
স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াবেন কীভাবে, 'স্মার্ট' প্রচারে মণিপাল
শেষ আপডেট: 30 October 2024 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রমশ বাড়ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি। এই রোগের ফাঁদে পড়লে প্রাণ নিয়ে পড়তে পারে টানাটানি। আর প্রাণ যদি বেঁচেও যায়, সেক্ষেত্রে প্যারালিসিস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। স্ট্রোকের মূল লক্ষণ উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগ অনুভূত হওয়া। মানসিক চাপের কারণও হতে পারে স্ট্রোক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোক মস্তিষ্কের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি বছরে সারা বিশ্বে প্রায় ১৫ মিলিয়ান মানুষ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাই স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালিত হয়।
এই দিনটিতেই মণিপাল হাসপাতাল স্ট্রোক সচেতনতা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্পর্কে আরও ভালভাবে জানান দিতে কলকাতা জুড়ে 'বি স্ট্রোক স্মার্ট' প্রচার শুরু করেছে। এটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কগুলির মধ্যে একটি।
হাসপাতালের তরফে ২৯ অক্টোবর একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে মণিপাল হাসপাতালের বিশিষ্ট স্ট্রোক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে রয়েছেন মণিপাল হাসপাতাল নিউরোসার্জন প্রফেসর ডাঃ রবীন্দ্র নারায়ণ ভট্টাচার্য, ডাঃ লক্ষীনারায়ণ ত্রিপাঠী, বিশেষজ্ঞ নিউরোসার্জেন মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল, (মণিপাল হাসপাতালের অন্তর্ভুক্ত), ডাঃ অপ্রতিম চট্টোপাধ্যায়, ইন্টারভেনশনালনিউরোলজিস্ট ও স্ট্রোক বিশেষজ্ঞ, মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর,ডাঃ নির্মাল্য রায়, নিউরো ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজিস্ট মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল,(মণিপাল হাসপাতালের অন্তর্ভুক্ত),ডাঃ দীপেন্দ্র কুমার প্রধান,সিনিয়র কনসালট্যান্ট- নিউরোসার্জারি,মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর এবং ডাঃ অয়নাভদেব গুপ্ত, আঞ্চলিক সিইও, মণিপাল হাসপাতাল (পূর্ব)।
এই বিশেষজ্ঞরা স্ট্রোকের বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই সঙ্গে কীভাবে এর থেকে বাঁচা সম্ভব, তারও পথ দেখিয়েছেন। তাঁদের মতে, মুখ ঝুলে যাওয়া, হাত অবশ হওয়া, কথা বলতে সমস্যা-- এইসব লক্ষণ কমবেশি স্ট্রোকের সঙ্গে যুক্ত। সেই সঙ্গে রক্তচাপ, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা এবং পাল্স রেট খেয়াল রাখতে হবে। মুখের কোনও অঙ্গ বেঁকে যাচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখা প্রয়োজন। নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ এবং ধরন নজরে রাখতে হবে।
এই লক্ষণগুলি রোগীর মধ্যে দেখা মাত্রই সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। স্ট্রোকে ক্ষেত্রে প্রথম এক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর থেকে বেশি দেরি করলেই, তাকে বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে প্রথম ৬০ মিনিটকে 'গোল্ডেন আওয়ার' হিসেবেই ধরছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের আরেকটি মূল কারণ হল মদ্যপান এবং অতিরিক্ত ধূমপান। এতেও স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়ে। ফলে স্ট্রোক থেকে বাঁচতে হলে, এই বদভ্যাস থেকে দূরে থাকতে হবে।