
শেষ আপডেট: 5 January 2024 16:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওষুধেও মরে না। ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়ারা সংখ্যায় বাড়ছে। একবার হাঁচলেও আমরা তড়িঘড়ি অ্যান্টিবায়োটিক গিলে ফেলছি। জ্বর হলে তো কথাই নেই। পেট খারাপের লক্ষণ বুঝলেই মুঠো মুঠো অ্যান্টিবায়োটিক পেটে চলে যাচ্ছে। ওষুধের কোর্স শেষের আগেই ডোজ বন্ধ। কয়েকটা ওষুধ খেয়ে রোগ সেরে গেলেই ব্যস, আর চিন্তা কি! এর ফলে ওষুধে আর কাজ হচ্ছে না, অ্যান্টিবায়োটিকই ‘অ্যান্টি’ হয়ে যাচ্ছে। জন্মাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া বা সুগারবাগেরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে নতুন মহামারীর কারণ হতে পারে এই সব সুপারবাগ। এদের ঘায়েল করার কৌশল এতদিন জানা ছিল না। তবে গবেষণা চলছিল। বিজ্ঞানীরা এমন এক প্রতিষেধক তৈরি করেছেন যা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়াদের বংশই ধ্বংস করে দেবে।
কী এই ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া?
এমন একধরনে ব্যাকটেরিয়া (Gram Negative Bacteria) যারা একাধিক অ্য়ান্টিবায়োটিকের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারে। মানে হল মাল্টি-ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট। এইসব ব্যাকটেরিয়া থেকে নিউমোনিয়া, ফুসফুসের সংক্রমণ, প্রস্রাবের সংক্রমণ সহ নানা ধরনের রোগ ছড়ায়। এরা নীরবে হানা দেয় ও বহু মানুষের মৃত্যু ঘটায়।
এই ধরনের ব্যাকটেরিয়াদের সংক্রমণ নিয়ে চিন্তা বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। কারণ এইসব জীবাণুরা আর পাঁচটা সাধারণ অ্য়ান্টিবায়োটিকে কাবু হয় না। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে যাচ্ছেন তাঁদের শরীরে বেশি হানা দেয় এরা। জিনের গঠন এমনভাবে বদলে ফেলে যাতে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকে কোনও কাজ না হয়। ফলে ব্যাকটেরিয়ারা হয়ে ওঠে আরও শক্তিশালী ও সংক্রামক। এক শরীর থেকে দ্রুত অন্য শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অর্জন করে ফেলে। তাই এইসব জীবাণুদের রুখতে বিশেষ রকম ওষুধেরই দরকার।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট সুপারবাগদের সংক্রমণ ঠেকাতে পারে এমন ওষুধ বানিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। এই ওষুধের নাম জোসুরাবেলপিন। একে বলা হচ্ছে মিরাকল অ্যান্টিবায়োটিক। বিজ্ঞানীদের দাবি, ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট অ্যাসিনেটোব্যাক্টর ব্যাকটেরিয়া, সিউডোমোনাস এবং এন্টেরো ব্যাকটেরিয়াদের সংক্রমণ নির্মূল করতে পারবে এই অ্যান্টিবায়োটিক।
ইঁদুরের উপর এই ওষুধের ট্রায়াল সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণাটি হার্ভার্ডের অধ্যাপক ড্যানিয়েল কান ও তাঁর সহযোগীদের। তাঁরাই খুঁজে পেয়েছেন এই মিরাকল অ্যান্টিবায়োটিক। দেখা গেছে সেপ্টিসেমিয়ার মতো মারাত্মক সংক্রমণও রুখে দিতে পারে এই অ্যান্টিবায়োটিক।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কোষের বাইরে লাইপোপলিস্যাকারাইড বা এলপিএস নামে এক ধরনের আবরণ থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক এই আবরণ ভেদ করে ভিতরে ঢুকতে পারে না। এই ব্যাকটেরিয়ারা শরীরে ঢুকলে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়েও এদের ঠেকানো যায় না। শিশু চিকিৎসকরাও বলছেন, ভয়াবহ সংক্রমণ নিয়ে বহু বাচ্চা তাঁদের কাছে আসছে। কোনও ওষুধে সুস্থ করা যাচ্ছে না। এরও কারণ সেই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। দেখা যাচ্ছে, মূত্রনালীর সংক্রমণে ভুগে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া রোগী পরবর্তী সময়ে ওষুধে তেমন সাড়া দিচ্ছেন না। কারণ, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই তাঁরা অল্প সময়ের ব্যবধানে এত ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে রোগ সারানোর চেষ্টা করেছেন যে, শরীরের সাধারণ প্রতিরোধ ক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে অল্পেই যে রোগ সারে তাও দুরারোগ্য হয়ে উঠছে। কিন্তু নতুন আবিষ্কার হওয়া অ্যান্টিবায়োটিক এই ধরনের জটিল সংক্রমণ ঠেকিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারবে বলেই দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।