বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) একটি রিপোর্ট বলছে, PCOS বিশ্বব্যাপী অন্তত ৬-১৩ শতাংশ মহিলার ধরা পড়ে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 15 September 2025 19:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পলিসিস্টিক ওভেরিয়ান ডিজিজ (PCOD)) এমন একটি হরমোনজনিত সমস্যা (hormonal issues), যা প্রজননক্ষম বয়সের বহু মহিলাকে প্রভাবিত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর একটি রিপোর্ট বলছে, পিসিওএস বা PCOS (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম) বিশ্বব্যাপী অন্তত ৬-১৩ শতাংশ মহিলার ধরা পড়ে। কিন্তু প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি, কারণ প্রায় ৭০ শতাংশ এখনও জানেনই না, তাঁদের এই ধরনের কোনও সমস্যা রয়েছে।
সাধারণত অতিরিক্ত ওজন (overweight) পিসিওডির অন্যতম লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। তবে রোগা ছিপছিপে (silm body) চেহারায় বা স্বাভাবিক ওজনের মহিলারও পিসিওডি হতে পারে। একে বলা হয় ‘লিন পিসিওডি’ (lean PCOD), যা এখন একটি স্বীকৃত মেডিক্যাল ভ্যারিয়েশন।
উজাস (আদিত্য বিড়লা এডুকেশন ট্রাস্টের উদ্যোগ)–এর কনসালট্যান্ট গাইনোকোলজিস্ট তেজাল কানওয়ার বলেন, “পিসিওডি সবসময় ওজন বাড়ার সঙ্গে যুক্ত নয়। অনেক রোগা বা স্বাভাবিক ওজনের মহিলা পিসিওডিতে ভুগছেন, কিন্তু স্টিরিওটাইপের কারণে তাঁদের সমস্যা ধরা পড়ে না। ‘আমি তো রোগা, আমার পিসিওডি হবে কেন?’ এই ভুল ধারণা অনেক সময় ফার্টিলিটি প্ল্যানিংয়ে সমস্যা আনে এবং দীর্ঘমেয়াদী মেটাবলিক হেলথের ক্ষতি করে।”
কেন রোগা চেহারাতেও পিসিওডি হয়?
ডাঃ কানওয়ারের মতে, পিসিওডি অতিরিক্ত ওজনের জন্য হয় না, বরং এটি হরমোনাল ও মেটাবলিক ডিজঅর্ডার। জেনেটিক কারণও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। পরিবারে পিসিওডি বা মেটাবলিক সিন্ড্রোমের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
শরীরে ফ্যাট কম হলেও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে, কারণ লিন পিসিওডিতে পেশির ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি কমে যেতে পারে বা ভিসারাল ফ্যাট জমতে পারে।
হাইপারঅ্যান্ড্রোজেনিজম (অতিরিক্ত পুরুষ হরমোন) বা হাইপোথ্যালামাস-পিটুইটারি-ওভারি অ্যাক্সিস–এর ভারসাম্যহীনতাও ওভ্যুলেশনে বাধা আনতে পারে। তাছাড়া পরিবেশগত সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি, মানসিক চাপ ইত্যাদি কারণ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
লিন পিসিওডির উপসর্গ
ওজন না বাড়লেও বেশ কিছু লক্ষণের প্রতি নজর দিতে বলছেন চিকিৎসকরা -
• মিসড বা অনিয়মিত পিরিয়ড। সাইকেল একেবারেই বন্ধ হতে পারে বা ৩৫ দিনের বেশি দীর্ঘ হতে পারে।
• তৈলাক্ত ত্বক ও ব্রন। বিশেষত চোয়ালের চারপাশে ব্রণ।
• হিরসুটিজম অর্থাৎ চিবুক, উপরের ঠোঁট, বুক বা পেটে অতিরিক্ত লোম।
• চুল পাতলা হওয়া বা ঝরে যাওয়া।
• বন্ধ্যাত্বের সমস্যাও বড় লক্ষণ। ওভ্যুলেশন অনিয়মিত হলে প্রেগন্যান্সি আসতে অসুবিধা হয়।
• ত্বকে অনেকটা অংশ জুড়ে কালো দাগ (অ্যাকানথোসিস নিগ্রিকান্স) বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ইঙ্গিত।
কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
রোগা ছিপছিপে চেহারা মানে ওজন কমানোর পরামর্শ এখানে কার্যকর নয়। হরমোন ও মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডাঃ কানওয়ার চারটি উপায় পরামর্শ দিয়েছেন -
নিয়মিত হরমোন ও সাইকেল মনিটরিং – লিপিড প্রোফাইল, থাইরয়েড, ইনসুলিন, অ্যান্ড্রোজেন পরীক্ষা এবং পিরিয়ড সাইকেলের রেকর্ড রাখা দরকার।
লো-গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স, সুষম খাদ্যাভ্যাস – হোল গ্রেইন, ডাল, চিকেন, ফাইবারযুক্ত সবজি ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেছে নিন। কঠোর ডায়েট করে পুষ্টিকর খাবার বাদ দেবেন না।
ব্যায়াম (সপ্তাহে ১৫০-৩০০ মিনিট) – কার্ডিও ও স্ট্রেংথ ট্রেনিং মিলিয়ে এক্সারসাইজ করুন। অতিরিক্ত ব্যায়াম না করাই ভাল।
স্ট্রেস ও ঘুমের যত্ন – যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, মাইন্ডফুলনেস এবং পর্যাপ্ত ঘুম হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বন্ধ্যাত্ব বা ত্বকের সমস্যা গুরুতর হলে গাইনোকোলজিস্ট বা এন্ডোক্রিনোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। শেষে ড. কানওয়ার স্পষ্ট বলেছেন, “পিসিওডি শুধু ওজনের সমস্যা নয়, বরং হরমোন, জেনেটিক্স ও মেটাবলিজমের জটিল সমস্যা।”