
শেষ আপডেট: 29 October 2020 18:30
ধীরে ধীরে বেড়াতে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে এখন। বাড়ির চারদেওয়ালের মধ্যে সারাদিন বসে কাজ করা মানুষজন এখন একটু হাওয়া বদল করতে চাইছেন। কিন্তু কাজের চাপে ঘুরতে যাওয়া তো প্রায় অসম্ভব। ওয়ার্কেশন চালু হওয়ার পর অনেকের এই ইচ্ছাপূরণ হবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।
ওয়ার্ক ফ্রম হোমে প্রাথমিক চাহিদাই হল ইলেকট্রিসিটি আর ভাল নেট পরিষেবা। এইদুটো ঠিক থাকলেই সহজে ঘরে বসে কাজ করা যায়। কিছু হোটেলের মালিকরা জানিয়েছেন ওয়ার্কেশনের জন্য আলাদা গাড়ি, হোটেল, হোম-স্টে ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সবজায়গাতেই থাকবে হাই স্পিড নেট পরিষেবা। ফলে হোটেলের ঘরে বা বাগানে বসে কাজ করতে কোনও অসুবিধা হবে না। যারা কাজের চাপে ঘুরতে যেতে পারছেন না তাদের কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। সারাদিন ঘরে বসেই কাজ করতে পারবেন। আবার বিকেলের দিকে পাহাড়ে বা জঙ্গলে একটু ঘুরতেও যেতে পারবেন। ফলে সারাদিন কাজের পরে একটু ফ্রেশ লাগতে পারে।
সাধারণত নতুন কোন জায়গায় বেড়াতে গেলে অন্তত সপ্তাহ দুয়েক না কাটালে সেই জায়গা, তাদের সংস্কৃতি, সেখানকার খাওয়া-দাওয়ার সম্পর্কে ঠিকমতো জানা যায় না। নিউ নর্মালে ওয়ার্কেশনে গেলে মানুষ এখন একমাস পর্যন্ত সময় কাটাচ্ছেন বলেই জানা যাচ্ছে। সপ্তাহে পাঁচদিন কাজের পর বাকি দুদিন বেড়াতে যাচ্ছেন। হোটেলের বাইরে বাগানে, পাহাড়ের কোলে বা নদীর ধারে বসে কাজ করার সুযোগও উপভোগ করছেন।
এমন সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পর ভাবছেন কোথায় যাবেন? হয়তো এই মুহূর্তে বিদেশ ভ্রমণ সম্ভব নয়। কিন্তু দেশের নানা প্রান্তে ওয়ার্কেশন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। হিমাচল প্রদেশ, জয়পুর, যোধপুর, উদয়পুর, কুর্গ, মুক্তেশ্বরে চালু তো হয়েইছে। শোনা যাচ্ছে ২০২১ সালের মার্চ অবধি ওয়ার্ক ফ্রম হোম চলবে। ফলে পরবর্তীতে মহারাষ্ট্র, কেরালা, কর্ণাটকেও শুরু হবে এই পরিষেবা।
ঘুরতে গিয়ে বিনোদনের পাশাপাশি হোটেল কর্তৃপক্ষ সুরক্ষার ব্যাপারেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে। করোনা আবহের কথা মাথায় রেখেই ঘর, গাড়ি প্রত্যেকটা জায়গাই প্রতিদিন পরিষ্কার করে স্যানিটাইজ করছে তারা। ঘুরতে এসে যাতে কেউ অসুস্থ না হয়ে পড়ে সেইদিকেও সমান খেয়াল রাখছে।
তাহলে আর দেরি কেন! ঝটপট জামা-কাপড় গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন।