মাইক্রোওয়েভ ওভেন, যার নামেই বোঝা যা এটি রেডিয়েশন ব্যবহার করে, ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় কি না, সেই প্রশ্ন বারবার উঠছে।

শেষ আপডেট: 28 February 2026 18:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসার (cancer) মানেই মৃত্যুদণ্ডের মতো আতঙ্কের এক নাম। রোগটি ক্রমশ বাড়ছে, এমন ধারণা থেকে দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস নিয়েও বাড়ছে সতর্কতা (health awareness)। বিশেষ করে “রেডিয়েশন” শব্দটা শুনলেই ভয় পান অনেকে। তাই মাইক্রোওয়েভ ওভেন, যার নামেই বোঝা যা এটি রেডিয়েশন (microwave radiation) ব্যবহার করে, তা ক্যানসারের ঝুঁকি (Microwave food cancer risk) বাড়ায় কি না, সেই প্রশ্ন বারবার উঠছে।
এই নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলেন রায়পুরের অভিজ্ঞ ক্যানসার বিশেষজ্ঞ বা অঙ্কোলজিস্ট জয়েশ শর্মা। ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই চিকিৎসক ২৩ ফেব্রুয়ারি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে ব্যাখ্যা করে জানান, মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার সাধারণত নিরাপদ, তবে ব্যবহার করার সময় একটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। মাইক্রোওয়েভ কি ক্যানসার ডেকে আনতে পারে (can microwave food cause cancer)? সেই নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।
ডা. শর্মার কথায়, এই প্রশ্নের উত্তর “হ্যাঁ” এবং “না” - দুটোই হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উত্তর ‘না’ (heating food cancer myth)।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, মাইক্রোওয়েভ হল এক ধরনের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন। বায়োলজির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে রেডিয়েশন দুই ধরনের,
১) আয়নাইজিং রেডিয়েশন
এই ধরনের রেডিয়েশনের শক্তি এত বেশি যে এটি পরমাণুকে ভেঙে দিতে পারে। ডিএনএ-তে আঘাত করলে মিউটেশন ঘটতে পারে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে অতিবেগুনি রশ্মি, এক্স-রে, পারমাণবিক বিস্ফোরণের বিকিরণ।
২) নন-আয়নাইজিং রেডিয়েশন
এগুলির শক্তি এত বেশি নয় যে পরমাণু ভাঙতে পারে। দৃশ্যমান আলো এর সেরা উদাহরণ।
ডা. শর্মা জানান, মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশনও নন-আয়নাইজিং এবং দৃশ্যমান আলোর থেকেও কম শক্তিশালী। ফলে এটি ডিএনএ-কে ভেঙে মিউটেশন ঘটাতে পারে না। মাইক্রোওয়েভের কাজ শুধু খাবার গরম করা।
তিনি যুক্তি দেন, যদি গরম করাই ক্যানসারের কারণ হতো, তবে সব রান্নার পদ্ধতিই ঝুঁকিপূর্ণ হত - যা বাস্তবে নয়। তাই মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করা সাধারণভাবে নিরাপদ।
আসল ঝুঁকি কোথায়?
যদিও মাইক্রোওয়েভ নিজে ক্যানসার সৃষ্টি করে না, তবুও ব্যবহার নিয়ে একটি বড় সতর্কতা রয়েছে। রেস্তরাঁ থেকে খাবার এলে অনেক সময় প্লাস্টিক কন্টেনারেই তা মাইক্রোওয়েভে গরম করা হয়। আবার সেই পাত্র পুনর্ব্যবহারও করা হয়।
ডা. শর্মা বলেন - কাঁচ বা সিরামিক পাত্র মাইক্রোওয়েভে নিরাপদ, কারণ এগুলি স্থিতিশীল উপাদান দিয়ে তৈরি। কিন্তু কিছু ধরনের প্লাস্টিক (plastic container use in microwave danger) গরম করলে ভেঙে গিয়ে রাসায়নিক তৈরি করতে পারে। এই রাসায়নিক খাবারের সঙ্গে মিশে শরীরে প্রবেশ করলে সামান্য হলেও ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ঝুঁকি খুব বেশি নয়, তবে শূন্যও নয়।
কী করবেন?
মাইক্রোওয়েভ ওভেন নিয়ে আতঙ্কের বড় কারণ “রেডিয়েশন” শব্দটি। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে দেখতে গেলে, ভুল পাত্রে খাবার গরম করাই আসল ঝুঁকি। সচেতন থাকলেই নিরাপদে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করা সম্ভব।