গবেষকদের মতে, এই ডিম্বাণুগুলো (skin cell to egg technique) এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, তবে এগুলো নিষেকের দিকে এগোনোর আভাস দিচ্ছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে এমন অনেক নারীর জন্য মা হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে, যাঁদের নিজের ডিম্বাণু নেই বা বয়স-অসুস্থতার কারণে ডিম্বাণু আর সক্রিয় নেই।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 21 November 2025 13:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্তানধারণে সমস্যায় ভোগেন এমন বহু দম্পতি আছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞান যতই উন্নত হোক, এখনও অনেক ক্ষেত্রে গর্ভধারণ সহজ নয়। আইভিএফ অনেক নারীকে সহায়তা করে ঠিকই, কিন্তু যেসব নারীর নিজস্ব ডিম্বাণু নেই বা ব্যবহারযোগ্য নয়, তাঁদের ক্ষেত্রে IVF-ও কার্যকর হয় না। এমন পরিস্থিতিতে সন্তান চাইলে তাঁদের ডোনার ডিম্বাণুর উপর নির্ভর করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে গবেষকরা চেষ্টা করছেন, যাঁদের ডিম্বাণু নেই, তাঁদের জন্য কি অন্য কোনোভাবে নতুন ডিম্বাণু তৈরি করা যায় (Human egg creation)? এতদিন এই সফলতা শুধু ইঁদুরের ক্ষেত্রে পাওয়া গিয়েছিল। এবার মানুষের ক্ষেত্রেও সফল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
সম্প্রতি Nature Communications–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা গেছে, বিজ্ঞানীরা প্রথমবার নারীর ত্বকের কোষ থেকে ডিম্বাণু তৈরি করতে পেরেছেন। প্রযুক্তিটি এখনও পুরোপুরি নিখুঁত না হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ভবিষ্যতে প্রজনন চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
গবেষণার ধাপগুলো ছিল-
গবেষকেরা আরও একটি নতুন পরীক্ষায় নারীর ত্বকের কোষ থেকে ডিম্বাণু তৈরির চেষ্টা করেছেন। প্রকাশিত মাইক্রোস্কোপের ছবিতে দেখা যায়- একটি মানব ডিম্বাণুর ভেতর ত্বকের কোষ থেকে নেওয়া নিউক্লিয়াস বসানো হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই ডিম্বাণুগুলো (skin cell to egg technique) এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, তবে এগুলো নিষেকের দিকে এগোনোর আভাস দিচ্ছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে এমন অনেক নারীর জন্য মা হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে, যাঁদের নিজের ডিম্বাণু নেই বা বয়স-অসুস্থতার কারণে ডিম্বাণু আর সক্রিয় নেই। প্রসঙ্গত, নিষেক হল একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি শুক্রাণু এবং একটি ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসের (new fertility technology) মিলন ঘটে এবং একটি নতুন জাইগোট (ঝাইগোট) তৈরি হয়, যা নতুন জীব সৃষ্টির প্রথম ধাপ।
তবে এই প্রযুক্তি এখনও পরীক্ষার পর্যায়ে। পুরোপুরি নিরাপদ কি না, স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে কি না, ভবিষ্যৎ সন্তানের উপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। তা সত্ত্বেও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রজনন চিকিৎসায় এটি এক বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অনেক দম্পতির কাছে এটি ভবিষ্যতে মা-বাবা হওয়ার নতুন আশা হয়ে উঠতে পারে।