চিকিৎসকের মতে, এই ছোট ছোট অভ্যাসই উৎসবের মরশুমে হার্ট, লিভার এবং ডাইজেস্টিভ সিস্টেমকে সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

শেষ আপডেট: 21 December 2025 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছরের শেষ আর নতুন বছরের শুরু মানেই উৎসবের মরশুম। পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে একের পর এক পার্টি, রাত জেগে আড্ডা, ভরপেট খাওয়াদাওয়া, মদ্যপান আর নাচ-গান - সব মিলিয়ে আনন্দের রেশে ভেসে যাওয়ার সময়। কিন্তু এই লাগাতার আনন্দই যদি শরীরের উপর হঠাৎ করে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে, তাহলে তার ফল মারাত্মক হতে পারে (Year-end parties health risks)। বিশেষ করে হার্ট, লিভার ও ডাইজেস্টিভ সিস্টেমের উপর বর্ষশেষের এই বেহিসেবি জীবনযাপন গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বিষয়েই সতর্ক করেছেন জয়পুরের সিকে বিড়লা হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের ডিরেক্টর ডা. সুশীল কালরা। তিনি জানিয়েছেন, লাগাতার পার্টি, অতিরিক্ত মদ্যপান, ভারী খাবার, অনিয়মিত ঘুম, শরীরে জলের ঘাটতি এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস মিলিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাকে তিনি ‘হলিডে হেলথ হ্যাংওভার’ বলে বর্ণনা করেছেন।
হার্টের উপর বাড়তি চাপ
বর্ষশেষের উৎসবে অতিরিক্ত মদ্যপান হোক বা লাগামছাড়া খাওয়াদাওয়া, সবই হার্টের উপর চাপ বাড়ায়। ডা. কালরার কথায়, আচমকা এবং কখনও কখনও চরম মাত্রার এই পরিবর্তনগুলি হার্টের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে বিঘ্নিত করতে পারে।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, “হার্টের দিক থেকে দেখলে, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং বেশি নুনযুক্ত খাবার রক্তচাপ বাড়াতে পারে। এর ফলে বুক ধড়ফড় করা, হৃদ্স্পন্দনের অনিয়ম দেখা দিতে পারে। যাঁরা আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে হার্টবিটে ছন্দপতনও ঘটতে পারে।”
বিশেষ করে যাঁদের ওবেসিটি রয়েছে, যাঁরা ধূমপান করেন বা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন, তাঁদের ঝুঁকি আরও বেশি। ডা. কালরা জানান, এই ধরনের মানুষের মধ্যে বাইরে থেকে সুস্থ দেখালেও বুকের অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
লিভারের উপর উৎসবের ধাক্কা
উৎসবের মরশুম মানেই জমকালো ভোজ, অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়া এবং নিয়ম ভেঙে জীবনযাপন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে লিভারের উপর, যে অঙ্গটি শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দেওয়ার অন্যতম প্রধান দায়িত্বে থাকে।
ডা. কালরার কথায়, “অ্যালকোহল ভাঙতে গিয়ে লিভারে ইনফ্লেমেশন বাড়ে। তার সঙ্গে চর্বিযুক্ত ও প্রসেসড খাবার লিভারের উপর বিপাকজনিত অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে।” অনেকেই ভাবেন, কয়েকদিন বেশি খেলে বা মদ্যপান করলে ক্ষতি কী? কিন্তু চিকিৎসকের সতর্কবার্তা, অল্প সময়ের জন্য হলেও অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড ও অ্যালকোহল লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এর ফলে লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া, ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বেড়ে ওঠা এবং হজমের গোলমালের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
ডাইজেস্টিভ সিস্টেমে প্রভাব পড়ে দ্রুত
ডাইজেস্টিভ সিস্টেম কিন্তু জীবনযাপনের পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বর্ষশেষের উৎসবে মানুষ সাধারণত নিয়মের তোয়াক্কা না করে খাওয়াদাওয়া করেন। খাবারের সময় এলোমেলো হয়ে যায়, ফাইবার কমে যায়, বেড়ে যায় মদ্যপান।
এই সব কিছুর সম্মিলিত প্রভাবে পেটে অ্যাসিডিটি, ফাঁপা ভাব, গ্যাস্ট্রিক রিফ্লাক্স, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন ডা. কালরা।
উৎসব কি তাহলে বন্ধ করে দিতে হবে? একদমই তা নয়
প্রশ্ন উঠতেই পারে, তা হলে কি বর্ষশেষের আনন্দে ইতি টানতে হবে? চিকিৎসকের স্পষ্ট উত্তর, একদমই নয়। আনন্দ করা যাবে, তবে সেটা হতে হবে সচেতনভাবে।
ডা. কালরা কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই শরীরকে সুস্থ রাখা যায়,
চিকিৎসকের মতে, এই ছোট ছোট অভ্যাসই উৎসবের মরশুমে হার্ট, লিভার এবং ডাইজেস্টিভ সিস্টেমকে সুস্থ রাখতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।