১২ বছরের আগেই হাতে স্মার্টফোন? গবেষণা বলছে, বাড়ছে ডিপ্রেশন, ওবেসিটি ও ঘুমের সমস্যা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 2 December 2025 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাদের আধুনিক জীবনে স্মার্টফোন এখন যেন এক অপরিহার্য সঙ্গী। কিন্তু শিশুদের হাতে এই ডিভাইস তুলে দেওয়া কতটা নিরাপদ? হাতে মুঠোফোনের সহজলভ্যতা কি অজান্তেই ডেকে আনছে মানসিক ও শারীরিক বিপদ? সম্প্রতি এক নতুন গবেষণা সেই উদ্বেগকেই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গবেষণা বলছে, ১২ বছর বয়সের আগেই যে শিশুরা স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করে, তাদের শরীরে বিভিন্নরকম সমস্যা দেখা দিতে থাকে। তার মধ্যে রয়েছে, ঘুম কম হওয়া, স্থূলতা (Obesity) এবং বিষণ্নতা বা হতাশা (Depression)-এর ঝুঁকি। সম্প্রতি 'পেডিয়াট্রিক্স' (Pediatrics) জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গবেষকরা আরও দেখেছেন যে, শিশুরা যত কম বয়সে প্রথম স্মার্টফোন পায়, তাদের মধ্যে এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি তত বাড়ে। এই গবেষণার প্রধান লেখক এবং চিলড্রেন'স হসপিটাল অফ ফিলাডেলফিয়ার শিশু ও কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. রান বারজিলে (Dr. Ran Barzilay) এবিসি নিউজকে জানান, বহু বিশেষজ্ঞই পরামর্শ দেন যে বাবা-মায়েদের উচিত শিশুদের প্রথম স্মার্টফোন দেওয়ার বয়স পিছিয়ে দেওয়া।
বারজিলে জানান, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছিলেন যে শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহার পিছিয়ে না দিলে তা স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে কিনা। এই গবেষণার পিছনে তাঁর ব্যক্তিগত কারণও ছিল। তিনি বলেন, "আমার নয় বছরের একটি সন্তান আছে, যে ফোন চাইছে। আমি মনে করি, বয়ঃসন্ধির আগে বা সেই সময়ে এটি প্রত্যেক বাবা-মায়ের জন্য একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন।"
ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া এবং কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এই গবেষণার জন্য ১০,৫০০-এরও বেশি অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁরা ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের তথ্য ব্যবহার করেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ বছর বয়সী যে শিশুদের স্মার্টফোন ছিল, তাদের তুলনায় যাদের স্মার্টফোন ছিল না, তাদের মধ্যে ঝুঁকির মাত্রা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি:
হতাশা: ১.৩ গুণ বেশি।
স্থূলতা: ১.৪ গুণ বেশি।
অপর্যাপ্ত ঘুম: ১.৬ গুণ বেশি।
এছাড়াও, শিশু যত কম বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করেছে, সমস্যা তৈরির ঝুঁকি তত বেড়েছে। এমনকি ৪ বছর বয়স থেকে শুরু করে, প্রতি বছর আগে ফোন পাওয়ার জন্য ঝুঁকি প্রায় ১০% করে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেরিতে বা একেবারেই ফোন না পাওয়া শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি।