অবশেষে রোজিকে এমআরআই স্ক্যান (MRI Scan) করানো হলে চমকে ওঠেন চিকিৎসকেরা। জানা যায়, তার মস্তিষ্কে গজিয়েছে পেডিয়াট্রিক বাইথ্যালামিক গ্লিওমা নামে এক বিরল জেনেটিক অস্বাভাবিক টিউমার।

৫ বছরের রোজি হাসাল
শেষ আপডেট: 3 September 2025 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত একেবারেই স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছিল ব্রিটিশ কন্যা রোজি হাসাল। হঠাৎ বাড়িতে জানায়, তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে। প্রথমে বাবা-মা সাধারণ ভেবেছিল, কিন্তু সেই ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁরা কেবল প্যারাসিটামল প্রেসক্রাইব করেন (Child’s Headache Treated with Paracetamol)। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। পরে জানা যায়, রোজির মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে ভয়ঙ্কর টিউমার (Brain Tumor)।
গত বছরের শেষদিকে রোজির কপালের সামনে ব্যথা শুরু হয়। বাবা-মা প্রথমে তা গুরুত্ব দেননি। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই লক্ষ্য করেন, তার বাঁ চোখ স্বাভাবিকের তুলনায় দেরিতে প্রতিক্রিয়া করছে। তাই দ্রুতই তাকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তবুও পরীক্ষায় কিছু ধরা পড়েনি বরং দেওয়া হয় কিছু ওষুধ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাথাব্যথা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, হাসা, হাঁচি দেওয়া বা কাঁন্না, সবকিছুই রোজির কাছে যন্ত্রণার হয়ে ওঠে।
অবশেষে রোজিকে এমআরআই স্ক্যান (MRI Scan) করানো হলে চমকে ওঠেন চিকিৎসকেরা। জানা যায়, তার মস্তিষ্কে গজিয়েছে পেডিয়াট্রিক বাইথ্যালামিক গ্লিওমা নামে এক বিরল জেনেটিক অস্বাভাবিক টিউমার।
চিকিৎসকদের মতে, এই টিউমার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং এর অবস্থান এমন জায়গায়, যেখানে অস্ত্রোপচার সম্ভব নয়। এই সংবাদে রোজির বাবা-মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, এই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের গড় আয়ু মাত্র নয় থেকে বারো মাস। রোজির মা শার্লট বলেন, 'প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম মাথাব্যথা সামান্য, তাই ক্যালপল দিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যথা ক্রমশ বেড়ে যায়।'
গত কয়েকমাস ধরে রোজির চিকিৎসা চলছে। প্রথমে ম্যানচেস্টারে রেডিওথেরাপি ও ওরাল কেমোথেরাপি, পরে দেওয়া হয় ইনজেকশনের মাধ্যমে কেমো। বর্তমানে সে পঞ্চম দফার চিকিৎসা নিচ্ছে। সাম্প্রতিক এমআরআই-এ দেখা গেছে, আপাতত টিউমার স্থিতিশীল। শিশুটির মা জানিয়েছেন, 'রোজির এখন পঞ্চম দফার কেমো চলছে। ও আবার অল্প সময়ের জন্যই স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে।'
মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক কোষ বা টিস্যুর বৃদ্ধি হল টিউমার। স্পাইনাল কর্ড ও মস্তিষ্কের টিউমার একসঙ্গে সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম টিউমার নামে পরিচিত। এগুলো ক্যানসারজনিত (ম্যালিগন্যান্ট) হতে পারে, আবার অ-ক্যানসারজনিতও (বিনাইন) হতে পারে। কিছু টিউমার দ্রুত বাড়ে, কিছু ধীরে ধীরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মস্তিষ্কের টিউমার ক্যানসারজনিত। কিন্তু ক্যানসার না হলেও টিউমার বড় হলে তা আশপাশের স্নায়ু, রক্তনালী ও টিস্যুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
টিউমারের অবস্থান, আকার ও ধরণের ওপর ভিত্তি করে লক্ষণ ভিন্ন হয়। এর মধ্যে কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ হল-