.webp)
শেষ আপডেট: 11 December 2023 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা দিন বাইরে কাজ করে রাতে বাড়িতে ঢুকে যখন দেখেন, প্রিয় পোষ্যটি দরজার সামনে লেজ নাড়ছে, মন ভাল হয়ে যায়। আবার রাতবিরেতে মনখারাপ হলে কোলের কাছে যখন টেনে নেন নরম নরম তুলোর মতো বিড়ালছানাটিকে, মনখারাপও সেই সঙ্গে উধাও। বাড়িতে পোষ্য থাকা মানে কতশত মনখারাপ, হতাশা, বিরক্তি থেকে মুক্তি।
তবে পোষ্য রাখা মানে তার দায়িত্বও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বিশেষ করে বিড়াল পুষলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতেই হয়।
বিড়াল পোষার শখ হলে কী কী বিষয় জেনে রাখা জরুরি?
বিড়ালের খাওয়ার বাটি নিয়মিত পরিষ্কার করুন, সবসময় বাটিতে জল রাখুন। বিড়াল তার পছন্দের খাবারই খায়। খাওয়াদাওয়া নিয়ে বেশি জ্বালা নেই তার। দেখবেন পছন্দের খাবারই বার বার খেতে চাইছে।
অনেকেই বাড়ির পোষ্য বিড়ালকে গরুর দুধ খাওয়ান। নিজেদের খাওয়ার জন্য যে দুধ আসে, তার থেকেই ভাগ দেন পোষ্যকে। কিন্তু জানেন কি, এই দুধ বিড়ালের নানা ক্ষতি করতে পারে? বহু বিড়ালেরই ল্যাকটোজে সমস্যা থাকে। আপাত ভাবে তাদের দেখে কোনও সমস্যা বোঝা যায় না। কিন্তু দীর্ঘ দিন ওই জাতীয় দুধ খেতে খেতে তাদের পেটের নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই ল্যাকটোজ ছাড়া দুধই বিড়ালকে দেওয়া উচিত।
একদম ছোট্ট বিড়ালছানা আনলে দেড় থেকে দু’মাস বয়স হলে তাকে কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। আর এর এক সপ্তাহের মধ্যে অবশ্যই টিকা দিতে হবে। তিন মাস পর আবার ওই টিকা দিতে হবে। ট্রাইক্যাট ও রেবিস-এই দুই টিকা দিতে হবে।
বিড়ালের জন্য নির্দিষ্ট লিটার বক্স রাখুন। শুরু থেকে সেই বক্সেই মলত্যাগ করার অভ্যেস করান। প্রত্যেক দিন সেই বক্স পরিষ্কার করার দায়িত্ব আপনারই।
পোষা বিড়ালের ঘুমোনোর জন্যও আলাদা বেডিংয়ের ব্যবস্থা করুন। সেই বেডিংও নিয়ম করে পরিষ্কার রাখুন। এমন বেডিংও কিনতে পারেন যা পরিষ্কার করা যায় সহজে।
বিড়াল খুবই স্বাধীনচেতা, সে কথা যেমন সত্যি, তেমনই এটাও মাথায় রাখা দরকার, বিড়াল মোটেই একা থাকতে পছন্দ করে না। বিশেষ করে বাড়ির পোষ্য বিড়ালকে যদি একা রাখা হয়, তা হলে সে প্রচণ্ড উদ্বেগে ভুগতে থাকে। বাড়ির অন্য সদস্যরা তার আশপাশে থাকলেই সে সবচেয়ে খুশি হয়।
পোষ্য সামনে থাকলে কখনও চড়া গন্ধের বডি স্প্রে ব্যবহার না করা ভাল। সুগন্ধী যদি হাল্কা মেজাজের হয়, তবে অসুবিধা নেই। না হলে খেয়াল রাখতে হবে, তা ব্যবহার করার সময়ে যাতে ঘরে না থাকে পোষা বিড়াল।
অনেকেই ভাবেন, বিড়ালের ডিপথিরিয়া রোগ হয়। আসলে বিড়ালের ডিপথিরিয়া হয় না। সে ওই অসুখের বাহক। তাই এই রোগের ক্ষেত্রে বিড়ালকে টিকাকরণ করা সম্ভব নয়। বাড়িতে গর্ভবতী মহিলা থাকলে বিড়ালের সঙ্গে তাঁর না শোয়াই শ্রেয়। কারণ, অনেক সময় বিড়াল থেকে রোগে আক্রান্ত হতে পারেন ওই মহিলা। এক্ষেত্রে একটু সাবধানতা প্রয়োজন।