Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
রহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়েরSupreme Court DA: ডিএ নিয়ে সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি, বুধবার রাজ্যের মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট

গ্রহের মহাবদল ২০২৫: বিজ্ঞান ও জ্যোতিষের চোখে এক মহাজাগতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত

২০২৫ সালের গ্রহের মহাবদল কীভাবে বদলে দিতে পারে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ? জানুন বিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিতে এর রহস্য ও প্রভাব।

 

গ্রহের মহাবদল ২০২৫: বিজ্ঞান ও জ্যোতিষের চোখে এক মহাজাগতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত

ছবি(AI)

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 24 October 2025 13:01

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে গ্রহের কক্ষপথের সূক্ষ্ম বদলের সম্পর্ক বহু পুরনো। এর অন্যতম কারণ মিলানকোভিচ চক্র—যেখানে পৃথিবীর কক্ষপথের আকৃতি, ঘূর্ণন অক্ষের নতি ও দুলুনি প্রতি কয়েক হাজার বছর অন্তর পরিবর্তিত হয়। ফলে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছানোর পরিমাণেও সামান্য তারতম্য ঘটে, যা দীর্ঘমেয়াদে সৃষ্টি করে হিমযুগ বা উষ্ণ সময়ের মতো পরিবর্তন। এছাড়া পৃথিবীর মহাদেশগুলির অবস্থান পরিবর্তন (প্লেট টেকটোনিক্স) আবহাওয়া ও সমুদ্র স্রোতের ধরণেও প্রভাব ফেলে। এই ধীর গতির গ্রহীয় পরিবর্তনই প্রকৃতির নিয়মে চলে এবং এর প্রভাব গভীর ও সুদূরপ্রসারী।

মহাজাগতিক আঘাত: এক নিরন্তর হুমকি

মহাকাশে ভেসে বেড়ানো অগণিত গ্রহাণু ও ধূমকেতু পৃথিবীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। ২০১৯ সালে ‘OK’ নামের ৩০-তলা ভবনের সমান একটি গ্রহাণু মাত্র কয়েকদিনের নোটিশে পৃথিবীর পাশ দিয়ে চলে গিয়েছিল। যদি সেটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়ত, একটি মহানগর মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারত। ২০২২ সালে আরও একটি বৃহৎ গ্রহাণু ‘MK’ পৃথিবীর চাঁদের চেয়েও কাছ দিয়ে চলে যায়, যেটি মাত্র ১৩ দিন আগে আবিষ্কৃত হয়েছিল।

এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, মহাজাগতিক আঘাতের ঝুঁকি আজও প্রবল। বিজ্ঞানীরা এমন হুমকি প্রতিরোধে নানা কৌশল নিয়ে কাজ করছেন—যেমন গ্রহাণুকে রঙ করে সূর্যালোকের প্রতিফলন পরিবর্তন, ক্ষুদ্র ইঞ্জিন দিয়ে গতি কমানো বা “মহাজাগতিক বুলেট” প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেটিকে ধ্বংস করা। এই সমস্ত প্রচেষ্টা মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার এক চেষ্টারই প্রতিফলন।

ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র ও গ্রহের প্রভাবের বিশ্বাস

গ্রহের এই মহাবদল নিয়ে যেমন বিজ্ঞানীদের আগ্রহ, তেমনই জ্যোতিষশাস্ত্রের জগতে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান ও গোচর মানবজীবন, সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। সিন্ধু সভ্যতা থেকে এর শিকড়, এবং আর্যভট্ট, বরাহমিহির, ব্রহ্মগুপ্তের মতো পণ্ডিতরা জ্যোতির্বিজ্ঞানে যে অবদান রেখেছেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।

২০২৫ সালকে অনেক জ্যোতিষী এক ‘পরিবর্তনের বছর’ বলছেন। এই বছর বৃহস্পতি, শনি, রাহু-কেতু প্রভৃতি প্রধান গ্রহগুলির গুরুত্বপূর্ণ স্থানচ্যুতি ঘটবে। বিশেষত, ২৯ মার্চ ২০২৫-এ শনি কুম্ভ থেকে মীন রাশিতে প্রবেশ করবে—যা অতীতেও বড় পরিবর্তনের সূচক ছিল বলে দাবি করা হয়।কিছু পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, মে-জুলাই মাসে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, যা জ্বালানির খরচেও প্রভাব ফেলবে।
এই বিশ্বাস ভারতীয় সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক স্তম্ভ, যা বহু মানুষের জীবনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাস: এক চলমান বিতর্ক

আধুনিক যুগে বিজ্ঞান প্রমাণ ও যুক্তির উপর দাঁড়ালেও, জ্যোতিষশাস্ত্র মহাজাগতিক শক্তির প্রভাবকে কেন্দ্র করে বিশ্বাসের ওপর টিকে আছে।
বিজ্ঞানীরা যেখানে গ্রহের ভৌত পরিবর্তন, কক্ষপথ ও মহাজাগতিক বস্তুর চলাচল বিশ্লেষণ করেন, জ্যোতিষীরা সেই বস্তুগুলির অবস্থানকে মানুষের ভাগ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন। এখনও বহু মানুষ বিশ্বাস করেন গ্রহ-নক্ষত্রের চালচলন জীবনের নানা দিক নির্ধারণ করে। যদিও জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষশাস্ত্রের মধ্যে মূলগত পার্থক্য রয়েছে, তবু উভয়কেই অনেকেই মহাবিশ্ব বোঝার দুই ভিন্ন পথ হিসেবে দেখেন।

 ভবিষ্যতের প্রস্তুতি ও গবেষণা

গ্রহের মহাবদল নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা অব্যাহত। নাসা (NASA) পৃথিবীর নিকটবর্তী গ্রহাণুগুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য আঘাত প্রতিরোধে কৌশল উদ্ভাবন করছে।জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করছেন।
অন্যদিকে, জ্যোতিষীরা ভবিষ্যতের পূর্বাভাস ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন—যা সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রেক্ষিতে মানুষকে কখনও আশাবাদী করে, কখনও সতর্ক করে তোলে। যে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা হোক না কেন, মানুষের কৌতূহল একই—মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচন করা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই জ্ঞানের সঠিক ব্যাখ্যা পৌঁছে দেওয়া আজ অত্যন্ত জরুরি।


```