যদি বাড়িতে নতুন সদস্য আসে, স্বাভাবিকভাবেই ছোট্ট ভাই বা বোনের সঙ্গে বাবা-মাকেও ভাগ করে নিতে হয় বড়টিকে। চাপা ক্ষোভ বেরিয়ে আসে, ‘তুমি তো শুধু ওকেই ভালবাসো সারাদিন।’

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 1 September 2025 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবারে যখন শুধুমাত্র একটিই সন্তান থাকে, তখন সেই শিশুই (single child) বাবা-মায়ের পুরো মনোযোগ দখল করে থাকে। কিন্তু তারপর যদি বাড়িতে নতুন সদস্য (new baby) আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ছোট্ট ভাই বা বোনের সঙ্গে (sibling bonding) বাবা-মাকেও ভাগ করে নিতে হয় তাকে। সময়, মনোযোগ ভাগ হয়ে যায়। এর ফলে অনেক সময় বড়টির (older sibling) মনে অস্থিরতা, অভিমান, এমনকী ঈর্ষার জন্ম নিতে পারে।
কেউ রাগ দেখিয়ে খিটখিটে হয়ে ওঠে, কেউ হয়তো চুপ করে যায়। মাঝে মাঝে কচি গলায় চাপা ক্ষোভ বেরিয়ে আসে, ‘তুমি তো আর আমাকে ভালই বাসো না। শুধু ওকেই ভালবাসো সারাদিন।’
শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ কুমার এ প্রসঙ্গে বলেন, “নতুন শিশুর আগমনে জন্য যেমন বাবা-মা ব্যস্ত থাকেন, তেমনই বড় সন্তানের দিকেও সমান খেয়াল রাখা জরুরি। তাকে সুরক্ষিত ও অন্তর্ভুক্ত বোধ করানো উচিত। আগে থেকেই যত্ন নিলে সে মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারে, আর এতে ভালবাসার ভিত্তি আরও মজবুত হয়।”
তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে বড় ভাই-বোনকে প্রস্তুত করা যায় নতুন শিশুর আগমনের জন্য -
১) আগেভাগে তার সঙ্গে কথা বলুন
শিশুরা নতুন কিছু বুঝতে সময় নেয়। তাই হঠাৎ বা তাড়াহুড়ো না করে, স্বাভাবিকভাবে ও ইতিবাচকভাবে তাকে খবর দিন। প্রশ্ন করলে সোজাসাপ্টা উত্তর দিন, যাতে তার মনে সংশয় না থাকে।
২) প্রস্তুতির অংশীদার করুন
নতুন শিশুর কাপড় বেছে নেওয়া, ঘর সাজানো বা মায়ের সঙ্গে ডাক্তার দেখাতে যাওয়া - এই সব কাজে তাকে সামিল করুন। এতে পরিবারে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে।
৩) আগে থেকেই রুটিন তৈরি করুন
খাবার, খেলা আর ঘুমের মতো বিষয়গুলোতে নিয়ম তৈরি করুন। নতুন শিশুর কারণে পরিবর্তন এলে সেটা যেন হঠাৎ না হয়, বরং আগে থেকেই ধীরে ধীরে মানিয়ে নিন।
৪) কী কী হতে পারে জানিয়ে দিন
শিশুকে বোঝান, তার ছোট্ট ভাই বা বোনের সঙ্গে প্রথমে সে খেলতে পারবে না, তবে সে অনেক সাহায্য করতে পারে। খেলনা পুতুল দিয়ে ভূমিকা খেলার মাধ্যমে তাকে প্রস্তুত করানো যায়।
৫) সময় দিন বড় সন্তানকে
নতুন শিশুর কারণে বাবা-মায়ের মনোযোগ সরে গেলে বড় সন্তানের মনে অবহেলার বোধ তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিদিন কিছুটা নির্দিষ্ট সময় শুধু তার জন্য বরাদ্দ রাখুন।
৬) তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন
খুশি, বিভ্রান্তি, অভিমান বা ঈর্ষা - সবই স্বাভাবিক অনুভূতি। এসবকে অস্বীকার না করে স্বীকার করুন এবং তাকে আশ্বস্ত করুন যে ভালবাসা কমে যায়নি, বরং বড় সন্তান হিসেবে তার প্রতি ভালবাসা আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, বাবা-মা যদি বড় সন্তানকে শুরু থেকেই এই প্রস্তুতিতে যুক্ত করেন, তবে ঈর্ষা বা মনখারাপ দূরে রেখে নতুন অধ্যায়ের সূচনা আনন্দের হতে পারে। বাবা-মার যেমন নতুন শিশুর জন্য প্রস্তুতি থাকে, তেমনই বড় সন্তানকেও এই যাত্রার সঙ্গী করে তুলতে হবে।