভর করেন।
জ্যোতিষশাস্ত্রের মূল ধারণা
প্রাচীনকাল থেকেই বিশ্বাস করা হয়, জন্মের সময় মহাকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের বিশেষ বিন্যাস মানুষের জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে। প্রতিটি গ্রহকে একটি বিশেষ শক্তির আধার মনে করা হয়, যা আত্মিক ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে মহাজাগতিক ছন্দ তৈরি করে।
নবগ্রহ ও তাদের প্রভাব
ভারতীয় জ্যোতিষে উল্লেখিত নবগ্রহ হলো সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু ও কেতু।
যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সূর্য একটি নক্ষত্র, চন্দ্র উপগ্রহ এবং রাহু-কেতু ছায়া বিন্দু, তবুও জ্যোতিষশাস্ত্রে এদের প্রত্যেকের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে।
জন্মছক ও গ্রহের ব্যাখ্যা
জন্মতারিখ, সময় ও স্থান অনুযায়ী তৈরি জন্মছক বিশ্লেষণ করেই গ্রহের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কোন গ্রহ কোন রাশিতে বা ঘরে রয়েছে, তার অবস্থান শক্তিশালী নাকি দুর্বল—সবকিছুই জীবনের সাফল্য, আর্থিক অবস্থা, স্বাস্থ্য ও সম্পর্ককে প্রভাবিত করে বলে মনে করা হয়।
গ্রহের গোচর ও মহাজাগতিক শক্তি
জ্যোতিষ মতে, শুধু জন্মছক নয়, চলমান গ্রহগত পরিবর্তন বা ‘গোচর’-ও মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। যেমন, সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ সূর্য, মঙ্গল, বুধ ও শুক্র রাশি পরিবর্তন করবে, যা কিছু রাশির জাতকদের জন্য নতুন সুযোগ ও আর্থিক উন্নতি আনতে পারে। আবার কিছু রাশিকে রাগ নিয়ন্ত্রণ বা আর্থিক বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তাও দিতে পারে।
আধুনিক সমাজে জ্যোতিষচর্চা
বৈজ্ঞানিক যুগেও জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ অটুট। ব্যক্তিগত জন্মছক বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে দেশ-রাজ্য বা প্রাকৃতিক ঘটনার পূর্বাভাস—সব ক্ষেত্রেই এর চর্চা হয়। শুভ কাজ বা বড় সিদ্ধান্তের আগে গ্রহের অনুকূলতা দেখা আজও প্রচলিত।
জ্যোতিষ বনাম বিজ্ঞান
তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে জ্যোতিষকে ‘ছদ্মবিজ্ঞান’ বলা হয়, কারণ এর ভবিষ্যদ্বাণী পরীক্ষাগারে প্রমাণিত নয়। সপ্তদশ শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের পর জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্র আলাদা পথে হাঁটলেও মানুষের জীবনে জ্যোতিষের প্রভাব আজও বিদ্যমান। কিছু বিজ্ঞানী অবশ্য চাঁদের জোয়ার-ভাটার প্রভাবের মতো প্রাকৃতিক প্রভাবকে স্বীকার করেন, যদিও অন্যান্য গ্রহের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই।
('দ্য ওয়াল' এই বিষয়বস্তুর প্রচারক নয়; এটি কেবল তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।)