সাধারণ প্রচলিত ধারণা ঘুরে বেড়ায় যে, দিনে ১০,০০০ পা হাঁটলে সমস্ত রোগভোগ থেকে দূরে সরে থাকা যায়। কিন্তু, বৈজ্ঞানিকভাবে এর কোনও যুক্তি-প্রমাণ নেই। কিন্তু, এখন একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফসল আপনার সুস্থ থাকার সোনার ফসল ফলিয়ে দিয়েছে।

রোজ কত পা হাঁটলে আপনি কী ধরনের এক-একটি রোগ থেকে দূরে থাকবেন।
শেষ আপডেট: 24 July 2025 13:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘কতটা পথ পেরোলে তবে পথিক বলা যায়’। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে মানুষের জীবনযুদ্ধে ‘হাজার বছর ধরে’ পথ হাঁটারই কথা বলে গিয়েছেন কবিরা। তেমনই এখনকার কাজের চাপে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার জীবনচক্র ও রাস্তার তেলঝোলে ভরা খাবার খেয়ে অল্প বয়সেই রোগব্যাধির শিকার হতে হচ্ছে সকলকে। তাই ডাক্তারদের পরামর্শ রোজ সময় করে হাঁটুন। কিন্তু কতটা হাঁটলে সুস্থ থাকা যায়!
একটি সাধারণ প্রচলিত ধারণা ঘুরে বেড়ায় যে, দিনে ১০,০০০ পা হাঁটলে সমস্ত রোগভোগ থেকে দূরে সরে থাকা যায়। কিন্তু, বৈজ্ঞানিকভাবে এর কোনও যুক্তি-প্রমাণ নেই। কিন্তু, এখন একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফসল আপনার সুস্থ থাকার সোনার ফসল ফলিয়ে দিয়েছে। অত ঘাম না ঝরালেও চলবে। গবেষণায় স্তরে স্তরে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রোজ কত পা হাঁটলে আপনি কী ধরনের এক-একটি রোগ থেকে দূরে থাকবেন। এমনকী যমও আপনাকে ছুঁতে আসতে ডরাবে।
দ্য ল্যানসেট পাবলিক হেল্থ-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় এই হেঁটে রোগ সরিয়ে রাখার বৈজ্ঞানিক প্রমাণিত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই সমীক্ষা বলছে, দিনে ৭,০০০ পা হাঁটলেই আচমকা মৃত্যুর সম্ভাবনা বিশেষত হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যা অর্ধেক কমিয়ে ফেলা যাবে। এমনকী দিনে ৪,০০০ পা হাঁটলে কার্ডিওভাসকুলার রোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, স্মৃতিভ্রংশতা, হতাশায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
ল্যানসেটে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, একেবারে গোড়ার দিকে দিনে ২,০০০ পা হাঁটার অভ্যাস তৈরি করলেও অনেক উপকার মিলবে। প্রতি ১,০০০ পা হাঁটা থেকেই শারীরিক অনেক সমস্যা মিটে যাবে। এইভাবে হাঁটার অভ্যাস যত বাড়াতে থাকবেন, ততই আপনার শরীর নিরোগ হতে থাকবে। বিশেষত মন-মেজাজ ফুরফুরে থাকবে।
সাধারণ গতিতে হাঁটলে একজন মানুষ ৭,০০০ পা হাঁটলে কমবেশি ৩-৩.৫ কিমি পথ পেরতে পারেন। আর ৭,০০০ পা হাঁটলে মৃত্যুর যাবতীয় কারণ ৪৭ শতাংশ কমে যাবে। স্মৃতিভ্রংশতার ঝুঁকি কমবে ৩৮ শতাংশ, ঘনঘন পড়ে যাওয়ার ব্যারাম কমে যাবে ২৮ শতাংশ। সর্বোপরি কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রবণতা কমবে ২৫ শতাংশ। এছাড়াও হতাশা, টাইপ টু ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে।
সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, দিনে ৪,০০০ পা হাঁটলে উপরের সমস্ত রোগ প্রায় ৩৬ শতাংশ কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেনে রাখা ভাল, ১০,০০০ পা হাঁটার কল্পনাটির উৎস পেডোমিটারের একটি মার্কেটিং কোম্পানির প্রচার। ১৯৬৮ সালের টোকিও অলিম্পিক্সের পর এটা প্রচার করা হতে থাকে। এই প্রচারের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি না থাকলেও ১০,০০০ সংখ্যাটি জাপানিতে (万) একজন মানুষের হাঁটার প্রতীকের মতো দেখতে।