অতিরিক্ত জল খেলেও শরীরে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। ‘ওয়াটার ইনটক্সিকেশন’ কী, কী লক্ষণ, জানুন বিস্তারিত।

বেশি জল খেলে ক্ষতি
শেষ আপডেট: 24 March 2026 11:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “বেশি জল খাও, সুস্থ থাকো” এই চেনা উপদেশই কি কখনও বিপদ ডেকে আনতে পারে? চিকিৎসকদের (doctors) মতে, হ্যাঁ। শরীরের জন্য জল (water) যতটা জরুরি, তার অতিরিক্ত আবার মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল—ধরা যাক আট গ্লাস খেতেই হবে। কিন্তু এই ধারণা সবার ক্ষেত্রে খাটে না। নেফ্রোলজিস্ট (nephrologist) ডা. রামমোহন ভাটের (Dr Rammohan Bhat) কথায়, “প্রত্যেকের শরীরের প্রয়োজন আলাদা। কারও চার গ্লাসে চলে, কারও তিন বা দু’গ্লাসই যথেষ্ট। সবটাই নির্ভর করে কিডনি (kidney) কতটা জল সামলাতে পারছে তার উপর।” আসলে শরীর নিজেই জল ও টক্সিনের (toxins) ভারসাম্য বজায় রাখে কিডনির মাধ্যমে।
এই ভারসাম্য নষ্ট হলেই শুরু হয় সমস্যা। অতিরিক্ত জল খেলে হতে পারে ‘ওয়াটার ইনটক্সিকেশন’ (water intoxication)। এতে রক্তে সোডিয়ামের (sodium) মাত্রা কমে যায়, যাকে বলে ‘হাইপোন্যাট্রেমিয়া’ (hyponatremia)। এর প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের (brain function) উপর। বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি থেকে শুরু করে গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি (seizures) পর্যন্ত হতে পারে। যদিও বিরল, কিন্তু অসম্ভব নয়—বিশেষ করে জোর করে অতিরিক্ত জল খাওয়ার অভ্যাস থাকলে।
এই প্রসঙ্গে কিডনির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডা. ভাট জানাচ্ছেন, কিডনির কার্যক্ষমতা কমলে শরীরের অতিরিক্ত জল বের করে দেওয়ার ক্ষমতাও কমে যায়। তাই যাঁদের ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (chronic kidney disease) রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে জল খাওয়ার পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ঠিক করতেই হবে।
আরও একটি প্রচলিত ধারণা—বেশি জল খেলে শরীর ‘ডিটক্স’ (detox) হয় বা কিডনির সমস্যা সেরে যায়। এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বলছেন নেফ্রোলজিস্ট ডা. অঙ্কিতা দিলীপ পাতিল (Dr Ankita Dilip Patil)। তাঁর কথায়, “জল কিডনির কাজে সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু কোনও ক্ষতি সারিয়ে তুলতে পারে না।”
ইউরোলজিস্ট (urologist) ডা. রবি উপাধ্যায় (Dr Ravi Upadhyay) সতর্ক করছেন, সুস্থ মানুষও অতিরিক্ত জল খেয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। একসঙ্গে ১-২ লিটার বা দিনে ৭-৮ লিটার জল খেলে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
তাহলে ঠিক কতটা জল প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত দিনে ২-৩ লিটার (litres) তরলই যথেষ্ট। তবে সবচেয়ে সহজ নিয়ম—তেষ্টা পেলে জল খান। আবহাওয়া, কাজের পরিমাণ ও শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে জল খাওয়ার পরিমাণ ঠিক করুন।
সবশেষে একটাই কথা—জল জীবন, কিন্তু অতিরিক্ত জলও বিপজ্জনক। তাই অন্ধভাবে নিয়ম না মেনে, শরীরের সংকেতই হোক আসল পথপ্রদর্শক।