Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

সন্তান চাইছেন? মা হতে গেলে কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে

সন্তান চাইছেন? মা হতে গেলে কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে

শেষ আপডেট: 7 October 2023 16:35

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের পরে এখনও বহু পরিবারেই, 'নাতি-নাতনির মুখ কবে দেখব'-- এই জাতীয় প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় বহু দম্পতিকে। আর তা যদি নাও হয়, অনেক দম্পতিই হয়তো নিজেরাই সন্তানের প্ল্যানিং করতে চান। কেউ হয়তো বিয়ের এক বছরের মাথাতেই, কেউ বা ৫-৬ বছর সময় নেওয়ার পরে। তবে যাই হোক না কেন, তার আগের কিন্তু একটা প্রস্তুতি রয়েছে। বিশেষ করে এই দ্রুতগামী সময়ে অনেক তরুণ-তরুণীই কেরিয়ার নিয়ে এত ব্যস্ত থাকেন, এত স্ট্রেসেও থাকেন, তাতে যেন এই নিয়ে ভাবাটাই তাঁদের কাছে একটা আলাদা স্ট্রেস!

 তাই এই নিয়েই আজ আমি তিয়াষ, দ্য ওয়াল গুড হেল্থে রয়েছি এক বিশেষ পর্বে। সন্তান ধারণের আগে শরীর স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখার জন্য ঠিক কী করণীয়, কী বা করা উচিত নয়-- এই সবটা নিয়ে একটা বিস্তারিত ও ধারাবাহিক আলোচনা করব, কলকাতার বিশিষ্ট গাইনোকলজিস্ট ও অবস্টেট্রিশিয়ান, ডক্টর ধ্রুবা রায়ের সঙ্গে।

১.  আগেকার দিনে সিনেমায় দেখা যেত, দু'টো ফুল কাছাকাছি এল, আর ব্যাকগ্রাউন্ডে নবজাতকের কান্না ভেসে উঠল। বড় হওয়ার পরে আমরা সবাই জেনে গেছি, মোটেই এভাবে সন্তানের জন্ম হয় না। তাই সে জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, তার একটা আন্দাজ যদি দেন।

এত স্ট্রেস জীবনে, সময়ও কম। তাই সবকিছুই প্ল্যান করে করা উচিত। কোনও জটিলতা হওয়ার আগেই সময় থাকতে প্রস্তুতি নিতে হবে। আজকালকার সেডেন্টারি লাইস্টাইলে প্রি-প্ল্যানিং সবচেয়ে বেশি জরুরি। তার জন্য দরকার প্রি-কনসেপশনাল কাউন্সেলিং। বিদেশে ফ্যামিলি প্ল্যানিং করার সময় এই ধরনের কাউন্সেলিং করেন অনেকে। তার জন্য আলাদা ক্লিনিকও আছে। প্রি-ম্যারিটাল টেস্ট এবং কাউন্সেলিংও হয়।

ব্লাড টেস্ট করে দেখে নেওয়া হয় অ্যানিমিয়া আছে কিনা, থ্যালাসেমিয়া বা অন্য কোনও সমস্যা আছে কিনা, থাইরয়েড আছে কিনা ইত্যাদি। তাছাড়া ফোলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্টশনও জরুরি। এই ফোলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্টশন ভ্রূণের নানা ধরনের জটিলতা গোড়াতেই নষ্ট করতে পারে। এ জন্য আগে থেকে টিকাকরণও করিয়ে নেওয়া ভাল। রুবেলা ভ্যাকসিন, হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন নিয়ে রাখা জরুরি। এছাড়া ব্লাড লুগার, হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস টেস্ট করিয়ে নেওয়া জরুরি। ওবেসিটি থাকলে তা কমানো উচিত। তাছাড়া দেখবেন, অনেকেই নানারকম ওষুধ খেয়ে থাকেন যা প্রেগন্যান্সিতে ক্ষতি করতে পারে। তাই সন্তান নেওয়ার কথা মনে করলে আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেইসব ওষুধের অন্য সাপ্লিমেন্ট নেওয়া জরুরি। সন্তানধারণের পরে বেশিরভাগই তাঁদের রোজকার ওষুধপত্র একেবারে বন্ধ করে দেন। সেটাও মারাত্মক ক্ষতিকারক। তাই কী ওষুধ খেতে হবে এবং কী ডোজে সেটা ডাক্তারের থেকে জেনে নেওয়াই ভাল।

 ২. ওবেসিটি, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড-- এখন কম-বেশি সকলের ঘরে ঘরে। বিশেষ করে মেয়েরা তো খুবই ভুগছেন। এতে কি গর্ভধারণে সমস্যা হয়?

