
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 22 November 2024 19:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হৃদস্পন্দন যাতে স্বাভাবিক থাকে, তার জন্যই শরীরে বসানো হয় পেসমেকার। অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনে মাথা ঝিম ঝিম করা, মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা, হঠাৎ চেতনা হারানো বা পড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। স্বাভাবিকভাবে মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার স্পন্দিত হয়। ব্যায়াম, পরিশ্রম, বিশ্রাম, জ্বর, উদ্বেগসহ নানা কারণে এই হার ওঠানামা করে। তবে যদি স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর হয়ে যায়, তখন রোগীর পেসমকারের প্রয়োজন হয়।
তবে এই ছোট্ট যন্ত্রের কারণে রোগীকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এমআরআইয়ের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পেসমেকার। আর আসল সমস্যা দেখা দেয় বিমান যাত্রা। এই সব সমস্যার সমাধানের জন্য নিয়ে আসা হল কৃত্রিম পেসমেকার। এত দিন পর্যন্ত এর ব্যবহার শুধুই ছিল ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দিল্লিতে। তবে ভারতের কিছু রাজ্যেও এই ব্যবহার হত। এবার তা পূর্ব ভারতে প্রথম ব্যবহার করা হল কলকাতার মনিপাল হাসপাতালে।
শুধুমাত্র এই বেসরকারি হাসপাতাল নয়, কলকাতার আরও একটি বেসরকারি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার গতকাল করেছেন বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট চিকিৎসক দিলীপ কুমার। তাঁর মতে, 'পেসমেকারটি একটি ছোট্ট ক্যাপসুলের মতো। এই সার্জারির জন্য প্রথমে পায়ে একটা ছোট ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। তারপর একটা ক্যাথিটারের ভিতর দিয়ে এটি হার্টের ডান দিকের নিলয় বা ভেন্ট্রিকলে চলে যায়। ফলে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে বললেই চলে।'
তিনি বলেন, 'এই যন্ত্রের আরও একটি সুবিধা হল ব্লুটুথ। এই প্রযুক্তি থাকার ফলে রোগী বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে থাকুন, এটি অ্যাডজাস্ট করা সম্ভব। ফলে যে সব সমস্যা হয় পেসমেকার বসালে, তা হবে না। কারণ এতে কোনও ধাতব তার থাকবে না। এই পেসমেকারের ওজনও খুবই কম, সাধারণ পেসমেকারের থেকে এটি অনেক হালকা।'
তাঁর মতে, ওজন মাত্র ২.৪ গ্রাম। অর্থাৎ সাধারণ পেসমেকারের ওজন প্রায় ২০ গ্রাম। সেখানে এটি কিছুই না। আর এই কৃত্রিম পেসমেকার শরীরে বসাতে সময় লাগে মাত্র ২০ মিনিট। মেয়াদ ২০ থেকে ২৫ বছর। যেখানে সাধারণ পেসমেকারের মেয়াদ থাকে আট থেকে ২০ বছর।'