জ্যোতিষীদের দাবি, দাঁত দিয়ে নখ চিবোনোর ফলে কর্ম, জীবন ও সম্পর্ক সবখানেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 September 2025 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নখ চিবোনোর অভ্যাস শুধু অস্বাস্থ্যকরই নয় - জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী এটি শনি, রাহু ও কেতুর মতো অশুভ গ্রহের কুদৃষ্টি ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি জ্যোতিষীরা এই বদভ্যাস ত্যাগ করতে মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, দাঁত দিয়ে নখ চিবোনোর ফলে কর্ম, জীবন ও সম্পর্ক সবখানেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত এই বিশ্বাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।
জ্যোতিষশাস্ত্রে নখকে শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং শনিকে নখ ও হাড়ের গ্রহ বলা হয়। তাই দাঁত দিয়ে নখ কামড়ালে শনির দোষ কুণ্ডলীতে তৈরি হতে পারে - এটাই জ্যোতিষীদের যুক্তি। একই সঙ্গে রাহু ও কেতুর অবস্থাও খারাপ হয়ে গেলে ব্যক্তির জীবন একের পর এক বিক্ষুব্ধ সময়ের মুখে পড়তে পারে।
তাছাড়া জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়েছে, নখ চিবিয়ে খেলে সূর্যেরও ক্ষতি হতে পারে, যার ফলে কর্মজীবন ও ব্যবসায় ব্যাঘাত পড়ে এবং লক্ষ্মী দেবী এই আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে আর্থিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারেন - এগুলো ঐতিহ্যগত বিশ্বাসের অংশ।
শনি: অশুভ অবস্থায় আর্থিক সংকট, কর্মক্ষেত্রে বাধা, দীর্ঘ পরিশ্রমের পরও সাফল্য না পাওয়া, আইনি জটিলতা, স্বাস্থ্য সমস্যা (বিশেষত হাড়-সংক্রান্ত) ইত্যাদি।
রাহু: হঠাৎ দুর্ভাগ্য, সমস্যা ও মানসিক চাপ; জীবনে অস্থিরতা।
কেতু: বিচ্ছিন্নতা, আধ্যাত্মিক সমস্যা ও অজানা ভয়ের সৃষ্টি; অপ্রত্যাশিত বাধা ও মানসিক অস্থিরতা।
জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে — এসব গ্রহের খারাপ অবস্থার সম্মুখীন হলে ব্যক্তি আর্থিক, পেশাগত ও পারিবারিক ক্ষেত্রেও নেতিবাচক ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
আর্থিক সমস্যা ও কর্মক্ষেত্রে বাধা।
দাম্পত্যে অসামঞ্জস্য, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের তিক্ততা।
হাড় বা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যার বাড়বাড়ন্ত (শনির সংযোগের কারণে)।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ, কাজের প্রতি মনোযোগ হারানো (রাহু-কেতুর প্রভাব)।
সূর্যের দুর্বলতা হলে কাজের জায়গায় অবনতি ও ব্যবসায় ক্ষতি।
জ্যোতিষশাস্ত্রে দাঁত দিয়ে নখ চিবোনোর ফলে পড়া কুদৃষ্টি কমাতে নিচের প্রতিকারের পরামর্শ দেয়া হয়:
অভ্যাস ত্যাগ: দাঁত দিয়ে নখ কামড়ানোর অভ্যাস সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়া।
শনিদেব তুষ্ট করা: শনিবার কম্বল, ছাতা ও সর্ষের তেল দান করা যেতে পারে। সৎ পথে পরিশ্রম করে জীবন চালানোও জরুরি।
নিমের ব্যবহার: নিমপাতার মালা ব্যবহার বা নিম গাছের ছায়ায় বসে ধ্যান করলে মানসিক চাপ কমে বলে বিশ্বাস করা হয়।
রাহু-কেতু প্রতিকার: নবরাত্রির নয় দিন ভগবান শিবকে লবঙ্গ নিবেদন — রাহু-কেতুর প্রভাব এড়াতে এটি উপকারী বলে মনে করা হয়।
সূর্য প্রতিকার: প্রতিদিন সূর্য দেবতাকে জলের অর্ঘ্য নিবেদন করা এবং নিজের বাবা বা বয়োজ্যেষ্ঠের সেবা করা সূর্যের অশুভ প্রভাব কাটাতে সাহায্য করে।
সাধারণ জীবনপদ্ধতি: নখ কামড়ানো ছেড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, কঠোর পরিশ্রম করা ও সৎ জীবনযাপন করে আর্থিক উন্নতি ও লক্ষ্মীর কৃপা লাভের চেষ্টা করা।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানও নখ চিবোনোকে সমস্যা হিসেবে দেখে। ডাক্তারেরা বলছেন—এই অভ্যাস:
পেটের গোলমাল ও হজমজনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে,
দাঁতের ক্ষতি করে,
নখের চারপাশে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
অনেকে মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে এ অভ্যাসে লিপ্ত হন; তাই প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
('দ্য ওয়াল' এই বিষয়বস্তুর প্রচারক নয়; এটি কেবল তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।)