এখন ঘরে ঘরেই এই সমস্যা। তাই সন্তানধারণ করতে চাইলে আগে এই বিষয়গুলো নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া জরুরি। ওবেসিটি থাকলে কীভাবে ওজন কমাবেন, কেমন ডায়েট করবেন তা পরামর্শ নিয়ে করা ভাল। অনেকে ডায়াবেটিসের ওষুধ খান বা ইনসুলিন নেন। সন্তানধারণ করার সময় সেটা একেবারে বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। বরং ডাক্তারের থেকে জেনে নেওয়া উচিত কী ধরনের ওষুধ প্রেগন্যান্সির সময় খাওয়া নিরাপদ হবে। থাইরয়েড থাকলে তার টেস্ট করানো, নির্দিষ্ট ওষুধ নেওয়া জরুরি। এই জন্যই প্রি-কনসেপশনাল কাউন্সেলিং জরুরি যাতে গর্ভপাত ঠেকানো যায়।

 ৩. গর্ভধারণের জন্য হাসবেন্ডেরও হেলদি লাইফস্টাইল কতটা জরুরি?

স্বামীর লাইফস্টাইল ভীষণভাবে জরুরি। এখনকার সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে স্পার্ম কাউন্ট কমছে ছেলেদের। শুক্রাণুর মানও ঠিক নেই। এর কারণ হল অত্যধিক স্ট্রে, জীবনযাপনে অনিয়ম, অতিরিক্ত নেশার প্রবণতা। হয়ত দেখা গেল স্পার্ম কাউন্ট ঠিক আছে কিন্তু স্পার্মের গঠনে সমস্যা আছে। শুক্রাণুর ডিএনএ ভেঙে যাচ্ছে অর্থাৎ ডিএনএ ফ্র্যাগমেন্টেশন হচ্ছে। ফলে অনেক চেষ্টাতেও প্রেগন্যান্সি আসছে না। তাই স্পার্ম মর্টালিটি, মোবিলিটি, কোয়ান্টিটি-কোয়ালিটি অনেক কিছুই নির্ভর করে এক্ষেত্রে। তাই বাবা হতে চাইলে পুরুষ সঙ্গীকেও তাই নিয়মিত শরীরচর্চার মধ্যে থাকতে হবে, সুষম খাবার খেতে হবে এবং অবশ্যই নেশার মাত্রা অনেক কমাতে হবে।

৪. সন্তানধারণের পদ্ধতিটা ঠিক কী? মানে আমরা জানি স্ত্রী ডিম্বাণুর এগের সঙ্গে পুরুষদের স্পার্মের মিলন হয়ে জাইগোট তৈরি হয়, সেটা ঠিক কীভাবে?

মেয়েদের আগে বুঝতে হবে ওভুলেশন কী। প্রতি মাসে মেয়েদের একটাই এগ বের হয় এবং তার জীবনীকাল ২৪ ঘণ্টা। মেয়েদের সম্ভাব্য পিরিয়ডের দিন থেকে ১৪ দিন আগে ওভুলেশন হবে। মাসে একবারই ওভুলেশন হবে। স্পার্ম প্রায় ৪৮ ঘণ্টা বেঁচে থাকে। ছেলেদের স্পার্ম প্রতিনিয়ত বের হয়, কিন্তু মেয়েদের ওভুলেশন একবারই হবে, তাই এই সময়টা খেয়াল রাখতে হবে।

যখন ওভুলেশন হবে, এগ ফ্যালোপিয়ান টিউব দিয়ে বেরোবে। সেই সময় যদি সঙ্গম হয়, তাহলে অন্তত ৩০০-৫০০টা স্পার্ম মেয়েদের সিস্টেমে ঢুকবে। তার মধ্যে একটি স্পার্ম ওই এগকে নিষিক্ত করে জাইগোট তৈরি করবে। জাইগোট ২ দিন চুপ করে বসে থাকবে। তারপরে গিয়ে কোষ বিভাজন শুরু হবে। চতুর্থ দিনে গিয়ে জাইগোট জরায়ুর মুখে গিয়ে বসবে। এরপর একাধিক প্রক্রিয়ার পরে জরায়ু সেই জাইগোটকে গ্রহণ করবে। তারপর হরমোনের ক্ষরণ ও আর কিছু প্রক্রিয়র পর পিরিয়ড বন্ধ হবে। তখন ইউরিন টেস্টে ধরা পড়বে প্রেগন্যান্সি। অর্থাৎ এতগুলো দিনের পরে ধরা পড়বে প্রেগন্যান্সি এসেছে কিনা।

