শিশুদের কোমল ত্বকে রঙের রাসায়নিক ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। চকচকে আবিরে থাকা কাঁচের গুঁড়ো ও বিষাক্ত ধাতু থেকে সন্তানদের বাঁচাতে কী করবেন? রঙের উৎসবে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে বাড়তি নজরদারি একান্ত প্রয়োজন

দোলের দিন শিশুদের জন্য বিশেষ সতর্কতা মানুন
শেষ আপডেট: 1 March 2026 20:54
বসন্তের রঙে মাতোয়ারা চারপাশ। আর দোল মানেই সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা শিশুদের মধ্যে। খুদে মনের রঙিন আবদারে অনেক সময় বাবা-মায়েরা নিজেরাও গা ভাসিয়ে দেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার সামান্য অসতর্কতা শিশুর কোমল শরীরে বড়সড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই রঙের উৎসবে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে বাড়তি নজরদারি একান্ত প্রয়োজন।
রঙে মিশছে ভারী ধাতু, ত্বকে লুকিয়ে বিপদ
বাজারচলতি লাল, নীল বা সবুজ রঙে মেশানো থাকে Lead (সীসা), Mercury (পারদ) বা ক্রোমিয়ামের (Chromium) মতো ক্ষতিকারক ভারী ধাতু। শিশুদের ত্বক অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এই রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলেই ত্বকে প্রদাহ, র্যাশ বা মারাত্মক অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এই অ্যালার্জি (Allergy) কেবল ত্বকে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা থেকে ‘অ্যানাফাইল্যাকটিক শক’ (Anaphylactic shock) -এর মতো প্রাণঘাতী সমস্যাও হতে পারে। তাই রং খেলার পর শিশুর শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা বা ঢোক গিলতে সমস্যা হলে এক মুহূর্ত দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চকচকে আবির মানেই কাঁচের গুঁড়ো!
দোকানে যে সমস্ত আবির খুব বেশি চকচক করে, সেগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো। এই জেল্লা আনতে আবিরে মেশানো হয় কাঁচের মিহি গুঁড়ো। যা শিশুর নরম ত্বকে ঘষা লেগে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। এছাড়া জল নিয়ে দীর্ঘক্ষণ মাতামাতি করলে শিশুদের ঠান্ডা লাগা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যায়।
চোখ ও শ্বাসনালীর সুরক্ষা
রঙ খেলার সময় অসাবধানতায় রং বা আবির চোখে ঢুকে গেলে ‘অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস’ হতে পারে। এছাড়া যেসব শিশুর হাঁপানি বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে, আবিরের গুঁড়ো শ্বাসনালীতে ঢুকে তাদের শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব ভেষজ বা হার্বাল রং ব্যবহারের ওপর জোর দিন। ফুলের নির্যাস থেকে তৈরি প্রাকৃতিক আবির অনেক বেশি নিরাপদ।
ভাইরাস ঘটিত রোগ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা
বর্তমানে ঋতুপরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, চিকেন পক্স বা হামের প্রকোপ বেড়েছে। অনেকেরই ভুল ধারণা আছে যে, পক্স বা হাম হলে দোল খেললে নাকি রোগ সেরে যায়। এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং বিপজ্জনক ধারণা। মনে রাখবেন, এগুলো ছোঁয়াচে রোগ। শরীরে র্যাশ বা জ্বর থাকলে রং খেললে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। এমন অবস্থায় শিশুকে বিশ্রামে রাখুন এবং প্রচুর পরিমাণে জলপান করান।
আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কী করবেন?
১. রং খেলার সময় ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি হলে তৎক্ষণাৎ পরিষ্কার জল দিয়ে সেই জায়গা ধুয়ে ফেলুন। ভুলেও অপরিচ্ছন্ন জল ব্যবহার করবেন না।
২. চোখে রং ঢুকলে পরিষ্কার জলের ঝাপটা দিন।
৩. রং ধোয়ার পর ত্বকে প্রদাহ হলে অ্যালোভেরা জেল লাগানো যেতে পারে। তবে সমস্যা বাড়লে ঘরোয়া টোটকার ভরসায় না থেকে ডাক্তার দেখান।
৪. চোখ বা নাক দিয়ে রং ঢুকে গেলে তা পরবর্তীকালে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা ফুসফুসের জটিলতা তৈরি করতে পারে, তাই সবসময় সতর্ক থাকুন।
৫. ঋতুপরিবর্তনের সঙ্গে হাম, পক্সের প্রকোপ বাড়ে। তাই জ্বরের সঙ্গে র্যাশ হলে ডাক্তার দেখান। এগুলি ছোঁয়াচে।
মনে রাখবেন, উৎসবের আনন্দ থাকুক অটুট, কিন্তু তার আগে সুনিশ্চিত হোক আপনার সন্তানের নিরাপত্তা।