অনেকেই মনে করেন, নিউমারোলজি জীবনের অনিশ্চিত সময়ে দিশা দেয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় সংখ্যার সঙ্গে জীবনের ঘটনার মিল খুঁজে পেয়ে তাঁরা বিশ্বাস স্থাপন করেন

ছবি - দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 17 August 2025 19:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংখ্যা দিয়ে কি সত্যিই মানুষের ভবিষ্যৎ জানা যায়? এই প্রশ্ন ঘিরেই বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের পুরনো বিতর্ক আবারও তুঙ্গে উঠেছে। কেউ মনে করেন, নিউমারোলজি বা সংখ্যাতত্ত্ব হলো ভবিষ্যৎ জানার সঠিক পথ; অন্যদিকে বিজ্ঞানীরা একে সরাসরি অবৈজ্ঞানিক বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলত সমাজে তৈরি হয়েছে দ্বন্দ্ব— বিজ্ঞান নাকি প্রথাগত বিশ্বাস, কোনটিকে ভরসা করা উচিত? এই বিতর্ক শুধু জ্যোতিষশাস্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আজকের জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও প্রভাব ফেলছে।
সংখ্যাতত্ত্ব আসলে কী?
নিউমারোলজি বা সংখ্যাতত্ত্ব একটি প্রাচীন বিদ্যা, যেখানে সংখ্যা, অক্ষর ও প্রতীকের সঙ্গে জীবনের অর্থ খোঁজার চেষ্টা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, জন্মতারিখ ও নামের সঙ্গে যুক্ত সংখ্যা মানুষের স্বভাব, ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে।
১ থেকে ৯ পর্যন্ত প্রতিটি সংখ্যা এক একটি গ্রহের সঙ্গে যুক্ত, আর সেই গ্রহের প্রভাবের ভিত্তিতেই বিশ্লেষণ করা হয় মানুষের জীবন। জন্মতারিখ থেকে নির্ধারণ করা হয় ‘লাইফ-পাথ নম্বর’, যা একজন ব্যক্তির বর্তমান সত্তা ও ভবিষ্যৎপথ নির্দেশ করে।
সংখ্যাতত্ত্বের শিকড় ইতিহাসে
সংখ্যাতত্ত্বের জন্ম জ্যোতিষশাস্ত্রেরও আগে। প্রাচীন মিশর, ব্যাবিলন, চীন, রোম ও গ্রিসের সভ্যতায় এর প্রমাণ পাওয়া যায়। বেদ, বাইবেল-সহ প্রাচীন ধর্মগ্রন্থেও সংখ্যার গুরুত্বের উল্লেখ আছে।
গ্রিক দার্শনিক পিথাগোরাসকে আধুনিক নিউমারোলজির জনক ধরা হয়। তাঁর আগেও ব্যাবিলনীয়রা এই বিদ্যা চর্চা করত। শোনা যায়, ফিলোলাস, নিকোমাকাস, সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল— এমনকি আইনস্টাইন পর্যন্ত সংখ্যা ও তার গূঢ় ক্ষমতার গুরুত্ব স্বীকার করেছিলেন।
কীভাবে কাজ করে এই বিদ্যা?
বিশ্বাস যাঁরা করেন, তাঁরা কী বলেন?
অনেকেই মনে করেন, নিউমারোলজি জীবনের অনিশ্চিত সময়ে দিশা দেয়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় সংখ্যার সঙ্গে জীবনের ঘটনার মিল খুঁজে পেয়ে তাঁরা বিশ্বাস স্থাপন করেন। একাংশের দাবি, বিশেষ মোবাইল নম্বর বা বাড়ির ঠিকানা তাঁদের ভাগ্য বদলেছে। যাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁদের মতে, সংখ্যাতত্ত্ব আসন্ন সুযোগ-চ্যালেঞ্জের আভাস দেয়, শুভ সংখ্যা আত্মবিশ্বাস বাড়ায় ও ইতিবাচক শক্তি আনে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞানীদের মত
বিতর্কের মূল সুর
ফলে সমাজে দু’টি আলাদা ধারা তৈরি হয়েছে, একদিকে সংখ্যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানতে আগ্রহী মানুষ, আর অন্যদিকে কেবল বিজ্ঞানের যুক্তিতে বিশ্বাসীরা। এই টানাপোড়েনই নিউমারোলজিকে ঘিরে চলমান আলোচনার মূল কারণ।