অতিরিক্ত চিনি খেলে (excess sugar consumption effects) ওবেসিটি, ডায়াবেটিস শরীরে বাসা বাঁধে তো বটেই, পাশাপাশি দাঁতের ক্ষয়ের মতো একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার পিছনে এর বড় ভূমিকা রয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 January 2026 16:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনি আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের (sugar in daily diet) এমন এক অংশ, যা শুধু মিষ্টিতেই নয়, বরং বহু তথাকথিত ‘হেলদি’ খাবারেও লুকিয়ে থাকে (sugar in so called healthy food)। আর সেই চিনি চুপিসারেই প্রবেশ করে শরীরে। কিন্তু এই অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফল (excess sugar consumption effects) যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। ওবেসিটি (obesity), ডায়াবেটিস (diabetes) শরীরে বাসা বাঁধে তো বটেই, তার পাশাপাশি দাঁতের ক্ষয়ের (tooth decay) মতো একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার পিছনে চিনির বড় ভূমিকা রয়েছে।
পুরোপুরি চিনি ছেড়ে দেওয়া সহজ নয় ঠিকই, কিন্তু চিনি কমালে (sugar detox) শরীরে যে একাধিক ইতিবাচক পরিবর্তন আসে (effects of quitting sugar), তা বলছেন AIIMS-এর সঙ্গে যুক্ত গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট সৌরভ শেঠি। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে তিনি ১৪ দিনের জন্য ‘অ্যাডেড সুগার’ বন্ধ রাখলে (quit sugar for 14 days) শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ডাঃ সৌরভ শেঠির কথায়, “বেশিরভাগ মানুষই বুঝতে পারেন না, চিনি যে শুধু অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে না তাই নয়, চুপিসারে আমাদের খিদেভাব, খাবারের প্রতি লোভ, ইনসুলিনের কার্যকারিতা এবং লিভারে জমে থাকা ফ্যাটের পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। এই কারণেই আমি আমার রোগীদের অন্তত ১৪ দিনের জন্য 'অ্যাডেড সুগার' বাদ দিতে বলি।”

চিনি ছাড়লে প্রথম প্রথম কীভাবে 'রিঅ্যাক্ট' করে শরীর?
ডাঃ শেঠির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যখন কেউ হঠাৎ চিনি কমানো শুরু করেন, তখন শরীরে কিছু স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রথম কয়েকদিনে ব্রেন নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে দেখা দিতে পারে -

তবে তিনি স্পষ্ট করেই জানাচ্ছেন, এটি কোনও ‘উইথড্রয়াল’ নয়। বরং মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে নিজেকে নতুন বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, আর এইসব সেই পরিবর্তনেরই অংশ।
ধীরে ধীরে শরীরে দেখা দিতে শুরু করে পজিটিভ নানা পরিবর্তন
শরীর যখন এই নতুন অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করে, তখনই চোখে পড়তে শুরু করে পরিবর্তন। সৌরভের মতে,
এর অর্থ, শরীর তখন রক্তে থাকা গ্লুকোজ বা সুগারকে আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে শুরু করে।
দ্বিতীয় সপ্তাহে কী পরিবর্তন আসে?
১৪ দিনের এই চ্যালেঞ্জের দ্বিতীয় সপ্তাহে পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়। ডাঃ শেঠির দাবি অনুযায়ী, এই সময় অনেকেই লক্ষ্য করেন -

এই সময় ওজন মাপলে খুব সেই অঙ্কে খুব বড় পরিবর্তন না-ও দেখা যেতে পারে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে শরীরে কোনও উন্নতি হচ্ছে না। বরং ডাক্তারের মতে, এই সময়ের মধ্যেই মেটাবলিজম আরও কার্যকর হয়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে একাধিক উপকারিতা এনে দিতে পারে।
১৪ দিন চিনি না খেলে আসলে কী হয়?যা বলছে বিজ্ঞান
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট সৌরভ শেঠির ব্যাখ্যায়, মাত্র ১৪ দিনের জন্য 'অ্যাডেড সুগার' বাদ দিলেই শরীরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে -
সব মিলিয়ে শরীর ধীরে ধীরে আরও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ফিরে আসে।

কারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন?
এই ‘সুগার রিসেট’ বিশেষভাবে উপকারী তাঁদের জন্য, যাঁরা -
ডাক্তারের কথায়, এই ১৪ দিনের 'চিনি থেকে বিরতি' শরীরকে আসলে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দেয়।
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই সংক্রান্ত কোনও মতামত দ্য ওয়ালের নয়। দ্য ওয়াল স্বাস্থ্য / সাজগোজ সম্পর্কিত কোনও সম্পাদকীয় / সম্পাদক-নিয়ন্ত্রিত তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে না। প্রদত্ত পরামর্শ ও তথ্য প্রয়োগের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিন।