তরকারি হোক, ডাল, মাছ কিংবা চিকেন-মাটন - বাঙালিদের ভাত খাওয়ার শুধু একটা বাহানা চাই।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 November 2025 12:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় বিশেষ করে বাঙালিদেরকে ভাত থেকে আলাদা করা একপ্রকার প্রায় অসম্ভব। যেকোনও তরকারি হোক, ডাল, মাছ কিংবা চিকেন-মাটন - ভাত খাওয়ার শুধু একটা বাহানা চাই। তাহলে যাঁরা মেদ ঝরাতে চান, তাঁরাও কি তাহলে ভাত খাবেন না?
এখানেই প্রশ্ন হচ্ছে, ভাত কি সত্যিই ওজন কমানোর জন্য উপযুক্ত খাবার? নিউট্রিশন কোচ জাস্টিন গিচাবার মতে, শুধু ভাত এই ক্ষেত্রে একদমই ঠিকঠাক চয়েস নয়। তাঁর সাম্প্রতিক ভিডিও (১ নভেম্বর প্রকাশিত) অনুযায়ী, “শুধু ভাত পেটে মেদ জমিয়ে রাখায় বিশেষ ভূমিকা রাখে।”
তার আগে জানতে হবে, ভাত ওজন কমানোর পথে বাধা কেন হয়ে দাঁড়ায়?
জাস্টিন বলেন, “চিকেন আর ভাত - এই কম্বিনেশনটা যতটা নিখুঁত ভাবেন, ততটা নয়। যাঁরা জিম করেন, তাঁদের অনেকেই এই খাবারের কম্বিনেশনে ভরসা রাখেন। কিন্তু ভাতের বদলেই সেখানে যদি অন্য কিছু খাবার যোগ করা হয়, তখন ফ্যাট কমানো অনেক সহজ হয়ে যায় কিন্তু।”
তাঁর কথায়, ভাত আসলে দু'ভাবে শরীরে মেদ বাড়াতে সাহায্য করে - এক, ভাত খুব সহজে হজম হয়। ফলে তাড়াতাড়ি খিদে পেয়ে যায়।
আর এই তাড়াতাড়ি খিদে পাওয়ার কারণেই মানুষ অজান্তে বেশি খেয়ে ফেলেন, যা শেষ পর্যন্ত ওজন বাড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জাস্টিন বলেন, “যেহেতু ভাত হজমে সময় নেয় না, তাই দ্রুত এনার্জি ফুরিয়ে যায় এবং বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি করে।”
তাহলে ভাত খাওয়ার সেরা উপায় কী?
নিউট্রিশন কোচের মতে, যদি আপনি এমন খাবার চান যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখবে, তবে ভাতের যে জিনিসটি একেবারেই নেই, সেটি প্লেটে যোগ করুন - ফাইবার।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, “ফাইবার ধীরে হজম হয়, ফলে খিদেও দেরিতে পায়। পাশাপাশি এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখে, কোলেস্টেরল-ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ - সব কিছুর জন্যই উপকারী।”
তিনি আরও জানান, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যদি ফাইবারযুক্ত খাবার যোগ করা যায়, তাহলে শরীরের ফ্যাট কমানো অনেক সহজ হবে। তাঁর প্রস্তাবিত ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবারের তালিকায় রয়েছে - বিনস, ছোলা, মুসুর ডাল, সবুজ মটর, পালং শাক, ব্রকোলি। চাইলে অ্যাভোকাডোও রাখতে পারেন।
গিচাবা বলেন, “এই তালিকা থেকে কয়েকটা খাবার নিজের ডায়েটে যোগ করুন। এতে ফ্যাট কমানোর প্রক্রিয়া অনেক সহজ হবে। আমি নিজেও মাঝে মাঝে ভাত খাই, কিন্তু স্বীকার করতেই হবে, ভাতের তুলনায় মিষ্টি আলুর মতো খাবার অনেক কম ‘অতিরিক্ত’ খাওয়ার প্রবণতা তৈরি করে।”
শেষে তিনি পরামর্শ দেন, প্রতিদিন ৩০ গ্রাম ফাইবার বা প্রতিমিলে ১০ গ্রাম করে ফাইবার রাখার চেষ্টা করুন। তাঁর কথায়, “বুঝতে পারবেন কতটা দ্রুত ভরপেট লাগে আর কীভাবে ভাত বাদ না দিয়েই সহজে ফ্যাট কমে যায়।”