লাউয়ের রস না ঢেঁড়সের জল—কোলেস্টেরল কমাতে কোনটা বেশি কার্যকর? বিশেষজ্ঞ মত ও বৈজ্ঞানিক তথ্য মিলিয়ে জেনে নিন সঠিক উত্তর।

ঢেঁড়সের জল ও লাউয়ের জল
শেষ আপডেট: 23 March 2026 10:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিঃশব্দ মহামারি (silent epidemic)-র মতো ছড়াচ্ছে উচ্চ কোলেস্টেরল (high cholesterol) বা ডিসলিপিডেমিয়া (dyslipidaemia)। আগে যা বয়সের সঙ্গে আসত, এখন তা ধরা পড়ছে শহুরে তরুণদের (urban professionals) মধ্যেও। স্ট্যাটিন (statins) এখনও চিকিৎসার মূল ভরসা হলেও, অনেকেই ঝুঁকছেন ঘরোয়া উপায়ে—বিশেষ করে ঢেঁড়সের জল (okra water) আর লাউয়ের রসের (lauki juice) দিকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ‘হেলথ টনিকে’র (health tonic) কাজের ধরন একেবারেই আলাদা। ঢেঁড়সে থাকা জেলির মতো পদার্থ বা মিউসিলেজ (mucilage) আসলে এক ধরনের দ্রবণীয় আঁশ (soluble fibre)। খালি পেটে (empty stomach) খেলে এই আঁশ পিত্তরসের (bile acids) সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। ফলে শরীরকে নতুন করে পিত্তরস তৈরি করতে রক্ত থেকে কোলেস্টেরল (cholesterol) টানতে হয়—এভাবেই কমে এলডিএল (LDL)।
২০২৪ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব মলিকিউলার সায়েন্সেসে’ (International Journal of Molecular Sciences) প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ঢেঁড়স টোটাল কোলেস্টেরল (Total Cholesterol) ও ট্রাইগ্লিসারাইড (Triglycerides) কমাতে সাহায্য করে, পাশাপাশি এইচডিএল (HDL) বাড়ায়। এতে থাকা কোয়েরসেটিন (quercetin) ধমনীতে প্লাক (arterial plaque) জমা ঠেকাতেও ভূমিকা নেয়।
অন্যদিকে লাউয়ের রস কাজ করে স্যাপোনিন (saponins) ও টারপেনয়েডসের (terpenoids) মাধ্যমে। এগুলো কোলেস্টেরল তৈরির নির্দিষ্ট এনজাইম (enzymes) আটকে দেয়। ‘জার্নাল অব এভিডেন্স-বেসড কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিনে’ (Journal of Evidence-Based Complementary and Alternative Medicine) প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন ২০০ মিলি (200 ml) টাটকা লাউয়ের রস ৯০ দিন খেলে ট্রাইগ্লিসারাইড কমে এবং হৃদ্ঝুঁকির অনুপাত (cardiac risk ratio) উন্নত হয়। লাউয়ের প্রাকৃতিক ডায়ুরেটিক (diuretic) গুণ উচ্চ রক্তচাপ (hypertension) নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
তবে সতর্কতাও রয়েছে। ঢেঁড়সে অক্সালেট (oxalates) বেশি থাকায় কিডনি স্টোনের (kidney stones) প্রবণতা আছে এমন মানুষজনকে সাবধানে থাকতে হবে। আর লাউয়ের রস তেতো (bitter) লাগলে একেবারেই খাবেন না—কুকুরবিটাসিন (cucurbitacins) নামের বিষাক্ত উপাদান ‘বটল গার্ড পয়জনিং’ (bottle gourd poisoning) ঘটাতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, উপকার পেতে হলে সঠিক মাত্রা (dosage), সময় (timing) ও শারীরিক সহনশীলতা (absorption) বুঝে তবেই এই পানীয়গুলি খাওয়া উচিত। দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় অবশ্যই পুষ্টিবিদ (nutritionist) বা ডায়েটিশিয়ানের (dietician) পরামর্শ জরুরি।