মানুষ অনলাইনের দুনিয়ায় এত নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে কেন? একটা স্ক্রিনকে ঢাল বানিয়ে তাঁরা এমন সব কথা উগরে দেয় যেন, যা সামনে দাঁড়িয়ে কখনও বলত না?

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 July 2025 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্টারনেট যেখানে আমাদের একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে সেটাই হয়ে ওঠে অপমান, কটাক্ষ আর নিষ্ঠুরতার আখড়া। ফেসবুক-টুইটার-ইনস্টাগ্রামের কমেন্ট বক্সে ঘৃণা, কিংবা ডিএম (DM)-এ নিছক নোংরামি।
প্রশ্ন উঠছে, মানুষ অনলাইনের দুনিয়ায় এত নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে কেন? একটা স্ক্রিনকে ঢাল বানিয়ে তাঁরা এমন সব কথা উগরে দেয় যেন, যা সামনে দাঁড়িয়ে কখনও বলত না?
এই প্রশ্নের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন মার্কিন থেরাপিস্ট জেফ্রি মেল্টজার। গত ২৩ জুলাই নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি এই ডিজিটাল নিষ্ঠুরতার পিছনের আসল কারণ তুলে ধরেছেন।
স্ক্রিনের আড়ালে নিষ্ঠুর হওয়ার সাহস কোথা থেকে আসে?
জেফ্রির মতে, “এই অনলাইন আগ্রাসনের একটা বৈজ্ঞানিক নাম আছে — Emotional Disinhibition। স্ক্রিনের পেছনে মানুষ নিজেকে নিরাপদ মনে করে। সেখানে চোখে চোখ রাখা নেই, মুখের প্রতিক্রিয়া চোখের সামনে ফুটে ওঠে না, কৃতকর্মের সঙ্গে সঙ্গে কোনও ফলভোগও নেই। ফলে, মানুষ অন্যের দিকে ছুড়ে দেওয়া কথার জন্য নিজেকে কম দায়বদ্ধ মনে করে। সহানুভূতিশীল হওয়ার মাত্রাও অনেকটাই কমে যায়।”
তিনি আরও জানান, “এই ডিসইনহিবিশন মানে হল — মানুষ এমন সব কথা বা আবেগ প্রকাশ করে ফেলে, যেগুলো তারা সামনে দাঁড়িয়ে কোনওদিন বলত না। অনেক সময় উদ্দেশ্য থাকে শুধুই প্রতিক্রিয়া পাওয়া। কেউ কেউ মজা পায়, কেউ ট্রোল করে, কেউ আবার অন্যদের দেখে যোগ দেয় — একধরনের mob mentality তৈরি হয়, যেখানে নিষ্ঠুরতা ভাইরাল হয়ে পড়ে। কেউই তার দায় নিতে চায় না।”
‘জাস্ট জোকিং’ বলেই সবসময় দায় এড়ানো যায় না। মেল্টজার ব্যাখ্যা করেন, এরপরেই আসে moral disengagement — মানে, নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।
জেফ্রির কথায়, সাধারণত তখন দায় এড়াতে মানুষ তখন বলে, ‘আমি তো মজা করছিলাম’, বা ‘আমি তো তেমন কিছু বলিনি’, বা ‘অন্যরা তো আরও খারাপ বলেছে’। এর মাধ্যমে তারা নিজের আচরণকে হালকা করে দেখে, যেন নিজে কিছুই করেনি।
এই পোস্টের শেষে মেল্টজার বলেন, “আসলে, বেশিরভাগ মানুষ সামনাসামনি কখনও ওই কথাগুলো বলত না। তার মানে এই নয় তারা আলাদা মানুষ, বরং সামনে একটা মানুষ দাঁড়িয়ে থাকলে, তখন তারা বুঝতে পারে — কথার একটা প্রভাব আছে। প্রতিক্রিয়া আছে। ফল আছে।”