কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার ফলে ঘাড় ও কাঁধে টান বা ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। বরফের সেঁক থেকে শুরু করে সহজ ব্যায়ামে মিলবে আরাম। জেনে নিন ঘরোয়া উপায়গুলি।

এসব উপায়ে মিলবে স্বস্তি
শেষ আপডেট: 26 July 2025 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধুনিক কাজের দুনিয়ায় অফিস হোক বা বাড়ি, কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপের সামনে একটানা বসে কাজ করা এখন নিত্যদিনের অভ্যাস। দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কাজ করলে শুধু চোখের উপর চাপ পড়ে না, কাঁধ ও ঘাড়েও দেখা দিতে পারে ব্যথা, অস্বস্তি বা টান। এর সঙ্গে যুক্ত হয় মোবাইল ঘাঁটার অভ্যাস। ফলে দেহের উপরের অংশের মাংসপেশিতে তৈরি হয় অতিরিক্ত চাপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করলে ঘাড়-কাঁধে ব্যথা বা টান অনুভূত হওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। সময়মতো সতর্ক না হলে এই যন্ত্রণাই ভবিষ্যতে স্পন্ডিলাইটিসের মতো সমস্যার রূপ নিতে পারে। তবে চিকিৎসার আগে কিছু ঘরোয়া উপায়ে প্রাথমিক আরাম পাওয়া সম্ভব। দেখে নেওয়া যাক এমনই কয়েকটি সহজ উপায়—
অফিস হোক বা বাড়ি, চেয়ারে বসে কাজ করার সময় অবশ্যই মেরুদণ্ড সোজা রাখা প্রয়োজন। কোমর যেন বেঁকে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সোজা হয়ে বসে পিঠ টানটান করে নিতে হবে। এরপর মাথার উপরে দু’হাত তুলে ধীরে ধীরে সামনের দিকে ও পিছনের দিকে ঝোঁকার চেষ্টা করুন। এই ব্যায়াম দিনে অন্তত ৪-৫ বার করলে ঘাড়-কাঁধের চাপ কিছুটা কমতে পারে।
যাঁদের দীর্ঘ সময় বসে থাকার পর পিঠে ব্যথা হয়, তাঁরা মাটিতে শুয়ে এই ব্যায়াম করতে পারেন। এক পা সোজা রেখে, অন্য পা হাঁটু ভাঁজ করুন। এরপর পাশে ফিরে এক হাত মাথার নিচে রাখুন এবং অপর হাতটি ধীরে ধীরে তুলে মাটিতে স্পর্শ করানোর চেষ্টা করুন। এই ব্যায়াম দু’পাশে ৫ বার করে করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
ঘাড় বা কাঁধের যন্ত্রণায় বরফের সেঁক অনেক সময় কার্যকর হতে পারে। কয়েকটি বরফের টুকরো তোয়ালে বা রুমালে মুড়ে ব্যথার জায়গায় ১০-২০ মিনিট ধরে রাখলে মাংসপেশির যন্ত্রণা কিছুটা কমে যেতে পারে।
যাঁদের ঠান্ডা লাগার ধাত রয়েছে, তাঁরা বরফের পরিবর্তে গরম তোয়ালেতে সেঁক দিতে পারেন। গরম জলে তোয়ালে ভিজিয়ে ব্যথার জায়গায় দিনে অন্তত ১০ মিনিট রাখলে স্বস্তি মিলতে পারে। চাইলে গরম তাওয়ার উপরে রুমাল গরম করে তা দিয়েও সেঁক দেওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা হালকা থাকলে এই পদ্ধতিগুলি আরাম দিতে পারে। তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উচিত।