আধুনিক প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে আবার পাতে ফিরছে ঘরোয়া ভারতীয় রান্না। অন্ত্রের সুস্থতা ও হজমের জন্য ঐতিহ্যবাহী খাবারে ভরসা রাখছেন অনেকেই।

ঐতিহ্যবাহী খাবার
শেষ আপডেট: 14 March 2026 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাবারের জগতে ট্রেন্ড (Food Trend) বদলাতে সময় লাগে না। কখনও ডিটক্স ড্রিঙ্ক (Detox Drink), কখনও প্রোটিন পাউডার (Protein Powder) বা বিদেশি সুপারফুড (Superfood)— প্রতি বছরই নতুন নতুন খাদ্যাভ্যাস জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ধীরে ধীরে মানুষ ফিরছেন অনেক পুরনো এবং সহজ এক অভ্যাসে, ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় খাবারে (Traditional Indian Meals)।
সেলিব্রিটি ডায়েটিশিয়ান (Celebrity Dietician) এবং ওয়েলনেস কোচ (Wellness Coach) সিমরত কথুরিয়া (Simrat Kathuria) বলছেন, এই পরিবর্তন মোটেই হঠাৎ নয়। তাঁর মতে, “মানুষ এখন বুঝতে শুরু করেছে যে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার কেন্দ্রে রয়েছে অন্ত্রের স্বাস্থ্য (Gut Health)। আর অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে যে খাবারগুলি সবচেয়ে উপকারী, সেগুলির অনেকটাই বরাবরই ছিল ভারতীয় ঘরোয়া রান্নার অংশ।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের অন্ত্রে রয়েছে অসংখ্য অণুজীবের এক জটিল জগৎ, যাকে বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োম (Gut Microbiome)। এই অণুজীবগুলি হজম (Digestion), রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) এমনকি বিপাকক্রিয়াতেও (Metabolism) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কথুরিয়ার মতে, ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় খাবারে এমন অনেক উপাদান এবং রান্নার পদ্ধতি রয়েছে, যা এই উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়।
এর অন্যতম উদাহরণ ফারমেন্টেড খাবার (Fermented Food)। এই ধরনের খাবার শরীরে প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক (Probiotic) সরবরাহ করে, যা অন্ত্রে উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ভারতীয় রান্নায় এর বহু উদাহরণ রয়েছে— যেমন দই (Dahi), কানজি (Kanji), ইডলি (Idli) এবং ঘরোয়া আচার (Homemade Pickles)। কথুরিয়ার কথায়, “এই খাবারগুলিতে প্রাকৃতিকভাবে উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও সমর্থন করে।”
শুধু তাই নয়, ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় খাদ্যতালিকায় ফাইবারের (Dietary Fibre) পরিমাণও স্বাভাবিকভাবেই বেশি। সম্পূর্ণ শস্য (Whole Grains), ডাল (Lentils), সবজি (Vegetables) এবং মিলেট (Millets) অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সরবরাহ করে। এই ফাইবার হজমে সহায়তা করে, উপকারী জীবাণুকে পুষ্টি জোগায়, রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar Level) নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিপাকক্রিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ভারতীয় রান্নাঘরের মশলাও (Spices) এখানে বড় ভূমিকা নেয়। হলুদ (Turmeric), জিরে (Cumin), আদা (Ginger) এবং অজওয়াইন (Ajwain)— এই সব মশলার রয়েছে প্রদাহনাশক (Anti-inflammatory) এবং হজমে সহায়ক গুণ। কথুরিয়ার মতে, “এই মশলাগুলি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শুধু স্বাদের জন্য নয়, চিকিৎসাগত গুণের জন্যও ব্যবহার হয়ে আসছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে (Ultra-Processed Food) এই বৈচিত্র্যময় ফাইবার ও প্রাকৃতিক উপাদানের ঘাটতি থাকে। তাই হজমের সমস্যাও বাড়ছে। সেই কারণেই অনেকেই আবার ফিরছেন মৌসুমি উপাদান (Seasonal Produce), সহজ রান্না (Simple Cooking) এবং সুষম খাবারের দিকে।
কথুরিয়া বলেন, “অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সব সময় জটিল ডায়েটের প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় সমাধানটা আমাদের ঘরোয়া রান্নাঘরেই থাকে।” অর্থাৎ ডাল সেদ্ধ হচ্ছে, রাতে দই বসানো হচ্ছে, কড়াইয়ে মশলা ভাজা হচ্ছে— নতুন কিছু নয়, কিন্তু কার্যকারিতা প্রমাণিত।