সামান্য পেটের সমস্যার সঙ্গে বিপজ্জনক লক্ষণগুলোর পার্থক্য বোঝা গেলে অভিভাবকরা অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 August 2025 17:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশুদের বেড়ে ওঠার সময়ে নানারকম সমস্যায় পড়তে হয় বাবা-মায়েদের। আজ জ্বর, কাল পড়ে গিয়ে পা কেটে গেছে – এমন কত কী! আরও এক সাধারণ সমস্যা হল পেটব্যথা। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় তা গুরুতর কিছু নয়।
তবে, পেটব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা খুব তীব্র হয়ে ওঠে, তখন অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে তা ফেলে না রেখে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালিক র্যাডিক্স হেলথকেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও মেডিকেল ডিরেক্টর, শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ রবি মালিক বলেন, “অনেক সময় পেটব্যথা আরও গুরুতর কিছু সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। দৈনন্দিন সামান্য পেটের সমস্যার সঙ্গে বিপজ্জনক লক্ষণগুলোর পার্থক্য বোঝা গেলে অভিভাবকরা অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিতে পারেন।”
শিশু বিশেষজ্ঞ ৫টি প্রাথমিক সতর্কবার্তার লক্ষণ উল্লেখ করেছেন, যা অভিভাবকদের জানা প্রয়োজন -
১) দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথা
পেটব্যথা যদি কয়েক দিন ধরে থাকে, বারবার ফিরে আসে, বা রাতে পেটব্যথায় ঘুম ভেঙে যায় বারবার - তাহলে সেটা অবহেলা করা উচিত নয়। যদি ব্যথা পুরো পেট জুড়ে না হয়ে নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় হতে থাকে, তবে তা ইনফ্লেমেশন বা সংক্রমণজনিত কোনও সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
২) বিশেষ কিছু লক্ষণ জানা দরকার
যদি ব্যথার সঙ্গে খুব বেশি জ্বর, বারবার বমি (বিশেষ করে সবুজ বা রক্ত থাকে), ডায়ারিয়া, মলদ্বার দিয়ে রক্ত বেরোয় - সেক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন। পেট ফুলে যাওয়া বা শক্ত হয়ে যাওয়া সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া বা খিদে না থাকা, গাঢ় রঙের প্রস্রাব বা প্রস্রাবে জ্বালাভাব থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া জরুরি। এগুলো পেট বা অন্ত্রের কোনও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
৩) ‘ফাংশনাল অ্যাবডোমিনাল পেইন’ হতে পারে
অনেক সময় শিশুরা পুরো পেট জুড়ে ব্যথার অভিযোগ করে, ঠিক কোথায় হচ্ছে তা বুঝিয়ে বলতে পারে না। এর কোনও শারীরিক কারণও পাওয়া যায় না অনেক সময়। যদি তারা স্বাভাবিক বা অ্যাক্টিভ থাকে, জ্বর বা বমি না হয়, এবং রাতে ভাল ঘুমোয়, তবে এর কারণ হতে পারে ‘ফাংশনাল অ্যাবডোমিনাল পেইন’ - যা স্ট্রেস বা আইবিএস-এর মতো অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। যদিও তা বিপজ্জনক নয়, তবুও সেই ক্ষেত্রে মানসিক সহায়তা দেওয়া জরুরি।
৪) তীব্র বনাম দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
• তীব্র ব্যথা (Acute pain) হঠাৎ শুরু হয় এবং ইনফেকশন, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, কোলেসিস্টাইটিস, প্যানক্রিয়াটাইটিস, কোলাইটিস বা কিডনিতে পাথরের কারণে হতে পারে।
• দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা (Chronic pain) কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে বারবার দেখা দেয় এবং খাদ্য অ্যালার্জি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, সিলিয়াক রোগ, বা আলসারেটিভ কোলাইটিস ও ক্রোন্স ডিজিজের মতো প্রদাহজনিত অন্ত্রের সমস্যার কারণে হতে পারে।
৫) কৃমি সংক্রমণও হতে পারে কারণ
বিশেষ করে যেখানে স্যানিটেশন ব্যবস্থা খারাপ, সেখানে অনেক শিশুর পেটব্যথার কারণ হতে পারে কৃমি সংক্রমণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, বছরে অন্তত একবার শিশুদের কৃমির ওষুধ খাওয়ানো উচিত। যদি এলাকায় কৃমির সংক্রমণ বেশি হয়, তবে বছরে দু’বার ডিওয়ার্মিং করানো ভাল।