এবারের কাশির ধরণটা একটু অন্যরকম। একবার ধরলে তা পিছু ছাড়ছে না সহজে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের মধ্যে এর প্রকোপ সবথেকে বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে জ্বর না থাকলেও, দেখা যাচ্ছে গলার ভেতরে এমন ভয়াবহ ব্যথা যে ঢোক গিলতেও কষ্ট হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও সুরাহা হচ্ছে না অনেকের। কেন এমন হচ্ছে?

গলা ব্যথা, কাশি হলে এই সময়টা সতর্ক থাকুন
শেষ আপডেট: 5 March 2026 17:53
শীতের বিদায়বেলায় ঘরে ঘরে এখন একই ছবি। রাতে ঘুমানোর সময় সবে ফ্যান চালিয়ে শোয়া শুরু হয়েছে, আর ঘরে ঘরে জাঁকিয়ে বসেছে খসখসে গলা ব্যথা (Sore Throat) আর নাছোড় কাশি। ছোট থেকে বড় — রেহাই পাচ্ছে না কেউই। সাধারণ সর্দি-কাশি (Cough and cold) ভেবে যে ঘরোয়া টোটকা বা কাফ সিরাপে (Cough Syrup) ভরসা রাখছিলেন, দেখা যাচ্ছে সে সবও এবার ডাহা ফেল করছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? কেন এবারের কাশি সারতে চাইছে না কিছুতেই?
এ কাশি যে বড় নাছোড়!
এবারের কাশির ধরণটা একটু অন্যরকম। একবার ধরলে তা পিছু ছাড়ছে না সহজে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের মধ্যে এর প্রকোপ সবথেকে বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে জ্বর না থাকলেও, দেখা যাচ্ছে গলার ভেতরে এমন ভয়াবহ ব্যথা যে ঢোক গিলতেও কষ্ট হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও সুরাহা হচ্ছে না অনেকের।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাতের বেলার কাশি। ঘুমোতে গেলেই কাশির দমক এতটাই বাড়ছে যে রোগী উঠে বসে পড়তে বাধ্য হচ্ছেন। বয়স্কদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। অনেকের মধ্যে দেখা দিচ্ছে 'কফ সিনকোপ' (Cough Syncope)। অর্থাৎ একটানা প্রবল কাশির চোটে সাময়িকভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটছে।
নেপথ্যে কারা? কেন বাড়ছে সংক্রমণ?
হঠাৎ আবহাওয়া বদলের এই সময়ে মূলত দুটি ভাইরাস সক্রিয় হয়ে উঠেছে— রাইনো ভাইরাস এবং অ্যাডিনো ভাইরাস। এই দুই ভাইরাসের যৌথ সংক্রমণের পরেই শুরু হচ্ছে শুকনো কাশি।
বিশেষ করে যাঁরা ধূমপান করেন, যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে বা যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁরা দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই অ্যাজমা বা সিওপিডি (COPD) রয়েছে, তাঁদের ঝুঁকি অনেক বেশি। স্টেথোস্কোপ দিয়ে পরীক্ষা করলে এই রোগীদের বুকে বা কানে একটা 'শাঁইশাঁই' শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, যা সাধারণত শ্বাসকষ্টের রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। আসলে অনেকেরই 'হাইপার সেনসিটিভ ব্রংকাস' থাকে, যার ফলে এই ভাইরাসের দাপটে কাশি মারাত্মক আকার নিচ্ছে।
প্রতিরোধ ও প্রতিকার: কী করবেন, কী করবেন না?
১. অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার নয়: ভাইরাল ইনফেকশনে শুরুতেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই কাশি সময়ের সঙ্গে নিজে থেকেই কমে। যদি কাশি বা গলা ব্যথা সাত দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবেই চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা উচিত।
২. ওষুধ ও ইনহেলার: পরিস্থিতি ভেদে চিকিৎসকরা এখন স্টেরয়েডযুক্ত নেজাল ড্রপ, অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ট্যাবলেট কিংবা ইনহেলার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে শ্বাসনালীর প্রদাহ কমে এবং কাশি নিয়ন্ত্রণে আসে।
৩. পুরানো প্রেসক্রিপশন এড়িয়ে চলুন: বাড়ির অবশিষ্টাংশ কাফ সিরাপ বা পুরনো প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
৪. ঘরোয়া সতর্কতা: ধূমপান পুরোপুরি বর্জন করুন। গলা ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল বা অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ কাজে দিতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে হালকা গরম জল পান করতে হবে।
৫. ভ্যাকসিনেশন: বয়স্কদের জন্য এই সময়টা অত্যন্ত সংবেদনশীল। চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন নিয়ে রাখা জরুরি। এতে সংক্রমণের তীব্রতা কমানো সম্ভব।