টাইফয়েড মানেই কি উচ্চমাত্রায় জ্বর? খেতে অনিহা? টাইফয়েড নিয়ে প্রচলিত ৫টি মারাত্মক ভুল ধারণা এবং সুরক্ষার সঠিক উপায় জানুন এই প্রতিবেদনে।

টাইফয়েড হলে কী করবেন, করবেন না?
শেষ আপডেট: 2 March 2026 18:49
দ্য ওয়াল আরোগ্য: বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং দূষিত জলের কারণে টাইফয়েড ঘরোয়া রোগের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন শুধু বর্ষাকালে নয়, যেকোনো সময়েই টাইফয়েড রোগী বাড়ছে। কিন্তু এই রোগটি নিয়ে আমাদের সমাজে এমন কিছু ভুল ধারণা বা 'মিথ' প্রচলিত আছে, যার ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় দেরি হয়ে যায়। আর এই দেরিই অনেক সময় রোগীর প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইফয়েড মোকাবিলায় এই ভুল ধারণাগুলো ভেঙে ফেলা অত্যন্ত জরুরি।
১. টাইফয়েড মানেই খুব উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর
অনেকেই ভাবেন, খুব বেশি জ্বর না আসা পর্যন্ত সেটি টাইফয়েড হতে পারে না। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, টাইফয়েডের জ্বর শুরুতে খুব সামান্য হতে পারে। এর সঙ্গে মাথাব্যথা, দুর্বলতা বা পেটে অস্বস্তি থাকতে পারে। প্রথম সপ্তাহে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। একে অবহেলা করে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে বসে থাকলে সংক্রমণ শরীরের গভীরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
২. খিদে ঠিক থাকলে টাইফয়েড নয়
একটি বড় ভুল ধারণা হলো— টাইফয়েড হলে রোগী একদমই খেতে পারে না। কিন্তু সবসময় তা নাও হতে পারে; সবার ক্ষেত্রে খিদে কমে যাওয়ার লক্ষণটি সমান নয়। বিশেষ করে শিশু বা তরুণরা শুরুর দিকে বেশ সক্রিয় থাকতে পারে এবং সামান্য খাবার খেতেও পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে তার ভেতরে সংক্রমণ নেই।
৩. পরিষ্কার ঘরে টাইফয়েড হয় না
অনেকে ভাবেন টাইফয়েড শুধু বস্তি এলাকা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের রোগ। কিন্তু টাইফয়েডের জীবাণু (Salmonella Typhi) চোখে দেখা বা ঘ্রাণে বোঝা যায় না। আপনার পানীয় জল, বরফ, কাঁচা সবজি বা বাইরের পরিচিত কোনো দোকান থেকে কেনা খাবারে এই জীবাণু থাকতে পারে। পরিষ্কার ঘর বা উচ্চবিত্ত পরিবারের লোকেরাও সমানভাবে এই রোগের ঝুঁকিতে থাকেন।
৪. জ্বর কমলেই অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করা যায়
ওষুধ খাওয়ার দু-তিন দিনের মাথায় জ্বর কমে গেলে অনেকেই মাঝপথে অ্যান্টিবায়োটিক বন্ধ করে দেন। এটি সবচেয়ে বড় বিপদ ডেকে আনে। এতে শরীরে ব্যাকটেরিয়া পুরোপুরি মরে না, বরং রোগটি আবার ফিরে আসতে পারে (Relapse)। এছাড়া অসম্পূর্ণ চিকিৎসায় শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসাকে আরও জটিল করে তোলে।
৫. একবার ভ্যাকসিন নিলে আর ভয় নেই
টাইফয়েড ভ্যাকসিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি আজীবন সুরক্ষা দেয় না। সময়ের সঙ্গে এর কার্যকারিতা কমে আসে। ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলেও পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপদ পানীয় জলের বিষয়ে সতর্ক থাকা বাধ্যতামূলক।
কেন হয় টাইফয়েড?
টাইফয়েড বা 'এন্টারিক ফিভার' মূলত সালমোনেলা টাইফি নামক ব্যাকটেরিয়ার একটি মারাত্মক সংক্রমণ, যা সরাসরি আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্র বা অন্ত্রে আঘাত হানে এবং এর ফলে প্রচণ্ড জ্বর ও পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক সময় এর সঙ্গে প্যারাটাইফয়েড-এর কথা শোনা যায়, যা সালমোনেলা প্যারাটাইফি নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এটি টাইফয়েডের মতোই হলেও এর লক্ষণগুলো সাধারণত কিছুটা মৃদু প্রকৃতির হয়ে থাকে। তবে মনে রাখা জরুরি যে, টাইফয়েড বা প্যারাটাইফয়েড সৃষ্টিকারী এই ব্যাকটেরিয়াগুলো সাধারণ ফুড পয়জনিং সৃষ্টিকারী সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থেকে সম্পূর্ণ আলাদা; তাই একে সাধারণ পেটের গোলমাল ভেবে ভুল করা বিপজ্জনক হতে পারে।
এই সময়ের সাবধানতা
পরিচ্ছন্ন জল পান করুন। প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে পান করুন। কাঁচা সবজি বা ফল খুব ভালো করে ধুয়ে খান। বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন। হাত ভাল করে ধুয়ে খাবার খান। পেটের গোলমাল দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।