মদ ছাড়ার পরই শরীরে দেখা দেবে চমকপ্রদ পরিবর্তন! কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রক্তচাপ, ঘুম, ত্বক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি দেখা যায়, জানুন কীভাবে ফেরাতে পারেন শরীরের ভারসাম্য।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 October 2025 17:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকে ভাবেন, অল্প মদ্যপানে ক্ষতি কী! উৎসব, পার্টি বা উইকএন্ডে বন্ধুদের আড্ডা, সবেতেই আজকাল অ্যালকোহল যেন মধ্যমণি। খেলেই যে ঝিমঝিম ভাব আসে, তাতে বুঁদ সকলে। কেউ প্রচুর খান, কেউ অল্প। ক্ষতি কিন্তু একই।
বিজ্ঞান বলছে, অ্যালকোহলের মূল উপাদান ইথানল আসলে এক ধরনের বিষাক্ত সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থ, যা শরীরের নানা অঙ্গের ক্ষতি করে এবং আসক্তি তৈরি করে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মৃত্যুর কারণ এই ইথানল। ক্যানসার, হৃদরোগ বা আঘাতজনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণও বটে।
তবে সুখবর হল, মদ ছেড়ে দিলে শরীর দ্রুত নিজেকে সারিয়ে তুলতে শুরু করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টা, দিন বা সপ্তাহের মধ্যেই শরীরে নানা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেয়। কীভাবে? চলুন, একে একে জেনে নেওয়া যাক—
হার্টরেট ও রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়
মদ্যপান রক্তচাপ বাড়ায় এবং হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক করে তোলে। মদ ছাড়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রক্তচাপ ও হার্টরেট কমে আসে। এতে দীর্ঘমেয়াদে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
ঘুমের মান উন্নত হয়
অ্যালকোহল ঘুমের ধারা নষ্ট করে, ঘন ঘন জাগিয়ে তোলে এবং ‘REM sleep’ কমিয়ে দেয়। মদ ছেড়ে দিলে কয়েক দিনের মধ্যেই ঘুমের মান অনেক ভাল হয়, ক্লান্তি কমে যায়, মনোসংযোগ বাড়ে ও মেজাজ স্থিতিশীল হয়।
যকৃতের ক্ষত সারতে শুরু করে
যকৃত বা লিভারের নিজেকে সারিয়ে তোলার ক্ষমতা অসাধারণ। মদ ছাড়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লিভারের ফ্যাট ও প্রদাহ অনেকটা কমে যায়। ফলে ফাইব্রোসিস বা সিরোসিসের আশঙ্কাও কমে।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমে
অ্যালকোহল মানুষের জন্য ‘কার্সিনোজেনিক’ — অর্থাৎ ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থ। এটি মুখ, গলা, খাদ্যনালী, যকৃত, বৃহদান্ত্র এবং স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। মদ ছেড়ে দিলে এই ঝুঁকি ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
হৃদ্রোগের সম্ভাবনা হ্রাস
গবেষণা বলছে, অ্যালকোহল কমানো বা ছেড়ে দেওয়ায় হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক, ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। রক্তচাপ ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে থাকে, ফলে হৃদ্যন্ত্র আরও সুস্থ থাকে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়
অ্যালকোহলে থাকে প্রচুর ‘হিডেন ক্যালোরি’। মদ ছাড়লে ক্যালোরি গ্রহণ কমে যায়, ক্ষুধা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শরীরের গঠনেও পরিবর্তন দেখা যায়।
মানসিক স্বাস্থ্য ও উদ্বেগে উন্নতি
অনেকে মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কাটাতে মদ খান, কিন্তু অ্যালকোহল আসলে উদ্বেগ আরও বাড়ায়। মদ ছেড়ে দিলে মানসিক স্থিরতা ফেরে, মনোভাব উন্নত হয় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
অ্যালকোহল ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে দেয়। মদ ছেড়ে দিলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধও শক্তিশালী হয়।
ত্বক ও চেহারায় সতেজতা ফিরে আসে
অ্যালকোহল ত্বক শুষ্ক করে ও ফোলা ভাব আনে। মদ ছেড়ে দিলে শরীরের জলধারণ ক্ষমতা বাড়ে, ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং চোখ-মুখে ক্লান্ত ভাব কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালকোহল কমানো বা সম্পূর্ণ বন্ধ করা শরীর ও মনের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে যারা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মদ্যপান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে ডিটক্সিফিকেশন করা উচিত।