
শেষ আপডেট: 21 December 2023 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঋতু বদলের সময় নানা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার উপদ্রব বাড়ে। ফলে মরশুমি জ্বরের প্রকোপও বাড়ে। বিশেষ করে শীতকালে বিভিন্ন রকম জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এই সময়টাতে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি, ভাইরাল জ্বর এমনকী নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণও দেখা যায়। সল্টলেকের আইএলএস হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ফিজিশিয়ান ডা. সর্বজিৎ রায় বলছেন, শীতে ভাইরাল জ্বর সবচেয়ে বেশি ছড়ায়। শিশু ও বয়স্কের চট করে সংক্রমণ ধরে যায়। এই সময় তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
ডা. সর্বজিৎ রায় বলছেন, সর্দি-কাশির নিরীহ অ্যাডেনোভাইরাস এখন করোনার থেকেও বেশি ছোঁয়াচে। আরও কিছু ভাইরাস আছে যারা মাথাচাড়া দিয়েছে। এখন যে জ্বর, সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা ইত্যাদি হচ্ছে তার কারণ হল--অ্যাডেনোভাইরাস, রাইনোভাইরাস, রেসপিরেটারি সিনসিটিয়াল ভাইরাস ও ইনফ্লুয়ে়ঞ্জা ভাইরাস। ডাক্তারবাবু বলছেন, এইসব ভাইরাস কোভিডের (সার্স-কভ-২) চেয়েও বেশি তাড়াতাড়ি ছড়াতে পারে। অনেক বেশি ছোঁয়াচে।
ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার এত বাড়বাড়ন্তের কারণ হল খামখেয়ালি আবহাওয়া। কখনও ঠান্ডা, আবার কখনও গরম, এত দ্রুত আবহাওয়া বদলাচ্ছে যে রোগজীবাণুরাও আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে। একটা সময় ঋতু বদলের সময়েই বেশি সর্দি-জ্বর হত। এখন আবহাওয়ার কোনও ঠিকঠিকানাই নেই। আজ গরম, তো কাল ঠান্ডা, পরশু বৃষ্টি। এই বদলটা এত ঘন ঘন হচ্ছে, জীবাণুরাও পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে। দ্রুত বংশবিস্তার করছে। আরও বেশি সংক্রামক ও ছোঁয়াচে হয়ে উঠছে।
ডাক্তারবাবু বলছেন, সর্দি-কাশির অ্যাডেনোভাইরাস, রাইনোভাইরাস করোনার চেয়েও বেশি ছোঁয়াচে হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস তো রয়েছেই। রেসপিরেটারি সিনসিটিয়াল ভাইরাসও (RSV) জ্বর, গলা ব্যথার কারণ। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের অনেকগুলো ধরন আছে—টাইপ এ, টাইপ বি, এইচ১এন১ (নন-সোয়াইন ফ্লু)। শহরে এখন এই এইচ১এন১ ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি হচ্ছে। গা গরম, ধুম জ্বর, হাত-পায়ে ব্যথা, দুর্বলতা, অনেক সময় শ্বাসকষ্টও ভোগাচ্ছে। তাই টানা জ্বর থাকলে নিজে ডাক্তারি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি কোমর্বিডিটি রোগীদের তাড়াতাড়ি সংক্রমিত হওয়ার ভয় থাকে। তাই শীতের এই সময়টাতে নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন বা ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়া থাকলে ভয় কম। ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। বড় বিপদের আশঙ্কা থাকে না।
ডাক্তারবাবু বলছেন, এইসব ভাইরাসের সংক্রমণ হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যায়। ফলে পরিবারে একজনের হল তা থেকে বাকিদেরও রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে বাচ্চা ও বয়স্কদের। তাই অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। ডাক্তারবাবুর পরামর্শ, যাঁরা বাইক চালান বা বাইরে ঘুরে ঘুরে কাজ করেন তাঁরা যদি এই সময়টাতে উপযুক্ত গরম জামাকাপড় পরা-সহ সতর্কতাগুলি মেনে চলেন তাহলে অনেকটাই রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে পারেন।