
শেষ আপডেট: 13 December 2023 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জ্বর হলে ভাত একদম নয়, বরং হাতে গড়া গরম রুটি খাও—মা-ঠাকুমারা এমনটাই বলতেন সব সময়। সে মন যতই ভাত-ভাত করুক না কেন! জ্বর না কমা অবধি এক দলা ভাতও কপালে জুটতে না। হয় রুটি, না হলে সাগু, বার্লি ইত্যাদি নাক টিপে খেয়ে নিতে হত। কিন্তু এখন ডাক্তার আর পুষ্টিবিদরা অন্য কথা বলছেন। এতদিনের ধারণা পুরোটাই বদলে দিয়েছেন তাঁরা।
জ্বরে ভাত খাওয়াই বরং বেশি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর—এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাঁরা বলছেন, প্যাকেটজাত সিরিয়ালগুলোর চেয়ে অনেক গুণে ভাল ভাত। কারণ এতে সোডিয়াম, কোলেস্টেরল, গ্লুটেন ইত্যাদি ক্ষতিকর উপাদান থাকে না। চর্বি থাকেই না প্রায়৷ বিশেষ করে ট্রান্স ফ্যাট, যা খেলে কোলেস্টেরল বাড়ার আশঙ্কা থাকে৷ স্যাচুরেটেড ফ্যাটও থাকে না। বরং থাকে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট বা স্টার্চ, যা শরীরকে শক্তি জোগায়। ভাত যদি নিয়ম মেনে খাওয়া যায়, তা হলে তা খুবই উপকারি। ১০০ গ্রাম ভাত থেকে শক্তি পাওয়া যায় ৩৪৫ কিলো ক্যালোরি। এছাড়া প্রচুর ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে চালে। থাকে নানা খনিজ লবণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনকার দিনে সরু ফাইন চালই বেশি পছন্দ করছেন লোকজন। কিন্তু এই ফাইন চালের পুষ্টিমূল্য কম। কারণ চালকে ফাইন করতে গিয়ে তার বাইরের আবরণ থেকে পেরিকার্প ও জার্ম স্তর উঠে যায়। এই দুটো স্তরেই থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ২ এবং ভিটামিন বি। চাল যত বেশি ফাইন হবে ততই তাতে ভিটামিন ও খনিজ লবনের হার কম থাকবে। তাছাড়া বহুবার চাল ধুয়ে ভাত করার ফলে অনেক ভিটামিনও বেরিয়ে যায় চাল থেকে। ভাতের মাড় বা ফ্যান যা আমরা ফেলে দিই তার সাথেও অনেক ভিটামিন বেরিয়ে যায়।
ভাত বেশি ঝরঝরে করতে গিয়ে যত বেশি ফ্যান ঝরানো হবে ততই এতে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অর্ধেক হবে। জলে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো বেরিয়ে যাবে। তাই গলা ভাত বা মাড়সুদ্ধ ভাতই খেতে বলছেন ডাক্তাররা। বিশেষ করে জ্বরজারির সময় গলা ভাত বা মাড় ভাতের সঙ্গে আলু, সব্জি, ডাল বা ডিম সেদ্ধর কোনও বিকল্প নেই।
দিনে ২ বেলা ভাত খেতেই পারেন, কিন্তু ভাতটাকে একটা মাপের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। সেটা হতে পারে এক কাপ কিংবা দেড় কাপ। যেটুকু ভাত খাবেন, ঠিক সেই পরিমাণ কাঁচা সবজির স্যালাড খেতে হবে। স্যালাডে থাকতে পারে শসা, টমেটো, বাঁধাকপি, গাজর। সামান্য পরিমাণে নুন দিয়ে স্যালাড বানাবেন। অসুখের সময় রুটি খেয়ে অনেকের হজম হয় না। তাই সেদিক থেকে ভাত অনেক বেশি উপকারি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।