চিনি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন? এ তো খুবই ভাল অভ্যাস। কিন্তু তার বদলে যা খাচ্ছেন, তা উল্টে শরীরের ক্ষতি করছে না তো?

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 5 September 2025 14:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন? এ তো খুবই ভাল অভ্যাস। চিনির অপকারিতা নিয়ে আজকাল আমরা সবাই কমবেশি সচেতন। কিন্তু তার বদলে বাজারজাত আর্টিফিশিয়াল সুইটনার বা কৃত্রিম মিষ্টি বেছে নিয়েছেন? তাহলে এই প্রতিবেদন আপনার জন্য।
উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে এক গবেষণা। কী বলছে তার ফলাফল?
গবেষণা হয়েছিল, ডায়েট সোডা বা কৃত্রিম মিষ্টি (Artificial Sweeteners) যুক্ত পানীয় খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে। এই অভ্যাস কি মস্তিষ্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর? নতুন এক সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষকরা বলছেন, অ্যাসপারটেম (Aspartame) বা স্যাকারিন (Saccharin)-এর মতো কৃত্রিম মিষ্টি নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি ও শব্দ মনে রাখার ক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে।
কী বলছে গবেষণা?
বিশ্ববিখ্যাত জার্নাল নিউরোলজি (Neurology)-তে প্রকাশিত এই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা সবচেয়ে বেশি কৃত্রিম মিষ্টি খাচ্ছেন, তাঁদের চিন্তাশক্তি ক্ষয়ে যাচ্ছে অন্যদের তুলনায় ৬২ শতাংশ দ্রুত। এর মানে, মস্তিষ্কের বয়স বাড়ছে গড়ে ১.৬ বছর।
গবেষণা চলাকালীন দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মিষ্টি খাওয়ার স্তরে থাকা অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৯১ মিলিগ্রাম কৃত্রিম মিষ্টি খেতেন, যা এক চামচ চিনি বা একটি ডায়েট সোডার সমান। উল্লেখ্য, একটি ডায়েট সোডাতেই থাকে ২০০ থেকে ৩০০ মিলিগ্রাম কৃত্রিম মিষ্টি।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, মাঝারি স্তরে যাঁরা মিষ্টি খেয়েছেন, তাঁদের মস্তিষ্কের বয়স বেড়েছে প্রায় ১.৩ বছর। শুধু পানীয় নয়, স্বল্প-ক্যালোরির ডেজার্ট, ফ্লেভারড ওয়াটার, এনার্জি ড্রিঙ্কেও আছে এই ক্ষতিকর মিষ্টি।
কীভাবে চালানো হয় সমীক্ষা?
ব্রাজিলের প্রায় ১৩ হাজার মানুষের ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। গড় বয়স ছিল ৫২। শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাসের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর প্রায় ৮ বছর ধরে তিন দফায় নানা স্মৃতি-পরীক্ষা ও জ্ঞানগত দক্ষতার পরীক্ষা করা হয়। তাতেই মিলেছে চাঞ্চল্যকর ফলাফল।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে কৃত্রিম মিষ্টি
গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার একটি সমীক্ষা জানিয়েছিল, দিনে মাত্র এক ক্যান ডায়েট সোডা খাওয়ার অভ্যাসে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায় ৩৮ শতাংশ। অবাক করা বিষয়, কৃত্রিম মিষ্টি যুক্ত সফট ড্রিঙ্কের ঝুঁকি আরও বেশি, যা সাধারণ চিনিযুক্ত পানীয় থেকেও বেশি ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, “কৃত্রিম মিষ্টি হয়তো ক্যালোরি কমায়, কিন্তু নিয়মিত খেলে তা মেটাবলিজমের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। শরীরের প্রতিরোধক্ষমতাও কমে যায়।”
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
কার্ডিওলজিস্ট ও নিউরোলজিস্টদের মতে, কৃত্রিম মিষ্টি বা ডায়েট পানীয় খাওয়াকে ‘চিনি ছাড়া নিরাপদ’ ভেবে নেওয়া একেবারেই ভুল। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, স্মৃতি, চিন্তাশক্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও বিপাকজনিত সমস্যাও বাড়তে পারে।
অতএব, লো-ক্যালোরি বা সুগার-ফ্রি নামেই নিরাপদ ভেবে খাওয়া যাবে না, তাতে বরং শরীর ও মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে।”