Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

Numerology: সংখ্যা দিয়ে ভবিষ্যৎ জানা কি সম্ভব? বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাসে বিতর্ক

অনেকেই মনে করেন, নিউমারোলজি জীবনের অনিশ্চিত সময়ে দিশা দেয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় সংখ্যার সঙ্গে জীবনের ঘটনার মিল খুঁজে পেয়ে তাঁরা বিশ্বাস স্থাপন করেন

Numerology: সংখ্যা দিয়ে ভবিষ্যৎ জানা কি সম্ভব? বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাসে বিতর্ক

ছবি - দ্য ওয়াল

অরণ্যা দত্ত

শেষ আপডেট: 17 August 2025 19:03

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংখ্যা দিয়ে কি সত্যিই মানুষের ভবিষ্যৎ জানা যায়? এই প্রশ্ন ঘিরেই বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের পুরনো বিতর্ক আবারও তুঙ্গে উঠেছে। কেউ মনে করেন, নিউমারোলজি বা সংখ্যাতত্ত্ব হলো ভবিষ্যৎ জানার সঠিক পথ; অন্যদিকে বিজ্ঞানীরা একে সরাসরি অবৈজ্ঞানিক বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলত সমাজে তৈরি হয়েছে দ্বন্দ্ব— বিজ্ঞান নাকি প্রথাগত বিশ্বাস, কোনটিকে ভরসা করা উচিত? এই বিতর্ক শুধু জ্যোতিষশাস্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আজকের জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রভাব ফেলছে।

সংখ্যাতত্ত্ব আসলে কী?

নিউমারোলজি বা সংখ্যাতত্ত্ব একটি প্রাচীন বিদ্যা, যেখানে সংখ্যা, অক্ষর ও প্রতীকের সঙ্গে জীবনের অর্থ খোঁজার চেষ্টা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, জন্মতারিখ ও নামের সঙ্গে যুক্ত সংখ্যা মানুষের স্বভাব, ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে।
১ থেকে ৯ পর্যন্ত প্রতিটি সংখ্যা এক একটি গ্রহের সঙ্গে যুক্ত, আর সেই গ্রহের প্রভাবের ভিত্তিতেই বিশ্লেষণ করা হয় মানুষের জীবন। জন্মতারিখ থেকে নির্ধারণ করা হয় ‘লাইফ-পাথ নম্বর’, যা একজন ব্যক্তির বর্তমান সত্তা ও ভবিষ্যৎপথ নির্দেশ করে।

সংখ্যাতত্ত্বের শিকড় ইতিহাসে

সংখ্যাতত্ত্বের জন্ম জ্যোতিষশাস্ত্রেরও আগে। প্রাচীন মিশর, ব্যাবিলন, চীন, রোম ও গ্রিসের সভ্যতায় এর প্রমাণ পাওয়া যায়। বেদ, বাইবেল-সহ প্রাচীন ধর্মগ্রন্থেও সংখ্যার গুরুত্বের উল্লেখ আছে।
গ্রিক দার্শনিক পিথাগোরাসকে আধুনিক নিউমারোলজির জনক ধরা হয়। তাঁর আগেও ব্যাবিলনীয়রা এই বিদ্যা চর্চা করত। শোনা যায়, ফিলোলাস, নিকোমাকাস, সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল— এমনকি আইনস্টাইন পর্যন্ত সংখ্যা ও তার গূঢ় ক্ষমতার গুরুত্ব স্বীকার করেছিলেন।

কীভাবে কাজ করে এই বিদ্যা?

  • নিউমারোলজিতে প্রথমে জন্মতারিখ ও নামকে সংখ্যা দিয়ে নির্ধারণ করা হয়। উদাহরণ, কারও জন্ম যদি ১৫ তারিখে হয়, তবে ১+৫ = ৬ হবে তাঁর জন্মসংখ্যা।
  • জন্মমাস ও জন্মসালকেও একইভাবে যোগ করে একক অঙ্কে আনা হয়।
  • এর পরে সব সংখ্যার যোগফল থেকে নির্ধারণ করা হয় লাইফ-পাথ বা ভাগ্যসংখ্যা।
  • বিশেষ ক্ষেত্রে ১১ ও ২২-কে ধরা হয় “মাস্টার নম্বর”, যাদের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ক্যালডীয় পদ্ধতিতে প্রতিটি সংখ্যা একেকটি গ্রহের সঙ্গে যুক্ত, আর বর্ণমালার অক্ষরগুলিও সেই গ্রহশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিশ্বাস যাঁরা করেন, তাঁরা কী বলেন?

অনেকেই মনে করেন, নিউমারোলজি জীবনের অনিশ্চিত সময়ে দিশা দেয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় সংখ্যার সঙ্গে জীবনের ঘটনার মিল খুঁজে পেয়ে তাঁরা বিশ্বাস স্থাপন করেন। একাংশের দাবি, বিশেষ মোবাইল নম্বর বা বাড়ির ঠিকানা তাঁদের ভাগ্য বদলেছে। যাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁদের মতে, সংখ্যাতত্ত্ব আসন্ন সুযোগ-চ্যালেঞ্জের আভাস দেয়, শুভ সংখ্যা আত্মবিশ্বাস বাড়ায় ও ইতিবাচক শক্তি আনে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞানীদের মত

  • বিজ্ঞানীরা নিউমারোলজিকে সম্পূর্ণ ছদ্মবিজ্ঞান মনে করেন। তাঁদের বক্তব্য—
  • বিজ্ঞান নির্ভর করে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও প্রমাণের উপর, যা সংখ্যাতত্ত্বে নেই।
  • সংখ্যা মানুষের তৈরি একটি ধারণা, এর কোনও অতিপ্রাকৃত শক্তি নেই।
  • মানুষ অনেক সময় কাকতালীয় ঘটনাকেও নিউমারোলজির সঙ্গে জুড়ে দেয়, আর মনস্তত্ত্বের কারণে তাতে বিশ্বাস জন্মায়।
  • তাঁদের মতে, নিউমারোলজি কোনওভাবেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাচাইযোগ্য নয়।

বিতর্কের মূল সুর

  • সংখ্যাতত্ত্বকে ঘিরে এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ‘বিশ্বাস বনাম প্রমাণ’।
  • বিশ্বাসীরা আধ্যাত্মিক উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সংখ্যার গুরুত্ব মেনে নেন।
  • বিজ্ঞানীরা কেবল সেই তথ্যকেই সত্য বলেন, যা পরীক্ষায় প্রমাণিত।

ফলে সমাজে দু’টি আলাদা ধারা তৈরি হয়েছে, একদিকে সংখ্যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানতে আগ্রহী মানুষ, আর অন্যদিকে কেবল বিজ্ঞানের যুক্তিতে বিশ্বাসীরা। এই টানাপোড়েনই নিউমারোলজিকে ঘিরে চলমান আলোচনার মূল কারণ।


```