ফোনে নিউজ আপডেট, সোশ্যাল মিডিয়ায় রিঅ্যাকশনের দ্রুততা - এগুলো মস্তিষ্ককে একাধিক দিকে ভাগ করে দেয়, ফলে মনোযোগের সাইকল খুব ছোট হয়ে যায়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 August 2025 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল ব্যস্ত জীবনে ডিজিটাল যুগে (digital era) স্ট্রেস (stress) নিয়ে জেরবার মানুষ। কাজের ডেডলাইন হোক বা সোশ্যাল মিডিয়ার তীব্র আকর্ষণ – অনেকেই এখন মনোযোগ (Concentration level) কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। কখনও কখনও আমরা মনকে চালনা করতে পারছি না, বরং মনই আমাদের কাজের ক্ষেত্র থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পরিসরে বিভ্রান্ত করে চলেছে।
২০১৯ সালে Nature Communications-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আজকের ডিজিটাল যুগে সেকেন্ডে সেকেন্ডে হাজারো তথ্য মানুষের কাছে ভিড় জমাচ্ছে। ফলে তার প্রভাব পড়ছে মনোযোগে। বিভিন্ন কাজে যেমন ভাগ হয়ে যাচ্ছে মনোযোগ, তেমনই স্বল্পস্থায়ী করে তুলছে। ফোনে নিউজ আপডেট, সোশ্যাল মিডিয়ায় রিঅ্যাকশনের দ্রুততা - এগুলো মস্তিষ্ককে একাধিক দিকে ভাগ করে দেয়, ফলে মনোযোগের সাইকল খুব ছোট হয়ে যায়।
এ সমস্যা দূর করার এক কার্যকর উপায় হল - মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন (mindfulness meditation)। এটি শুনতে এক সাধারণ পরামর্শ হলেও ২০২৫ সালের একটি গবেষণা বলছে, মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মনোযোগ এবং শারীরিক উত্তেজনা বা এক্সাইটমেন্ট উভয়ের উপর দারুণ প্রভাব ফেলে। গবেষকরা EEG ব্যবহার করে আলফা ব্রেইনওয়েভের (alpha brainwave) পরিবর্তন এবং স্কিন কন্ডাক্ট্যান্স লেভেল (SCL) পর্যবেক্ষণ করেছেন।
মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন আসলে কী?
মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন হল মনে ঠিক কী চলছে এই মুহূর্তে, নিজের শ্বাসপ্রশ্বাস, অনুভূতি, চারপাশের শব্দ - সব কিছু শুধু লক্ষ্য করা, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়ার চিন্তা না করা। এর মুল লক্ষ্য মনকে পুরোপুরি বর্তমান মুহূর্তে রাখা এবং চিন্তাকে পর্যবেক্ষণ করা। এটা স্ট্রেস কমায়, মন শান্ত রাখে, মনোযোগ বাড়ায়।
গবেষণার তিনটি মূল পর্যবেক্ষণ বলছে -
কীভাবে প্র্যাকটিস করবেন মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন?
শান্ত হয়ে এক জায়গায় বসুন। চোখ বন্ধ করে নাক দিয়ে শ্বাস নিন, যেন পেটে বাতাস ভরছে বলে মনে হয় (বুকে নয়)। একটু শ্বাস ধরে রাখুন, তারপর আস্তে আস্তে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। পুরো সময়টা যেন হয় শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে নজর থাকে বা চারপাশের শব্দ কানে আসে, সমস্ত শারীরিক অনুভূতি বোঝা যায় - এমন তবে খাওয়ার একদম পরপর না করাই ভাল, তাতে পেটে চাপ পড়ে।
মনকে বর্তমান মুহূর্তে রাখতে পারলে জীবনের ছোট আনন্দও উপভোগ করা সম্ভব হয়, যেমন ভাল একটি খাবারের স্বাদ বা কথা বলার সময় অনুভূতি। ফোকাস বাড়ানো কেবল কাজের জন্য নয়, বরং জীবনের সব দিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।