এখানে একটা কথা আছে, মেয়ে হলে অনেকেই মায়ের দোষ দেয়। এটা কিন্তু একেবারেই নয়। মেয়েদের ২২টা ক্রোমোজোম এবং একটা এক্স ক্রোমোজোম। স্পার্মটা এক্স ক্রোমোজোম না ওয়াই ক্রোমোজোমের তার উপরেই নির্ভর করেছে ছেলে হবে না মেয়ে হবে। তাই ছেলে বা মেয়ে হওয়ার জন্য একজম মা কোনওভাবেই দায়ী নন।

 ৫. এ জন্য কি ইন্টারকোর্সের কিছু নির্দিষ্ট সময় বা নিয়ম মেনে চললে সহজে গর্ভধারণ হতে পারে?

পিরিয়ড শুরুর ১৪ দিন আগে হবে ওভুলেশন। সাধারণত ১০ নম্বর দিন থেকে ২৪ নম্বর দিন অবধি ইন্টারকোর্সের আদর্শ সময়। যদি কনসিভ করার চেষ্টা করেন তা হলে জেনে রাখা ভাল, পিরিয়ডের আশেপাশের দিনগুলোতে ফার্টিলাইজেশনের সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে না। এই সময় ডিম্বাণু অত বেশি সক্রিয় থাকে না। মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল সাধারণ ভাবে ২১-৩৫ দিনের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। ওভুলেশনের আগের সময়টা ১৩-২০ দিন পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত ওভুলেশনের ১৪-১৬ দিনের মধ্যে পিরিয়ড হয়। যদি আপনার সাইকেল ছোট হয় তা হলে পিরিয়ডের দিন থেকে ১৮ দিন বাদ দিন। সেই দিনটাই আপনার সবচেয়ে উর্বর দিন। এই ভাবেই পরের উর্বর দিন বুঝে নিন ও ক্যালেন্ডারে মার্ক করে রাখুন।

 ৬. স্বামী-স্ত্রী কতদিন ধরে চেষ্টা করার পরে ডাক্তারের কাছে যাবেন?

এক বছর ধরে চেষ্টা করে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। সাধারণত ১২টা ওভুলেশন সাইকেলের সবকটিতেই এগ নাও বেরোতে পারে। তাই এক বছর চেষ্টার পর না হলে ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে। তবে যদি স্ত্রীর বয়স ৩৫ বা তার বেশি হয় এবং স্বামীর বয়স ৪০ এর কাছাকাছি হয়, তাহলে ৬ মাস চেষ্টার পরেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

 ৭. সাধারণ ভাবে যদি গর্ভধারণ না হয়, তাহলে কি সোজা আইভিএফ? না মাঝে অন্য কোনও উপায় প্রয়োগ করা যেতে পারে?

আগে দেখে নেওয়া হয় সমস্যা কার জন্য হচ্ছে। যদি পুরুষ সঙ্গীর সমস্যা থাকে তাহলে সেই ধরনের ওষুধপত্র চলে। যদি মহিলার সমস্যা থাকে, এন্ডোমেট্রিওসিস, ফ্যালোপিয়ান টিউবে ব্লক ইত্যাদি চেক করে নিয়ে সে ধরনের ট্রিটমেন্ট শুরু হয়। ওভুলেশনের সময় বাড়নো, এগের কোয়ালিটি ঠিক রাখার ওষুধ দেওয়া হয়। পাশাপাশি লাইফস্টাইল মডিকেশনের চেষ্টা করা হয়। এইসব স্টেজ ফেল করলে তখন গিয়ে আইভিএফের কথা ভাবা হয়। এর জন্যও আগে ওভুলেশনের জন্য ইঞ্জেকশন করা হয়। তারপর স্পার্ম নিয়ে তার মান বাড়িয়ে এগের সঙ্গে মিলিয়ে জাইগোট তৈরির চেষ্টা করা হয়।


```