চন্দ্র–কেতুর অশুভ গ্রহণ যোগে ৭ রাশির জীবনে আসতে পারে আর্থিক, মানসিক ও পারিবারিক সংকট। জানুন কোন রাশির জাতকদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে এবং কী প্রতিকার করবেন।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 14 November 2025 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে, গ্রহের অশুভ দশা মানুষের জীবনে নানা দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি আকাশমণ্ডলে তৈরি হয়েছে এক বিশেষ গ্রহ-সংযোগ—যেখানে চন্দ্র ও কেতুর অবস্থান একে অপরের জন্য অশুভ ফল বয়ে আনছে। জ্যোতিষবিদদের আশঙ্কা, এই ‘চন্দ্র–কেতুর অশুভ যোগ’ আগামী দিনগুলিতে কয়েকটি রাশির জাতকদের জীবনে গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মানসিক চাপ, আর্থিক ক্ষতি, পারিবারিক অশান্তি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা—বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই এখন প্রশ্ন—কারা এই অশুভ প্রভাবের সবচেয়ে বেশি শিকার হতে পারেন এবং কীভাবে মিলবে এই অশান্ত যোগ থেকে মুক্তি?
চন্দ্র–কেতুর অশুভ যোগ: জ্যোতিষশাস্ত্র কী বলছে?
ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, চন্দ্র ও কেতু যখন একই রাশিতে অবস্থান করে, তখন তাকে অশুভ ‘গ্রহণ যোগ’ বলা হয়। চন্দ্র মন, আবেগ, ঘরবাড়ি ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতীক; অন্যদিকে কেতু বিচ্ছেদ, আধ্যাত্মিকতা, নির্লিপ্ততা ও রহস্যময়তার প্রতীক। তাই এই দুই গ্রহ একই স্থানে মিলিত হলে মানসিক অস্থিরতা ও নানা নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থানে থাকা মানুষজন মানসিক চাপ, দুঃখ, অস্থিরতা এবং সিদ্ধান্তহীনতার মতো সমস্যায় ভুগতে পারেন।
গ্রহণ যোগ: একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা
জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়েছে, যখন চন্দ্রের সঙ্গে রাহু বা কেতুর মতো পাপগ্রহের যুতি ঘটে, তখনই গ্রহণ যোগ তৈরি হয়। এটি অত্যন্ত অশুভ যোগ বলে বিবেচিত। চন্দ্র–কেতুর সংযোগ বিশেষত মানুষের মানসিক ও আবেগগত স্থিরতাকে নষ্ট করে। এর প্রভাবে অনিদ্রা, দুশ্চিন্তা, নেতিবাচক ভাবনা, হঠাৎ অযথা অর্থখরচ এবং কাজে বাধা দেখা দিতে পারে। যাত্রা বা ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সাবধান থাকতে বলা হয়।
কোন কোন রাশির উপর পড়বে চন্দ্র–কেতুর প্রভাব?
জ্যোতিষ গণনা অনুসারে, চন্দ্র–কেতুর এই অশুভ যোগ বিশেষভাবে প্রভাব ফেলতে পারে—
মেষ, কর্কট, সিংহ, বৃশ্চিক, ধনু, মকর এবং মীন রাশির জাতকদের উপর।
এই সময়ে তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপেই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
রাশি অনুযায়ী সম্ভাব্য সংকট
মেষ রাশি
আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়বে। অপ্রত্যাশিতভাবে টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে। ভ্রমণে সতর্ক থাকুন। মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
কর্কট রাশি
চাকরি বদলের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালভাবে ভাবুন। কারও নিন্দা করলে বিপদ বাড়বে। ব্যবসায় ক্ষতি, পারিবারিক অশান্তি ও মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে।
সিংহ রাশি
এই অশুভ যোগ সিংহ রাশির জন্য খুবই প্রতিকূল। আলস্য বৃদ্ধি, সঞ্চয়ে কম মনোযোগ, অর্থপ্রবাহে বাধা, ব্যাংক ব্যালেন্সের ওঠানামা এবং ব্যবসায় ক্ষতির সম্ভাবনা আছে।
বৃশ্চিক রাশি
দ্বাদশ ঘরে এই যোগ তৈরি হওয়ায় অনিদ্রা, ফলহীন ভ্রমণ, ব্যবসায় মন্থরতা ও স্বাস্থ্যের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। কোনও চুক্তি করার আগে সতর্ক থাকুন।
ধনু রাশি
পরিবারে মতভেদ তৈরি হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে কেউ আপনার কৃতিত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। মানসিক চাপ বাড়বে।
মকর রাশি
আচরণে নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অর্থ লেনদেনে বিরত থাকুন। খরচ কমিয়ে দিন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সময় নিন।
মীন রাশি
আর্থিক সমস্যার আশঙ্কা। বিনিয়োগের জন্য অনুকূল সময় নয়। স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কফ, সর্দি, পেটের সমস্যা, এমনকি দীর্ঘস্থায়ী রোগ দেখা দিতে পারে। নতুন কাজ শুরু করাও অনুচিত।
মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব
চন্দ্র–কেতুর অশুভ যোগ শুধু জীবনের আর্থিক বা পেশাগত দিকেই নয়—মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপরও গভীর প্রভাব ফেলে। অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ভয়, খারাপ স্বপ্ন, অনিদ্রা বাড়তে পারে। মাথাব্যথা, পেটের সমস্যা, রক্ত বা দাঁতের সমস্যা, লিভার ইস্যু এবং মায়ের স্বাস্থ্যের জটিলতা দেখা দিতে পারে।
প্রতিকারের উপায়: জ্যোতিষশাস্ত্র যা পরামর্শ দিচ্ছে
ভগবান বিষ্ণুর পূজা
বৃহস্পতিবার বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ এবং ছোলার ডাল দান শুভ ফল দেয়।
শিব-পার্বতীর আরাধনা
চন্দ্রগ্রহণের সময় শিব-পার্বতীকে পূজা করলে পারিবারিক সমস্যা কমে।
দান-ধ্যান
মুগ বা বিউলির ডাল, গরম কাপড়, অন্ন বা ফল দান করলে অশুভ প্রভাব হ্রাস পায়।
রত্ন ধারণ
ডান হাতের বুড়ো আঙুলে রূপোর আংটি উপকারী। তবে জ্যোতিষ পরামর্শ ছাড়া কোনও রত্ন পরবেন না।
মানসিক সংযম
কথাবার্তা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করুন। শ্রীকৃষ্ণের ভক্তি মনকে স্থির রাখে।
ভ্রমণ ও বিনিয়োগে সতর্কতা
অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন। নতুন বিনিয়োগ স্থগিত রাখুন।
স্বাস্থ্য যত্ন
নিজেকে ঠিকভাবে বিশ্রাম দিন ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন।