Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

অনলাইন জ্যোতিষচর্চায় নতুন দিগন্ত: বিশ্বজুড়ে অ্যাস্ট্রোটকের অভাবনীয় সাফল্য

ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অ্যাস্ট্রোটক ঘরে বসেই মিলিয়ে দিচ্ছে জ্যোতিষ পরামর্শ। বিশ্বজুড়ে কেমনভাবে তৈরি হলো সাফল্যের রেকর্ড?

অনলাইন জ্যোতিষচর্চায় নতুন দিগন্ত: বিশ্বজুড়ে অ্যাস্ট্রোটকের অভাবনীয় সাফল্য

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 18 September 2025 21:58

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমান সময়ে অনলাইন জ্যোতিষচর্চা (Online Astrology) এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর নেতৃত্বে রয়েছে অ্যাস্ট্রোটক, যে প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী জ্যোতিষবিদ্যাকে ডিজিটাল প্রযুক্তির (Digital) মাধ্যমে মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। মোবাইল আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এখন ঘরে বসেই অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ পাচ্ছেন। এই সাফল্য শুধু অ্যাস্ট্রোটকের নয়, বরং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রাচীন জ্ঞানচর্চার বিশাল সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অনলাইন জ্যোতিষচর্চার এক নতুন ধারা

একসময় জ্যোতিষীর কাছে ব্যক্তিগতভাবে না গেলে পরামর্শ পাওয়া যেত না। এখন সেই স্থান নিয়েছে মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইট। বিশেষত তরুণ প্রজন্ম, যারা প্রযুক্তির সঙ্গে স্বচ্ছন্দ, তারাই অনলাইন পরামর্শকে বেশি বেছে নিচ্ছে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, মানসিক চাপ আর জীবনের দিকনির্দেশনা পাওয়ার তাগিদই এ প্রবণতার মূল কারণ। অ্যাস্ট্রোটক (Astrotalk) দেখিয়ে দিয়েছে—ডিজিটাল যুগেও আধ্যাত্মিক পরামর্শের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে রিয়েল-টাইমে পরামর্শ পাওয়ার সুবিধা এই প্ল্যাটফর্মকে অনন্য করে তুলেছে। শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়ে অনলাইন জ্যোতিষসেবার ধরন পাল্টে দিয়েছে অ্যাস্ট্রোটক।

অ্যাস্ট্রোটকের দ্রুত বৃদ্ধি ও সফলতার রহস্য

২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করা অ্যাস্ট্রোটক আজ ভারতের অন্যতম সফল স্টার্টআপ।

  • ২০২৩-২৪ অর্থবছর: অপারেটিং আয় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫১ কোটি টাকায়।

  • নেট মুনাফা: দশগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪ কোটিতে পৌঁছেছে।

  • মূল আয়ের উৎস: প্রায় ৯৫% ব্যক্তিগত পরামর্শ থেকে আসে।

অক্টোবর ২০২৪ পর্যন্ত রেজিস্টার্ড ব্যবহারকারী ৬০ মিলিয়নের বেশি। প্রতি মাসে প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন অর্থপ্রদানের সেশন হয়, যেখানে যুক্ত আছেন ১৫,০০০-এরও বেশি জ্যোতিষী।ব্যবহারকারীদের মধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় ২৫–৩৪ বছর বয়সীরা। পুরুষ ৫১.৫% ও মহিলা ৪৭.৫%। অধিকাংশই উচ্চ-মধ্যবিত্ত, যারা চ্যাট-ভিত্তিক পরামর্শে বেশি ভরসা করেন। বিয়ে, সম্পর্ক আর কর্মজীবনের মতো বিষয়ে তরুণ প্রজন্ম অ্যাস্ট্রোটকের উপর নির্ভর করছে।

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রাচীন বিদ্যার আধুনিক রূপ

অ্যাস্ট্রোটক শুধু প্রাচীন জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং ও বিগ ডেটার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে জ্যোতিষসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

  • AI-চালিত চ্যাটবট: ২৪x৭ ভার্চুয়াল জ্যোতিষ পরামর্শ।

  • বিগ ডেটা বিশ্লেষণ: রাশিফল ও পূর্বাভাসকে করেছে আরও নির্ভরযোগ্য।

  • কমিশন মডেল: প্রতিটি পরামর্শে নির্দিষ্ট শতাংশ আয়। চার্জ প্রতি মিনিটে ৫–২০০ টাকা পর্যন্ত।

  • অতিরিক্ত পরিষেবা: বিনামূল্যে রাশিফল, কুণ্ডলী মিলন, পূজা পরিষেবা ও ই-কমার্সে রত্নপাথরসহ আধ্যাত্মিক সামগ্রী।

বিশ্বজুড়ে বিস্তার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভারত ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে অ্যাস্ট্রোটক। বর্তমানে মোট আয়ের প্রায় ২০% বিদেশ থেকে আসে। কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, ব্রিটেন ও আমেরিকায় বিস্তারের পরিকল্পনা চলছে।

সম্প্রতি নিউ ইয়র্কভিত্তিক ভিসি ফার্ম Left Lane Capital থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার তহবিল পেয়েছে তারা। এই অর্থ ব্যবহার হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ, নতুন পরিষেবা ও নেতৃত্ব বৃদ্ধির জন্য। প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও পুনিত গুপ্তা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে আইপিও-তে প্রবেশ করাই মূল লক্ষ্য। তার আগেই আয়ের পরিমাণ ২,০০০ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনলাইন জ্যোতিষ বাজারের সম্ভাবনা

রেডসিয়ার স্ট্র্যাটেজি কনসালট্যান্টস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের অনলাইন জ্যোতিষ বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে দশগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

  • ২০২১: বাজারের আকার ছিল ১২.৮ বিলিয়ন ডলার।

  • ২০৩১: পৌঁছাতে পারে ২২.৮ বিলিয়ন ডলারে।

কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই চাহিদা আরও বেড়েছে। স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহার, ডিজিটাল অ্যাক্সেস আর তরুণ প্রজন্মের আগ্রহই বাজার বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।ভারতে ২০২৪ সালে সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হয়েছে ৮৮৬ মিলিয়ন, যা বছরে ৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে এটি ৯০০ মিলিয়ন ছাড়াবে। এর মধ্যে ৫৫% গ্রামীণ ব্যবহারকারী। উল্লেখযোগ্যভাবে, ৯৮% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী স্থানীয় ভাষার কনটেন্ট ব্যবহার করছেন। ফলে আঞ্চলিক ভাষায় জ্যোতিষ পরিষেবার জন্য বিশাল বাজার তৈরি হচ্ছে।


```