
শেষ আপডেট: 1 November 2023 14:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিজন চেঞ্জ মানেই সর্দি-কাশি, জ্বর। সারাক্ষণ নাক বন্ধ। এখনকার ছেলেমেয়েরা সর্দি হল কী হল না, গাদাখানেক অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে নেয়। নাক বন্ধ মানেই গুচ্ছ গুচ্ছ ন্যাজাল স্প্রে। এর ফলও হয় মারাত্মক। নাকের ড্রপ শুধু উপসর্গটাকেই কমাতে পারে, যে কারণে নাক বন্ধ হচ্ছে, সেই কারণটাকে কিন্তু কমাতে পারে না। বরং সাইড এফেক্টস হয় বেশি।
সারা রাত শুকনো কাশি, নাক দিয়ে জল পড়া বা ঘুমনোর সময় নাক বন্ধ হয়ে গিয়ে শ্বাসের সমস্যা এগুলো স্বাভাবিক ব্য়াপার। সাধারণত, শরীরে যখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মিউকাস তৈরি হয়, তখনই বাড়তি মিউকাস নাক থেকে জলের আকারে বেরিয়ে যায়। সাইনাস ও মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে ঠান্ডা থেকে নানা ধরনের সংক্রমণ শুরু হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দেখেন রাতে ঘুমোতে গেলেই নাক বন্ধ হয়ে আসছে, ঘুম থেকে উঠেও নাক বন্ধ, সারা ক্ষণ মাথা ব্যথা, হাঁচি ও সর্দির সমস্যা লেগেই রয়েছে, তাহলে সতর্ক হতে হবে। ঘন ঘন ন্য়াজাল স্প্রে নেওয়ার অভ্য়াসও ছাড়তে হবে।
নাকের ড্রপে থাকে অক্সিমেটাজলিন, ন্যাফাজলিন, সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকোট ফিনাইলএফরিন ইত্যাদি নানারকম রাসায়নিক। এইসব রাসায়নিক রক্তনালি সংকুচিত করতে পারে। এগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে নাকের মিউকাস মেমব্রেনের ক্ষতি হয়। পরবর্তীকালে নাক আর খুলতে চায় না। বেশিরভাগ নাকের ড্রপেই স্টেরয়েড থাকে যার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে নানারকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।
দীর্ঘদিন নাকের ড্রপ ব্যবহারের প্রয়োজন হলে স্যালাইন ড্রপই ব্যবহার করা উচিত। এক গ্লাস বা প্রায় ২০০ মিলি উষ্ণ জলে একটু নুন ফেলে দিয়ে সেই জল কিছুটা করে নাক দিয়ে টেনে নিয়ে মুখ দিয়ে বার করে দিলে নাক পরিষ্কার হয়ে যায়। তাছাড়া ন্যাজাল কিটও বেরিয়ে গেছে বাজারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাকের ড্রপে সাধারণত কোনও কড়া ডোজের ওষুধ থাকে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নুন মেশানো জল থাকে। আর এই জল যাতে নষ্ট না হয়ে যায় তাই তাকে সংরক্ষণ করার জন্য় কিছু রাসায়নিক থাকে। এই ধরনের ড্রপ বা স্প্রের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হয় না, তবে একটানা নিতে থাকলে তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। তখন স্প্রে না নিলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর নাক বন্ধ হয়ে যায়। প্রাণায়াম করলেও স্প্রে বা ড্রপের উপর থেকে অনেকেরই নির্ভরতা কমে। তাছাড়া পরিষ্কার জল নাক দিয়ে টানতে পারেন। তাতেও উপকার পাওয়া যায়। নাকের এক ছিদ্র বন্ধ করে অন্যটি দিয়ে জল টানতে হয়। তার পরে সেই জল মুখ দিয়ে ফেলে দিতে হয়।