গরম যত বাড়বে, তত প্রয়োজনীয়তা বাড়বে পানীয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সচেতনতার, যাতে সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যের কোনওটাই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

গরমে কী পানীয় বেছে নিচ্ছেন আপনি?
শেষ আপডেট: 19 May 2025 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরমে ক্ষণিক শান্তি চাইছে শরীর মন। অমনি ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা পানীয় (summer drink) ঢকঢক করে গলায় ঢালতে আর কতক্ষণ! গরমকাল পড়া মানেই কোল্ড ড্রিঙ্ক (cold drinks), নানারকম জুস (juice), সোডা (soda) অনেকের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আরামদায়ক পানীয়গুলো চুপিসারে ত্বক ও দাঁতের মারাত্মক ক্ষতি করে।
চিনি মেশানো সফট ড্রিঙ্ক (soft drink), টক-মিষ্টি প্যাকেটজাত জুস (packaged juice), আর্টিফিশিয়াল সুইটনার দেওয়া মকটেল- এসবই মাত্রাতিরিক্ত চিনি ও অ্যাসিডিক উপাদানে ভরপুর, যা ত্বক ও মুখের স্বাস্থ্য দুটোকেই প্রভাবিত করে। এই পানীয়গুলো নিয়মিত খেলে দেখা দিতে পারে একাধিক সমস্যা।
বেশি চিনি খেলে বাড়ে ব্রনর প্রকোপ, ত্বক হয়ে পড়ে নিস্তেজ। অন্যদিকে, অ্যাসিড দাঁতের এনামেল দুর্বল করে তোলে- ফলে দাঁতে ব্যথা, সংবেদনশীলতা এবং ক্যাভিটির ঝুঁকি বাড়ে। এমনকী ‘হেলদি’ বলে পরিচিত বাজারজাত ফলের রস বা ফ্লেভারড ওয়াটারেও থাকে চিনি, নানারকম কেমিক্যাল। এগুলো দাঁতের ক্ষয়ের জন্য দায়ী তো বটেই, ত্বকেও দ্রুত বয়সের ছাপ ফেলতে সক্ষম।
গরম যত বাড়বে, তত প্রয়োজনীয়তা বাড়বে পানীয় বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সচেতনতার, যাতে সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যের কোনওটাই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। চিকিৎসকরা তাই তেষ্টা মেটাতে প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। ডাবের জল, শশার ডিটক্স ওয়াটার, চিনি ছাড়া লেবু-নুনের শরবত, বা ঘোল খেতে পারেন। এই ধরনের পানীয় শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বক ও দাঁতের খেয়াল রাখে।
আন্তর্জাতিক অ্যাসথেটিক চিকিৎসক ও প্রশিক্ষক ড. দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ‘গরমে ঠান্ডা পানীয় স্বস্তিদায়ক মনে হলেও, যেগুলোতে চিনি বা অ্যালকোহল বেশি থাকে, সেগুলো শরীরকে ডিহাইড্রেটেড করে দেয়, পাশাপাশি ত্বককেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিয়মিত জল, ভেষজ চা (হার্বাল টি) বা ডাবের জল ত্বকের নমনীয়তা ও ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর সঙ্গে রোদ থেকে সুরক্ষার কথা তো ভাবতেই হবে। SPF 30 বা তার বেশি (ভাল হয় যদি SPF 50 হয়) সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, চড়া রোদে থাকলে তিন-চার ঘণ্টা অন্তর লাগান। ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। যদি সম্ভব হয় রোদ এড়িয়ে চলুন। গরমের কথা মাথায় রেখে হেলদি লাইফস্টাইল মানেই সঠিক পানীয় বাছাই এবং নিয়ম মেনে স্কিন কেয়ার।’
এএম মেডিকেল সেন্টারের প্রোস্থোডনটিক্স বিভাগের চিকিৎসক ড. মুন চট্টরাজ বলেন, ‘গরমে যেসব পানীয় চিনি বা সাইট্রাসজাতীয় উপাদানে ভরপুর, সেগুলো দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দেয়। এনামেল শরীরের একমাত্র অংশ যা একবার নষ্ট হলে আর নিজে থেকে গঠিত হয় না। এনামেল হারালে নিচের ডেন্টিন বেরিয়ে পড়ে, ফলে দাঁত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এই পানীয়গুলো দাঁতে প্লাক তৈরি করে, যা দুর্গন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার জন্য দায়ী।'
ড. চট্টরাজ আরও বলেন, 'অনেকে মনে করেন স্ট্র ব্যবহার করলে ক্ষতি কম হয়, কিন্তু তাও এনামেল ক্ষয় ঠেকাতে পারে না। মুখের হাইজিন রুটিন সব সময়ই বজায় রাখা জরুরি। দিনে দু’বার ব্রাশ, খাবারের পর কুলকুচি, সপ্তাহে একবার মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন। বছরে একবার প্রফেশনাল স্কেলিং কিন্তু জরুরি।’